অন্ধ জাকির হোসেন

ফল বিক্রি করে চলে সংসার

  তেজগাঁও প্রতিনিধি ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফল বিক্রেতা অন্ধ জাকির হোসেন।
রাজধানীতে ফল বিক্রেতা অন্ধ জাকির হোসেন। ছবি: যুগান্তর

চোখের আলো নেই। মনোজ্ঞান ও ইচ্ছেশক্তি দিয়েই চলছে জীবন যুদ্ধ। চোখে না দেখেও প্রায় ২২ বছর ধরে বিজয় সরণি ফুটওভার ব্রিজের নিচে ও মনিপুরিপাড়া এলাকায় মৌসুমি ফল বিক্রি করে চলছে মো. জাকির হোসেনের সংসার।

জাকির জন্ম থেকেই চোখে কম দেখতেন। চোখের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় গরিব পরিবার চিকিৎসা করাতে পারেনি। প্রায় ২০ বছর আগে চোখের আলো হারিয়ে ফেলেন তিনি।

জাকির বলেন, ‘ছোটবেলায় টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারিনি। আর এখন তো চোখের রগ শুকায়া গেছে। ডাক্তার বলছে এখন আর চোখ ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী।চোখে দেখি না। তবে আল্লাহপাক আমাকে কাজ করার শক্তি দিয়েছেন। ছোট করে হলেও কাজ করে খেতে পারি। কারও কাছে হাত পাততে হয় না। তাই ভালো আছি।’

জাকির হোসেনের শৈশব কেটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার আসাদনগর গ্রামে। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবার ছোট। তার বড় ভাইও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। গরিব পরিবারে জন্ম নেয়ায় স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি তার। অভাবের তাড়নায় ছোট থেকেই কর্মজীবনে জড়িয়ে পড়েন।

১৯৮৭ সালে ১২ বছর বয়সে পরিবারের হাত ধরে ঢাকায় আসেন। পরে ১৫ বছর বয়সে একটি গার্মেন্টে কাজ শুরু করেন তিনি। চোখে কম দেখায় সেখানে বেশিদিন কাজ করতে পারেননি।

পরে মার্কেটের একটি শাড়ির দোকানে কাজ নেন। প্রায় ৬ বছর কাজ করে চোখের সমস্যার কারণে সেখানেও ভালো করতে পারেননি। তাই ১৯৯৭ সাল থেকে ফুটপাতে ও পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি ফল বিক্রি করে আসছেন তিনি।

বিজয় সরণি ফুটওভার ব্রিজের নিচে দিনের অর্ধেক সময় দোকানদারি করেন ও দুপুরের পর থেকে মনিপুরিপাড়া এলাকায় মাথায় ঝুড়ি নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। জাকির বলেন, আমি চোখে না দেখলেও রাস্তাগুলো আমার চেনা।

দেয়াল ধরে ধরে চলাফেরা করি। আর আশপাশের সবাই আমাকে দোকানদারি ও কাজের জন্য সহযোগিতা করেন। জাকির ২০০৩ সালে বিয়ে করেন। তার তিন মেয়ে রয়েছে। এক মেয়ে একেবারে ছোট।

দুই মেয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্ত্রী ও বাচ্চারা গ্রামে বসবাস করেন। জাকির তেজকুনিপাড়ায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে থাকেন। জাকিরের খুব ইচ্ছে ছিল সৌদি আরবে যাওয়ার।

তিনি বলেন, আমার সঙ্গে যারা কাজ করেছেন তারা সবাই বিদেশে গেছেন। আমারও খুব ইচ্ছে ছিল প্রিয় নবীর (সা.) ভূমিতে যাওয়ার। সেখানে কাজ করে জীবিকা চালানোর। টাকা ও চোখের সমস্যার জন্য যাওয়া হল না।

তবে হজ করার ইচ্ছা আছে তার। চোখের আলো নেই, তবুও কর্ম করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে জাকির বলেন, নবীজীর শিক্ষা ভিক্ষা না করা। আমি ভিক্ষা করা পছন্দ করি না। যার চলার ক্ষমতা আছে, কিছু করার ক্ষমতা আছে সে কেন ভিক্ষা করে খাবে? কাজ করে খাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। সমাজে সবার সঙ্গে আনন্দ নিয়ে থাকা যায়।

জাকির বলেন, আমি স্ত্রী-সন্তানকে খুবই ভালোবাসি। আমি তাদের জন্যই এত কষ্ট করি। তিনি আরও বলেন, রাতে ঘুমানোর সময় তাদের কথা খুব মনে পড়ে। মাঝে মধ্যে স্ত্রী-সন্তানের জন্য কান্না করি। আর মনে মনে বলি আমার বাচ্চারা ছোট তাই আমাকে তেমন চিনে না। আমি জানি তারা একদিন আমাকে অনেক ভালোবাসবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×