ঈদ ঘিরে ফলের বাজারে আগুন, দাম নির্ধারণে নির্বিকার কর্তৃপক্ষ

  কাওসার মাহমুদ ৩০ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদ ঘিরে ফলের বাজারে আগুন, দাম নির্ধারণে নির্বিকার কর্তৃপক্ষ
ফাইল ছবি

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ফলের বাজারে আগুন লেগেছে। এ সময় বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় আমদানি করা ফলের চাহিদা বেশি থাকায় আমদানিকারক ও ফড়িয়া সিন্ডিকেট ক্রেতাদের পকেট কাটতে মরিয়া হয়ে উঠে।

ফলের বাজারে সরকারি কোনো সংস্থার তদারকি না থাকার সুযোগে ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করছে ব্যবসায়ীরা।

রমজানের আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) মাংস ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে পণ্যের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে দিলেও অজ্ঞাত কারণে ফলের দাম নির্ধারণে নির্বিকার সিটি কর্পোরেশন।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ফলের তুলনামূলক দাম কম থাকলেও আমদানিকারকরা বিভিন্ন খোঁড়া যুক্তি দিয়ে দাম বৃদ্ধি করছে। খুচরা বাজারে এর দ্বিগুণ প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ফল বিক্রেতারা।

এছাড়া ফলে কার্বাইড বা কেমিক্যালের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে নির্ণয় করার জন্য হাই পারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (এইচপিএলসি) মেশিনসহ বাজারগুলোতে কোনো আধুনিক যন্ত্র না থাকায় ক্রেতারা রয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে।

এতে উচ্চমূল্যে ফল কিনেও ক্রেতারা খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারছে না। মঙ্গলবার দেশের সর্ববৃহৎ ফলের পাইকারি বাজার বাদামতলী ও ওয়াইজঘাট ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র বলছে, দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি ফল মার্কেট বাদামতলী ওয়াইজ ঘাট এলাকায় প্রায় আড়াই শতাধিক আমদানিকারক ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ব্রাজিলসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ফল আমদানি করে।

আমদানি করা এসব ফল স্থানীয় ফড়িয়া ও পাইকারদের মাধ্যমে বাদামতলী থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। রমজান ও ঈদকে ঘিরে আমদানি করা এসব ফলের বাড়তি চাহিদা থাকার সুবাদে প্রতিদিনই হু হু করে দাম বৃদ্ধি করে দিচ্ছে একটি চক্র।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে কয়েকজন আমদানিকারক। দাম বাড়িয়ে দেয়া এসব ফলের মধ্যে রয়েছে আপেল, মাল্টা, নাগফল, আঙুর ও আনার। আর দেশীয় ফলের মধ্যে রয়েছে আম, লিচু ও তরমুজ।

এসব পণ্য রমজানের আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুচরা ফল বিক্রেতারা। ঈদকে ঘিরে বাজারে রীতিমতো আগুন লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাদামতলী মার্কেটে ফড়িয়ারা হরেক রকম ফল পাইকারদের কাছে বিক্রি করছে। প্রতি কার্টন ১২ কেজি ওজনের মাল্টার দাম ২৮শ’ টাকা, আপেল ১৬ কেজি কার্টনের দাম ৩৮শ’ টাকা, মাঝারি আনার প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, আঙুর ৬ কেজির কার্টন ২৭শ’ টাকা ও দেশীয় ফলের মধ্যে বড় ও মাঝারি মিলিয়ে ১শ’ তরমুজ ৪২ হাজার টাকা ও ছোট লিচু প্রতি হাজারের ঝুড়ি ২৬শ’ টাকা ও বিভিন্ন জাতের আম ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অস্বাভাবিকভাবে ফলের দাম বাড়ার বিষয়ে মনির হোসেন নামে একজন আমদানিকারক যুগান্তরকে বলেন, রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময় লোকসান গুনতে হয়েছে। তাই রমজানের বাজারে ওই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হচ্ছে।

তবে আমদানিকারকদের কাছ থেকে বড় চালানে ফল ক্রয় করে মজুদ করে রাখা হচ্ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করে দিচ্ছে। তাছাড়া বাজারে ফল আমদানির পরিমাণ কম হওয়ার কারণে দাম বাড়ছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।

ফরমালিন সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ বলেন, ফলে ফরমালিন দিলেও তা কার্যকর হয় না। এটা শুধু মাছ মাংসে কার্যকর হয়।

তবে ফল একসঙ্গে পাকানোর জন্য কিছু ব্যবসায়ী ইথোফোন ও কার্বাইড নামের কেমিক্যালগুলো ব্যবহার করে থাকে, যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর বলে জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর ফল আমদানি-রফতানিকারক ও আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি হারুনুর রশিদ যুগান্তরকে বলেন, ফলের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই।

প্রত্যেক আমদানিকারক তাদের চাহিদা অনুযায়ী ফল আমদানি করে থাকে। রমজানে আমদানি কম থাকার কারণে দাম বেশি হচ্ছে। এছাড়া ফড়িয়ারা বিভিন্ন কোল্ডস্টোরে ফল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (ডা.) মো. শরীফ আহমেদ বিএসপি যুগান্তরকে বলেন, আমাদের আঞ্চলিক অফিসগুলোর মাধ্যমে কাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তবে দাম নির্ধারণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো হস্তক্ষেপ করছে না বলে জানান তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×