ডিএসসিসি ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড

ধীরগতির উন্নয়নে ভোগান্তি

অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় ঝুঁকি * যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলতে পারে না

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেমরায় ধীরগতির উন্নয়ন কাজে জনদুর্ভোগ বাড়ছে
ডেমরায় ধীরগতির উন্নয়ন কাজে জনদুর্ভোগ বাড়ছেই। ছবি: যুগান্তর

নগরীর ডেমরা থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ধীরগতির উন্নয়ন কাজে জনদুর্ভোগ বাড়ছেই। সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এখানকার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকি।

এছাড়া ওয়ার্ডের সরু রাস্তা ও ঘিঞ্জি পরিবেশে অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন বাসিন্দারা। পাশাপাশি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় রয়েছে। মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছেই।

ডিএসসিসির নবসম্পৃক্ত ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডটি সারুলিয়া, পশ্চিম-দক্ষিণ টেংরা, পূর্ব-পশ্চিম ও মধ্য হাজীনগর, রসুলনগর, গরুরহাট, সারুলিয়া বাজার ও ওয়াসা রোডসহ অন্তত ২০টি পাড়া-মহল্লা নিয়ে গঠিত।

ওয়ার্ডের প্রায় সর্বত্রই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সড়কবাতি স্থাপনসহ রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে ধীরগতিতে। এখানকার প্রায় ২৪ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এখনও ২৫ শতাংশ উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়নি। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দের পর সব রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ চলছে খুবই ধীরগতিতে। ওয়ার্ড এলাকায় স্থাপন করা সড়কবাতিগুলো জ্বলে না। এখানকার অধিকাংশ রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের পরে মাটি-বালু কিছুই ফেলা হচ্ছে না। এতে ওই সব রাস্তায় পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। তাছাড়া আসছে বর্ষার স্থায়ী জলাবদ্ধতার আতঙ্ক তো রয়েছে এলাকাবাসীর।

আরও দেখা গেছে, সারুলিয়া এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের চলমান রাস্তা উন্নয়ন কাজেও ধীরগতি চলছে। গত কয়েকদিন ধরে রাস্তা খোঁড়াসহ উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত ভেকু মেশিনটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এতে রাস্তায় মাটি ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলোভাবে পড়ে আছে।

এতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রাতের বেলায় বয়স্ক ও শিশু রোগীদের হেঁটে অনেক দূর পথ চলতে হয়। এখানে সড়কের উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু পেছনে পড়ে যাচ্ছে বিদ্যুতের বিতরণ লাইনের উন্নয়ন কাজ।

তাছাড়া টেলিফোন লাইনের উন্নয়ন কাজের কোনো হদিসই নেই। নিয়মানুযায়ী সব প্রকার নাগরিক সুবিধার জন্য উন্নয়ন কাজ একটির সঙ্গে অন্যটির সমন্বয় করতে হয়। নতুবা কিছুদিন পরপর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বারবার খোঁড়াখুঁড়ি করতেই হবে।

এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের রাস্তার কাজে নতুন করে খোঁড়াখুঁড়িতে পূর্বে স্থাপন করা বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়তেও দেখা গেছে।

উন্নয়ন হওয়া সড়কের দুই পাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাস্তা থেকে স্থানভেদে অন্তত সাড়ে ৩ ফুট নিচে পড়ে গেছে। মহল্লাভেদে বাড়িঘর ৫ ফুট পর্যন্ত নিচু হয়েছে। এবারের বর্ষায় অল্প বৃষ্টিতে সহজে পানি ঢুকে পড়বে নিচু এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে টেংরা, হাজীনগর, মধ্য হাজীনগর ও রসুলনগর এলাকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বত্রই বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ও বিতরণ লাইনে অব্যবস্থাপনা। এখানকার সরু ও ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেন মরণফাঁদ। বেশির ভাগ ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবনের পাশে রয়েছে ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহের তার।

এতে প্রায়ই বিদ্যুতায়িত হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মানুষ। তাছাড়া স্পার্কিং হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে।

এ ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় অধিবাসীরা যততত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভাগাড় সৃষ্টি করছেন। অতিরিক্ত মশা-মাছির উপদ্রবে এলাকায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত নানা রোগও ছড়িয়ে পড়েছে।

রসুলনগর এলকার বাসিন্দা জসিমউদ্দিন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, নবসৃষ্ট ৬৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বর্তমানে অবর্ণনীয় ভোগান্তি ও কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। আমাদের এখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন শেষ হলেও শুরু হয়নি বালু ও মাটি ফেলাসহ সড়ক ঢালাইয়ের কাজ। তাছাড়া সড়কবাতি জ্বলেই না। কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি না থাকায় এখানে মশার ভয়ংকর যন্ত্রণায় রয়েছেন বাসিন্দারা।

জাকির হোসেন নামে সারুলিয়া এলাকার এক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়া ও ধীরগতিতে উন্নয়ন কাজ চলায় এখানে ভোগান্তি যেন চরম আকার ধারণ করেছে। সারুলিয়ার রাস্তাগুলো সরু ও ঘিঞ্জি।

ডিএসসিসি ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর মাহমুদুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার আগেই এখানে উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। তাই এসব কাজের দেখভাল করছেন সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

তারপরেও আমি এলাকার উন্নয়ন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যোগাযোগ রাখছি। আমি সবেমাত্র নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছি। তবে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে শিক্ষা-সংস্কৃতির মানোন্নয়ন করে একটি আধুনিক মডেল ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ওয়ার্ডের জলাবদ্ধতা, সব অবৈধ দখল মুক্তকরণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সন্ত্রাস-মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে আধুনিক নাগরিক সুবিধা সংবলিত একটি ডিজিটাল ওয়ার্ড গঠন করতেও কাজ শুরু করেছি।

ডিএসসিসির উপসহকারী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৫) সুদেপ কুমার বলেন, দেড় বছর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বড় একটি মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই রাতে ঢালাই চলছে। তাছাড়া সুপরিকল্পিতভাবে বড় যে কোনো উন্নয়ন কাজে সময় লাগবেই। তবে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×