যমুনা ফিউচার পার্কে ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার’

দেশীয় পোশাকের আধিপত্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা ফিউচার পার্কে ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার’
যমুনা ফিউচার পার্কের স্বদেশী ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: যুগান্তর

গত ৫ বছর আগেও ঈদে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণে পাঞ্জাবি, ওয়েস্টার্ন শার্ট, মেয়েদের কামিজ, টপস আমদানি হতো। এখন আমদানিনির্ভরতা অনেক কমে গেছে।

দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো পোশাকে বৈচিত্র্য আনায় ও তরুণদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় পোশাকই ঈদ বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে। পোশাকের ডিজাইনে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন।

নিজস্ব স্বকীয়তা ভুলে বেশিরভাগ ফ্যাশন হাউস ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের পোশাক বানাচ্ছে। ঢাকার কয়েকটি বড় শপিংমল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বুধবার সরেজমিন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটা করতে আসা বেশিরভাগ নারী-পুরুষই আড়ং, বাংলার রঙ, নবরূপা, কে ক্রাফট, দেশী দশ, অঞ্জনস, সেইলর, লা-রিভ, ফ্রি ল্যান্ড, ক্যাটস আই, প্লাস পয়েন্ট, ইজি, জেন্টাল পার্ক, এক্সটাসির মতো দেশীয় ফ্যাশন হাউসেই প্রথমে প্রবেশ করছেন। ঈদে নতুন কী পণ্য এসেছে সেগুলোই খুঁজছিলেন।

সব শীর্র্ষ ব্র্যান্ডগুলোই ক্রেতা আকর্ষণে ঈদ কালেকশন বাজারে এনেছে। গরমের কথা মাথায় রেখে পোশাকের ডিজাইনের ক্ষেত্রে সুতি কাপড়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

বাড্ডা থেকে যমুনা ফিউচার পার্কে কেনাকাটা করতে আসা শিক্ষার্থী রাসেল খান বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। এর মানে হল, বাংলাদেশেই ভালো মানের পোশাক তৈরি হয়।

তাই ঈদের পোশাকের ক্ষেত্রে সবার দেশীয় পোশাককে গুরুত্ব দেয়া উচিত। কেননা এখন দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো সুন্দর সুন্দর ডিজাইনের পাঞ্জাবি, শার্ট, জিন্স বানাচ্ছে।

আর বিদেশি পোশাক কিনে বিদেশি কোম্পানিকে লাভবান করার যৌক্তিকতা নেই। আড়ংয়ের সুপারভাইজার মোজাম্মেল হক বলেন, ৫ বছর আগেও ঈদের কেনাকাটা বিদেশি পোশাককে প্রাধান্য দেয়া হতো। পাঞ্জাবি, সালোয়ার কামিজ, এমনকি দেশে ভালো মানের শাড়ি পাওয়া গেলেও ভারতীয় শাড়ির প্রতি ঝোঁক ছিল।

সময় বদলেছে। ক্রেতাদের মধ্যে দেশীয় পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। তবে এর পেছনে ফ্যাশন হাউসগুলোর অবদান আছে। সময়ের সঙ্গে পোশাকের ডিজাইনে পরিবর্তন এনেছে, যা ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি জানান, আড়ংয়ের বেশিরভাগ ঈদ কালেকশন বাজারে এসে গেছে। গরমের কথা মাথায় রেখে সুতি কাপড়ের ওপর পাঞ্জাবির ডিজাইন করা হয়েছে। সব ক্রেতার কথা বিবেচনায় নিয়ে অল্প থেকে ভারি কাজের পাঞ্জাবি আনা হয়েছে।

এছাড়া ওয়াস্টার্ন ডিজাইনের জামা-কাপড়ের জন্য তাগা নামের আড়ংয়ের আরেকটি ব্র্যান্ড রয়েছে। সেখানে ছেলেদের শার্ট, জিন্স, নারীদের টপস, জিন্স রয়েছে।

নিচ তলায় ফ্রি-ল্যান্ড শো-রুমের ইনচার্জ মারুফ শাহরিয়ার বলেন, দেশেই আমরা বিদেশি পোশাকের চেয়ে ভালো মানের মেয়েদের ওয়ান পিস, সেট, প্রিন্টেড লেগিংস, স্ক্র্যাচ ডেনিম বানাচ্ছি।

আগে এগুলো বিদেশি থেকে আমদানি করা হতো। এসব পোশাকে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, এক সময় ফ্রি-ল্যান্ড নিজেরাই বিদেশ থেকে ছেলেদের শার্ট আমদানি করত।

এখন সেটি কমিয়ে দিয়ে নিজেই আধুনিক ডিজাইনের শার্ট বানাচ্ছে। আগামীতে পোশাক আমদানি আরও কমিয়ে আনা হবে।

এদিকে ক্রেতাদের আনন্দ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার’ ক্যাম্পেইন চালু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এ অফারের আওতায় যমুনা ফিউচার পার্কের যে কোনো শোরুম থেকে মাত্র এক হাজার টাকার কেনাকাটা করে যে কেউ পেতে পারেন মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক আইটেমসহ নানা ধরনের পণ্য।

এছাড়া প্রতিটি কেনাকাটার বিপরীতে ক্রেতারা পাচ্ছেন নিশ্চিত উপহার।

যমুনা ফিউচার পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘কোটি টাকার ঈদ উপহার ক্যাম্পেইনে’ অংশগ্রহণ করতে ক্রেতাকে যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে এক হাজার টাকার কেনাকাটা করতে হবে।

এরপর গুগল প্লে স্টোর অথবা অ্যাপ স্টোর থেকে যমুনা ফিউচার পার্ক অ্যাপ ডাউনলোড করে রেজিস্ট্রেশন করুন। পরে কেনাকাটার বিবরণী দিলেই ক্রেতা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিত উপহার পাবেন।

ক্রেতারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে গিফট পেতে পারেন, সে জন্য ওয়েস্ট কোর্ট গিফটের পৃথক বুথ করা হয়েছে।

অ্যাপসে তথ্য দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা তার গিফট বুথ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। কোটি টাকার ঈদ অফার ক্যাম্পেইনের আপডেট তথ্য যমুনা ফিউচার পার্ক ফেসবুক পেজে (www.facebook.com/JFPbangladesh) জানা যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×