ডিএসসিসি ৭২ নম্বর ওয়ার্ড: রাস্তা প্রশস্ত করাই চ্যালেঞ্জ

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ২৬ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসি ৭২ নম্বর ওয়ার্ড: রাস্তা প্রশস্ত করাই চ্যালেঞ্জ
রাজধানীর মাগুরা জাপানি স্কুল গলি। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সরু ও অপ্রশস্ত। এগুলো প্রশস্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ওয়ার্ডে সর্বত্রই যেন ময়লা-অবর্জনার ভাগাড়।

কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে। নেই কোনো পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রয়েছে ঘিঞ্জি পরিবেশ।

এছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন, সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়নসহ নানা সমস্যায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। প্রচুর ধুলাবালি আর মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

ডিএসসিসি ৭২ নম্বর ওয়ার্ডটি হল- মাণ্ডা মৌজার মাণ্ডা খালপাড় থেকে সোনা মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ, গণি মিস্ত্রি রাস্তার পশ্চিম পাশ, গণি মিস্ত্রি রাস্তার পূর্ব পাশ থেকে জেলেপাড়া রাস্তার পশ্চিম পাশ।

ডিএসসিসির ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় অধিবাসীরা নির্বিচারে নিচু জমি, ডোবা-নালা, খাল-বিল, রাস্তার পাশ ও বাড়িঘরের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। পলিথিনেও ময়লা-অবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

এতে মশা-মাছির প্রজনন ক্ষেত্র বাড়ছে। তারপরও এই ওয়ার্ডে মশার ওষুধ দেয়ার ব্যবস্থা করছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ওয়ার্ডে এখনও সড়ক বাতি লাগানো হয়নি। সর্বত্র স্যুয়ারেজ ও সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি।

এদিকে মাণ্ডা ব্রিজ থেকে গ্রিন মডেল টাউন এলাকা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার সড়কে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও বিপজ্জনক। শিগগির ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার না করলে এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা বেড়ে যাবে।

উত্তর মাণ্ডা খাল, জিরানি খাল, দেবধোলাই ও সূতির খালসহ মাণ্ডা এলাকার চারদিকে বয়ে গেছে ৮ কিলোমিটার খাল। এ খালগুলো দখল-দূষণের কবলে বিলীন হতে বসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে শহরের ফেলা পয়োবর্জ্য ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে খালের পানি পচে কালচে দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে গেছে। তাই চারদিকে পানিবাহিত নানা রোগবালাই ছড়িয়ে পড়েছে। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ৬০ ফুট প্রশস্তের খালগুলো অবৈধ দখলের কারণে কোথাও কোথাও সরু নালায় পরিণত হয়েছে।

ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো একেবারেই অপ্রশস্ত। বড় কোনো যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন সড়কগুলো দিয়ে প্রবেশ করতে পারে না। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত আসতে পারে না।

ডিএসসিসি ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁচা, অপ্রশস্ত ও নির্মাণাধীনসহ প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। এর মধ্যে মাণ্ডা ব্রিজ থেকে গ্রিন মডেল টাউনের ভেতর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার প্রধান সড়কটি মোটামুটি প্রশস্ত থাকলেও বাকি সব রাস্তাই সরু ও অপরিকল্পিত।

ওয়ার্ডের মলাইয়ের গলি থেকে আমিন মোহাম্মদ হাউজিং প্রকল্প পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার সড়ক অপ্রশস্ত ও অনুন্নত। এ সড়কে ধীরগতিতে উন্নয়ন চললেও রাস্তা সরু। জামাইয়ের টেকের আধা কিলোমিটার রাস্তা খুবই সরু।

এছাড়াও সোনা মিয়া রোড, জামাইয়ের টেক, সোনা মিয়ার গলি, মধ্যপাড়া ও হিন্দুপাড়াসহ সব রাস্তাই অনুন্নত ও সরু। এতে এখানে দুর্ভোগের শেষ নেই।

৭২ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি কোনো স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতাল না থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সারা বছরই থাকেন চিকিৎসাবঞ্চিত। নাগরিক সুবিধায় এখানে কোনো পার্ক-স্টেডিয়াম, শিশুপার্ক, লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার ও সিনেমা হলসহ কোনো বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠেনি।

কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখানে থাকলেও আজও সরকারি কোনো কলেজ হয়নি। তবে বেসরকারিভাবে একটি কলেজ রয়েছে।

উত্তর মাণ্ডার হিন্দুপাড়া এলাকার অধিবাসী শমরেস যুগান্তরকে বলেন, এই এলাকায় সর্বত্রই নোংরা পরিবেশ থাকায় রোগবালাই লেগেই থাকে। এলাকাবাসী রাস্তা ছেড়ে বাড়িঘর না করায় রাস্তাগুলো খুবই সরু। এই ওয়ার্ডের রাস্তাগুলো প্রশস্ত করা খুবই জরুরি।

মলাইয়ের গলির বাসিন্দা শিকদার আলম যুগান্তরকে বলেন, এলাকায় অবৈধ দখল করা জায়গা উদ্ধার করলে প্রধান সড়কটি ৬০ ফুট প্রশস্ত করা যেত। তাহলে সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হতো। আর অভ্যন্তরীণ রাস্তা প্রশস্ত করার কোনো উপায় আছে কিনা, তা কারও জানা নেই।

ডিএসসিসি ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম যুগান্তরকে বলেন, আমার ওয়ার্ডের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখানে ডাম্পিং স্টেশনসহ আবর্জনা অপসারণ ব্যবস্থা নেই। প্রায় সব এলাকার রাস্তা সরু।

বাসিন্দারা বহুতল ভবনসহ বাড়িঘর নির্মাণের সময় প্রশস্ত করে রাস্তা ছাড়েননি। তাই রাস্তা প্রশস্ত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণ ব্যতীত অভ্যন্তরীণ রাস্তা কিছুতেই প্রশস্ত করা সম্ভব নয়।

আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় রাস্তা প্রশস্ত করতে পারলেই বাকি নাগরিক সুবিধা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। সড়ক বাতির জন্য আবেদন পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি অনুযায়ী মশার ওষুধের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। তবে এ ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের নজরদারি খুবই প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×