তরুণদের কাজ শেখায় আগ্রহী হতে হবে

  তমা সাহা ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসিন জাহান
হাসিন জাহান। যুগান্তর

পরিশ্রমের হাত ধরেই সাফল্য আসে। কষ্ট করতে হবে, কাজ শিখতে হবে। কাজ শেখার কোনো বিকল্প নেই। কাজ জানলে চাকরি তোমাকে খুঁজে নেবে, তোমার চাকরি খুঁজতে হবে না।

তরুণদের উদ্দেশে একথা বলেন আন্তর্জাতিক এনজিও, প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর’ হাসিন জাহান। ধানমণ্ডিতে তার কার্যালয়ে যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন- পরিশ্রম করে মাঠপর্যায় থেকে কাজ শিখলে নিজেরই উপকার হয়। হাসিন জাহান ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

মা ছিলেন গৃহিণী। বাবা রেডিও বাংলাদেশের চিফ ইঞ্জিনিয়ার। জীবনে বাবা ছিলেন তার রোল মডেল। অনেক কম বয়সে তার বিয়ে হয়। অপেক্ষাকৃত কম বয়সেই তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি তিনি পড়াশোনাও চালিয়ে যান।

ভর্তি হন বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। এরপর ১৯৯৫ সালে হাসিন জাহান জার্মানির লাফবরো ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে ‘ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে এমএসসি করেন।

বুয়েট থেকে পাস করার পর ১৯৯৩ সালে তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরে (এলজিইডি) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এলজিইডিতে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত।

এরপর তিনি বুয়েটের ‘আইটিএন’ নামে একটি প্রকল্পে টেকনোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। এরপর হাসিন জাহান পেশা হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।

যা ছিল চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন। সরাসরি মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করার জন্য ‘ডিপিএইচই’র (ড্যানিডা ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন কম্পোনেন্ট) প্রকল্পের সিনিয়র সোসিও ইকোনমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে যুক্ত হন।

এরপর তিনি এ প্রতিষ্ঠানেই প্রধান সোসিও ইকোনমিক অ্যাডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এ বিষয়ে হাসিন জাহান বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় থাকলে মানুষের কল্যাণে বড় ধরনের কাজ করা সহজ হয়। অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান আমাকে সহায়তা করেছে।

মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, মানুষের কল্যাণে ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান কাজে না লাগালে এর কোনো মূল্য থাকে না। মানুষের চাহিদার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা না ঘটাতে পারলে টেকনোলজি কাজই করে না।

যতই টেকনোলজি নিয়ে কাজ করি, মানুষের সম্পৃক্ততা না থাকলে পরিবেশেরও উন্নয়ন হবে না, টেকনোলজিও সফল হবে না। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওয়াটার এইড বাংলাদেশের ‘প্রোগ্রামস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০১৫ সালের জুন থেকে আন্তর্জাতিক এনজিও প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরাসরি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আমার ভালো লাগে।

তবে তাদের সঙ্গে কাজ করার সময় আমার ইঞ্জিনিয়ারিং জ্ঞান কাজে লাগাই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×