ডিএসসিসির ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড: নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দারা

  দনিয়া প্রতিনিধি ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসির ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড: নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত বাসিন্দারা
ডিএসসিসির অন্তর্ভুক্ত হলেও পশ্চিম মোহাম্মদবাগের অনেক জায়গায় এখনও রাস্তা নির্মিত হয়নি। ছবি: যুগান্তর

নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এই ওয়ার্ডে নেই মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, ঈদগাহ মাঠ, কবরস্থান, খেলার মাঠ, শহীদ মিনার ও পর্যাপ্ত সড়ক।

তাছাড়া কাঁচা ও নিচু সড়কে জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, গ্যাস সংকট, বিশুদ্ধ পানির অভাব, নেই সড়কবাতি, সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ধীরগতিসহ চরম দুর্ভোগের মধ্যে বসবাস করছেন এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে নিচু এলাকায় অবস্থিত এ ওয়ার্ড। এক সময় এ এলাকায় ইরি ধান চাষ করা হতো। ২০-২৫ বছর ধরে এ এলাকায় বাড়িঘর গড়ে উঠে। বর্তমানে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

মোহাম্মদবাগ, মেরাজনগর, পূর্ব কদমতলী, চাকদাহ, ঢাকা ম্যাচ, রাজউক ২য় পর্ব, ওয়াসা কলোনি, মুন্সিখোলা তেলকল এলাকাটি সাবেক শ্যামপুর ইউনিয়ন থেকে সিটি কর্পোরেশেনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এখনও নাগরিক সুবিধার আশানুরূপ ছোঁয়া লাগেনি ওয়ার্ড এলাকায়।

ডিএসসিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে এলাকার প্রধান কিছু সড়ক, ড্রেনেজ ও সড়কবাতি স্থাপনের কাজ করা হয়েছে। ঠিকাদারের ধীরগতির কাজে এখনও বহু সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

এতে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে। ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলো উঁচু করার কারণে অলিগলি সড়ক, বহু বাসাবাড়ির নিচতলা ও দোকানপাট নিচু হয়ে গেছে। ওয়ার্ডের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে ডিএনডির শ্যামপুর খাল।

এ খাল অবৈধ দখল ভরাটে সরু হয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ওয়ার্ডে এখনও বহু এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। এতে কেউ নৌকায় আবার কেউ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে।

নামাশ্যামপুর থেকে কদমতলী-মোহাম্মদবাগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কদমতলী ও নামাশ্যামপুর এলাকার বাসিন্দাদের পোস্তগোলা ও কদমতলী যাওয়া আসা করতে শনিরআখড়া ও সাইনবোর্ড ঘুরে যেতে হয়।

ওয়াসার পাশ দিয়ে ৪০ ফুট সরকারি জায়গা রয়েছে। নামাশ্যামপুর রেললাইন থেকে কদমতলী-মোহাম্মদবাগ সড়ক নির্মাণ করা হলে বাসিন্দাদের চলাচলে সুবিধা হবে।

ওয়ার্ডে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকার শিক্ষার্থীরা।

অনেকে আবার দূর-দূরান্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিতে হয় দূরে। এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নাগরিক সুবিধা না থাকায় অনেকে এলাকায় জমি ক্রয় করার পরও বাড়ি নির্মাণ করেনি। ওই সব জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে। আর এ ডোবায় মশার বংশ বিস্তার করছে। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা।

ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও পার্ক না থাকায় শিক্ষার্থীসহ শিশু-কিশোররা রাস্তার অলিগলি, বাড়ির আঙ্গিনা, বাড়ির ছাদে ও একটু খালি জায়গায় খেলাধুলা করে। অনেকে ফেসবুক ও মোবাইলে গেম খেলে ও আড্ডাবাজি করে সময় পার করছে।

ঈদগাহ মাঠ না থাকায় আলাদাভাবে মসজিদে ঈদের নামাজ পড়তে হয়। এতে ঈদের আমেজ থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার মুসলমানরা। ওয়ার্ডের কিছু সড়কে সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও এখনও চালু হয়নি। এতে সন্ধ্যা ঘনাতেই এলাকা হয়ে উঠে অন্ধকারময়।

ফলে চলাচলে বিঘœসহ এলাকায় চুরি, ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় মাদক সেবনকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে এলকাটি পরিণত হয়। কমিউনিটি সেন্টার না থাকার কারণে দূর-দূরান্তে গিয়ে বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার অধিক টাকা ভাড়া দিয়ে বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান করতে হয়।

ওয়ার্ডের পূর্ব মোহাম্মদবাগ, মেরাজনগরসহ বিভিন্ন সড়কে দুই বছর ধরে ডিএসসিসি সড়ক উন্নয়ন, ড্রেনেজ নির্মাণ ও সড়কবাতি স্থাপনের কাজ করছে। অধিকাংশ সড়কে পাইপ স্থাপনের পর ফেলে রাখা হয়েছে। ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এতে এলাকার বাসাবাড়ি পরিবর্তন, দোকানে মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী নিতে পারছে না। এছাড়াও এ ওয়ার্ডে বিগত ১৫ বছর ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাব বিরাজ করছে। রয়েছে চরম গ্যাস সংকট। ওয়াসার পানির ও গ্যাস পাইপগুলো ১০ থেকে ১৫ ফুট নিচু হয়ে গেছে। ওয়াসার পাইপ লিকেজ দিয়ে ড্রেনেজের ময়লা ঢুকে।

যার ফলে ওয়াসার পানি খাওয়া তো দূরের কথা গোসল করা, ওজু করা যাচ্ছে না। গ্যাস পাইপও লিকেজ হয়ে গেছে। পুরনো এ পাইপ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ওয়ার্ডে অসংখ্য মাদক স্পট রয়েছে, নেই পরিকল্পিত সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা।

ডিএসসিসি ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও কদমতলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকাশ কুমার ভৌমিক যুগান্তরকে বলেন, এ ওয়ার্ডটি নিচু ও অবহেলিত। নেই মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।

পানির তীব্র সংকট, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নাবান্নায়ও সমস্যা হচ্ছে। ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জলাবদ্ধতায় অতিষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েছি। এখনও কাজের জন্য কোনো ক্ষমতা পাইনি। মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ করছি যাতে অবহেলিত এ ওয়ার্ডের সমস্যা সমাধানে দৃষ্টি দেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×