খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট দীর্ঘদিন সংস্কার হচ্ছে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট দীর্ঘদিন সংস্কার হচ্ছে না
খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট। ছবি: যুগান্তর

যাত্রালগ্ন থেকে আজঅবধি ৩০ বছর পেরিয়ে গেলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের সংস্কার করা হয়নি। যদিও প্রতি মাসে ডিএনসিসি এ মার্কেট থেকে লিজ বাবদ ৬ লাখ টাকা আদায় করে।

অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে ধীরে ধীরে অনেক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে গুটিয়ে নিয়েছেন তাদের ব্যবসা। সাড়ে আটশ’ দোকানের ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫০ জন।

ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান বন্ধ করে মাসে মাসে সিটি কর্পোরেশনের ভাড়া প্রদান করছেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ এ মার্কেটের রঙের কাজও করেনি। সিটি কর্পোরেশনের যে ২২ জন সুইপার ছিল তাদেরও পর্যায়ক্রমে উঠিয়ে নেয়া হয়।

এদিকে মার্কেটের বাইরে ভূতের আড্ডা থেকে কেএফসি পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে অবস্থিত চাইনিজ ও ফাস্টফুড দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীদের উচ্ছৃঙ্খলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মার্কেটের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। সিঁড়ির দেয়াল জরাজীর্ণ হয়ে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দোতলার বারান্দার কিছু কিছু অংশের পলেস্তারা খসে পড়ছে।

মার্কেটে প্রবেশ বা বাইর হওয়ার জন্য নেই কোনো নিরাপত্তা গেট। দক্ষিণ পাশের প্রবেশ মুখে খিলগাঁও থানা নিজ দায়িত্বে গেট বানিয়ে তা ব্যবহার করছে। এতে মার্কেটে আসা ক্রেতাদের উত্তর পাশ দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সেখানে নেই কোনো নিরাপত্তা গেট।

এতে রাতের বেলায় বন্ধ অবস্থায় মার্কেটের দোকানগুলোর নিরাপত্তার জন্য রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি। খিলগাঁও তালতলা সিটি সুপার মার্কেট বণিক সমিতির তত্ত্বাবধানে কোনো রকমে টিকে আছে।

প্রতি বছর এ মার্কেটের রঙের কাজ থেকে শুরু করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করে এ সমিতি। সমিতির সভাপতি হুমায়ুন কবির আজাদ যুগান্তরকে বলেন, বহুকষ্টে মার্কেটের ব্যবসাটা ধরে রেখেছি।

৩০ বছরে কর্তৃপক্ষ এখানে কোনো রকম সংস্কারের কাজ করেনি। মার্কেটে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার কোনো গেট নেই। রাতের বেলা বন্ধ অবস্থায় প্রতিটি দোকান থাকে নিরাপত্তাহীন।

নেই কোনো সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়–দার। প্রতি বছর এ মার্কেটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ আমরাই করি। সব মিলিয়ে আমাকে ৩০ জন স্টাফ রাখতে হয়। তাদের খরচ ও মার্কেট রক্ষণাবেক্ষণের খরচের জন্য দোকান মালিকরা খুব কমই অংশগ্রহণ করে।

সামনের খোলা অংশের ফুটপাত থেকে যা আয় হয় তা এই কাজেই ব্যয় করতে হয়। মার্কেটের পেছনে পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে বিশাল অংশ। মার্কেটের সামনে কিছু হকার বসে। প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করলেই এ হকাররা এখান থেকে সরে যাবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আবদুল হাই যুগান্তরকে বলেন, সংস্কারের বিষয়টি দেখভাল করার জন্য প্রকৌশল ও রাজস্ব বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে মার্কেট থেকে বেরিয়ে মালিবাগ বাজারের দিকে যেতে তালতলা রোডের ভূতের আড্ডা রেস্টুরেন্ট থেকে কেএফসি পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে দেখা গেল শত শত মোটরসাইকেল পার্কিং করে রাখা।

এসব মোটরসাইকেলের ওপরে ও পাশের ফুটপাতে জটলা বেঁধে বসে রয়েছে একদল উচ্ছৃঙ্খল তরুণ-তরুণী।

তাদের বেশির ভাগই বহিরাগত।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে যুগান্তরকে বলেন, পরিবারের লোকজনকে নিয়ে এখন আর বিকেলবেলা বের হওয়া যায় না।

অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েরা এমন উদ্ভট সব পোশাক পড়ে মোটরসাইকেলে বসে যেভাবে বেলাল্লাপনা করে, তাতে পরিবারের লোকজনদের সামনে আর মুখ দেখানো যায় না। প্রশাসন, গণপ্রতিনিধি কেউই যেন পারছে না তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওয়াহিদ হাসান মিল্টন বলেন, গুলশান-বনানীর ফাস্টফুড ও চাইনিজ রেস্টুরেন্টগুলোর তুলনায় এ স্থানের রেস্টুরেন্টগুলোর খাদ্য তালিকার মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

ফলে অল্প বয়সী তরুণ-তরুণীরা অন্য এলাকা থেকে এখানে এসে তাদের সময় কাটানোর সুযোগ নেয়। তাদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন খিলগাঁও থানাকে আমি কয়েকবার বলেছি। এমনকি আমি নিজেও পরিবেশ রক্ষা কমিটি নামে একটি আন্দোলন গড়ে তুলেছি। তথাপি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

খিলগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা প্রতিরোধে আমরা সব সময় তৎপর থাকি। তারপরেও জনবল সংকটের কারণে আমরা সার্বক্ষণিক চোখ রাখতে পারি না।

পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়েই এ তরুণরা তাদের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। তাদের কেউই এই এলাকার অধিবাসী নয়। পুলিশ কিছু বলতে গেলে ফেসবুকে লাইভ করে পুলিশের হয়রানি প্রচার করবে বলে উল্টো শাসায়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×