মুরাদপুর মেডিকেল রোডে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা

  দনিয়া প্রতিনিধি ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুরাদপুর মেডিকেল রোডে বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা

নগরীর পূর্ব জুরাইন মুরাদপুর মেডিকেল রোড। বাসিন্দাদের পয়ঃনিষ্কাশনের ও কলকারখানার ব্যবহৃত কালো, পচা, ময়লা ও দুর্গন্ধময় হাঁটুপানিতে বছরের ১২ মাসই ডুবে থাকে। বৃষ্টি হলে সড়কে কোমর সমান পানি হয়।

এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের এ দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সড়কের পূর্ব জুরাইন ডায়াবেটিক হাসপাতাল থেকে মুরাদপুর আলেক চাঁন বেপারি জামে মসজিদ হয়ে পোকার বাজার সংলগ্ন হাইস্কুল রোড পর্যন্ত মুরাদপুর মেডিকেল ও রজ্জব আলী সর্দার সড়ক।

ডিএসসিসি ৫২ ও ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার অন্তর্ভুক্ত রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের প্রধান ও ব্যস্ততম সড়ক এটি। পাশে রয়েছে মুরাদপুর পোকার বাজার রোড, মাদ্রাসা রোড, হাজী লাল মিয়া সড়ক, হাইস্কুল রোড, নোয়াখালী পট্টিসহ বিভিন্ন গলি। এলাকাটি জনবহুল ও ঘনবসতিপূর্ণ।

বৃষ্টি হলে সড়কের পানির ওপর পয়ঃবর্জ্যসহ ময়লা আবর্জনা ভাসে। এ ময়লা পানি মাড়িয়ে চলতে হয় পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার এলাকার বাসিন্দারা।

সড়কের পাশে ডায়াবেটিক হাসপাতাল, মুরাদপুর সমীরণনেসা উচ্চ বিদ্যালয়, গেটওয়ে মডেল স্কুলসহ ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে বায়তুল মামুর (বেড়া) জামে মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ।

এছাড়াও এ এলাকা থেকে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, একে স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়ক দিয়ে চলাচল করে।

এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই। তারা জুতা, মোজা, কাপড় ভিজিয়ে দুর্গন্ধময় পানি মাড়িয়ে যাওয়া-আসা করে। এতে তারা টাইফয়েড, ডায়রিয়া, আমাশয়, পায়ের মধ্যে ঘা, চর্মরোগসহ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ডুবন্ত খানাখন্দ সড়কে যানবাহন চলাচলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এ পানি সড়ক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। সড়কের দু’পাশের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ও বাসাবাড়ির ভেতরেও এ ময়লা পানি ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধময় পানির গন্ধে বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বিশেষ করে সড়কের দু’পাশে কাপড়ের, মুদি, স্টেশনারি, ওষুধের ফার্মেসি, চালের আড়ত, হোটেল রেস্তোরাঁসহ দু’শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।

মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা রড মিস্ত্রি মহন হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যখন সারা দেশের সড়কে ধুলাবালি থাকে তখন মুরাদপুর মেডিকেল রোড, পোকার বাজার সড়ক, মুরাদপুর হাইস্কুল রোডসহ এ এলাকার অলিগলিতে জলাবদ্ধতা থাকে।

সড়কের পাশের মুন্নি ফার্মেসির মালিক ডাক্তার কামাল ও মুদি দোকান তিসা স্টোরের ব্যবসায়ী মো. খলিল যুগান্তরকে বলেন, জলাবদ্ধতার জন্য দোকানে কাস্টমার আসতে চায় না।

না পারি দোকান ছাড়তে, না পারি রাখতে। দুর্গন্ধময় পানির গন্ধে দম যেন বন্ধ হয়ে যায়। নাকে, মুখে কাপড় দিয়ে দোকানে বসে থাকি। দোকানের পুঁজি ভেঙে খাচ্ছি। দোকান ভাড়া ঠিকমতো দিতে পারছি না।

পূর্ব জুরাইন সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শাহ উল্যাহ যুগান্তরকে বলেন, সড়কটি একদিকে নিচু অপরদিকে সড়কের পাশের ড্রেনগুলো সরু, প্রায় ১৫-২০ বছর পূর্বের। ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপে অধিকাংশ স্থানে ড্রেন চেপে গেছে। ময়লা আবর্জনাতে ড্রেনগুলো ভরে আছে।

মুরাদপুর সমীরণনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস রথি যুগান্তরকে বলেন, সামনে এসএসসি পরীক্ষা স্কুলে না গিয়েও উপায় থাকে না। সামান্য রাস্তা পাড়ি দিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিতে হয়। অনেক সময় রিকশাও পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে জুতা-মোজা ভিজিয়ে স্কুলে যেতে হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।

মুরাদপুর সমীরণনেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) ফরহাদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সড়কের দুর্গন্ধময় পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

ডিএসসিসি ৫২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফারুক হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের পানি নিষ্কাশনের তুলনায় ড্রেনেজগুলো সরু। অনেক স্থানে সরু ড্রেনেজই ময়লায় ভরে আছে। এলাকার পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। ডিএসসিসি ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী নুর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এলাকার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজগুলো সরু। বাসিন্দাদের পয়ঃনিষ্কাশন ও কলকারখানার পানি যেতে না পেরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া নানান প্রতিকূলতার কারণে জিয়া সরণি খালের পানি শিমরাইল পানির পাম্পে যেতে পারছে না। জলাবদ্ধতায় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×