বদলে গেছে লালবাগের হাজী আবদুল আলীম খেলার মাঠ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বদলে গেছে লালবাগের হাজী আবদুল আলীম খেলার মাঠ
লালবাগের হাজী আবদুল আলীম খেলার মাঠ। ছবি: যুগান্তর

বদলে গেছে লালবাগের হাজী আবদুল আলীম খেলার মাঠ। যদিও ময়লার স্তূপ, ধোপাদের কাপড় শুকানোর স্থান, লেগুনা (হিউম্যান হলার) ও রিকশা স্ট্যান্ড বা মাদক সেবনের আখড়া ছিল এ মাঠ। লালবাগের ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সামনে হাজী আবদুল আলীম খেলার মাঠ।

মৃতপ্রায় সেই চেহারা বদলে আধুনিক মাঠ হিসেবে রূপ নিয়েছে হাজী আবদুল আলীম ঈদগাহ মাঠ। চারদিকে সবুজ রঙ্গের বাউন্ডারি, পুরো মাঠে সবুজ ঘাস, আলাদা ক্রিকেট গ্রাউন্ড, মাঠের চারপাশে এলইডি লাইটসহ উন্নত বিশ্বের আদলে এ মাঠ তৈরি করা হয়েছে। যা এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

জানা যায়, ২০১৭ সালে জল সবুজের ঢাকা শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ঢাকার ৩১টি মাঠ আধুনিকায়ন করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় এ মাঠটিকে আধুনিকতার ছোঁয়া দেয়া হয়েছে। প্রায় চার বছর ধরে আধুনিকতার পরশে বদলে দেয়া এ মাঠের ডিজাইন করেছেন স্থপতি রফিকুল আজম।

সরেজমিন দেখা যায়, বালুময় মাঠটি এখন চিরসবুজ ঘাসের আবরণে ঢাকা। আর ঘাসের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বাউন্ডারির রং করা হয়েছে। আধুনিক এলইডি লাইট দিয়ে আলোকিত করা হয়েছে মাঠের চারপাশ। যেখানে হাঁটার জন্য তৈরি করা হয়েছে ওয়াকওয়ে।

এ মাঠে ফুটবল খেলার পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে ক্রিকেট প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। মাঠের কোনাতেই একটি দ্বিতল ভবন। এখানে তৈরি করা হয়েছে গ্রন্থাগার, আছে আধুনিক জিমনেশিয়াম। এ ছাড়াও থাকবে কফি কর্নার। মাঠ ব্যবহারকারীরা ফ্রি ওয়াই-ফাইও ব্যবহার করতে পারবেন।

মাঠের ক্রিকেট গ্রাউন্ড দেখতে আসা স্থানীয় তরুণ আসিফ বলেন, আগে এখানে সেভাবে খেলাধুলা করা যেত না, আশপাশে মাদকসেবীদের আড্ডা ছিল। আর মাঠের মধ্যেই দোকানপাট ছিল, তাই খেলাধুলা করতেও অনেক বাধা ছিল।

কিন্তু আশা করি এখন আর আমাদের ক্রিকেট প্র্যাকটিস করতে সেই বাধা থাকবে না। পোস্তা থেকে হাঁটতে আসা গৃহিণী আফরোজা খানম বলেন, মাঠটির আধুনিকায়ন করা হয়েছে। আমরা বাধা ছাড়াই এখানে হাঁটতে পারি।

এ ছাড়াও মাঠের চারপাশে আলোর ব্যবস্থা থাকায় আমরা দিনে বা রাতে যে কোনো সময় এ মাঠে হাঁটতে নিরাপদ বোধ করি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক যুগান্তরকে বলেন, এ মাসের মধ্যেই এ মাঠ ব্যবহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। খুলে দেয়ার পর মাঠের আশপাশের বাসিন্দাসহ এ এলাকার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এ আধুনিক মাঠ ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি বলেন, ধূমপানমুক্ত এ মাঠটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নির্দিষ্ট পরিচ্ছন্নতাকর্মী, মালী ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। একই সঙ্গে মাঠটিকে দেখভাল করার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী, মসজিদের ইমাম ও আমাকেসহ একটি কমিটি করা হয়েছে।

এ মাঠ আধুনিক করার কাজ শুরু করার পুরনো স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে এ জনপ্রতিনিধি বলেন, এ মাঠটি আধুনিকায়ন করতে গিয়ে আমাকে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। এমনকি রিকশার গ্যারেজ, লেগুনা স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে গিয়ে আমাকে মাঠ দখলদার হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন এলাকাবাসী। আমার বিরুদ্ধে গিয়ে মানববন্ধনও করেছেন।

তবে এখন ভালো লাগে, কারণ মাঠ দেখার পর তারা সবাই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে। প্রসঙ্গত, জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পটি ২০১৬ সালের শেষদিকে হাতে নেয় ডিএসসিসি। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফের ২০১৮ সাল পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এতেও কাজ হয়নি। সর্বশেষ তৃতীয়বারের মতো ২০১৯ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×