ডিএসসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ড: থেমে আছে উন্নয়ন কাজ

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ড: থেমে আছে উন্নয়ন কাজ
মঠবাড়ি-সরুলিয়া বাজার রাস্তায় থেমে আছে উন্নয়ন কাজ। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসম্পৃক্ত ১৮ ওয়ার্ডে থেমে আছে সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে শুরু থেকেই ধীর গতিতে চলছে কর্মকাণ্ড।

ঈদুল ফিতরের কারণে লোকবল পর্যায়ক্রমে অনেকটাই কমে গেছে। এদিকে নতুন করে শুরু হওয়া সড়কের উন্নয়ন কাজের কারণে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে।

ঈদের ছুটি কাটিয়ে কবে নাগাদ আবার কাজ শুরু হবে এ বিষয়ে জানেন না সংশ্লিষ্টরা। আসছে বর্ষায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন অধিবাসীরা।

আর নতুন ওয়ার্ডগুলোতে সিটি কর্পোরেশনের সেবা না থাকায় অধিকাংশ ওয়ার্ড এলাকায় এখনও গ্রামের আদলেই বসবাস করছেন বাসিন্দারা।

পাশাপাশি অন্যান্য নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ওই সব এলাকায় থেমে থাকা উন্নয়ন কাজে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

সাবেক শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ এ ৮টি ইউনিয়ন ভেঙে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর এ ১৮টি ওয়ার্ড করা হয়েছে।

নগরীর নতুন ওয়ার্ডগুলো ডিএসসিসির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এখানে চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ।

তবে কাজের ধীর গতির কারণে এখানে নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এছাড়া চলমান উন্নয়নের অধিকাংশ কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় আসছে বর্ষায় এবার দীর্ঘ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

আর অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজের সড়কগুলোতে বড় বড় গর্ত হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে বলে কর্দমাক্ত সড়কে চলা দায় হয়ে পড়ে।

ডিএসসিসি বলছে দনিয়া, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকায় অন্তত ৮০ শতাংশ উন্নয়ন কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সিডিউল অনুযায়ী শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে ডেমরায় এ পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আর মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদে ওয়ার্ড এলাকাভেদে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ওইসব ওয়ার্ড এলাকায় আগামী বছর জুন নাগাদ সব কাজ শেষ হবে।

আরও জানা যায়, প্রতিটি ওয়ার্ড এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ সড়ক উন্নয়ন, সড়ক বাতি স্থাপন ও বিদ্যুতের খুটি অপসারণসহ বরাদ্দ দিয়েছে ডিএসসিসি।

এর মধ্যে ৫৮ থেকে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭৭৩ কোটি টাকা। আর ৬৯ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা।

তবে ওইসব ওয়ার্ডে আগামী বরাদ্দে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (প্রজেক্ট ডিরেক্টর) মো. তানভীর আহম্মেদ।

অধিকাংশ ওয়ার্ড এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। এতে চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। লাখো অধিবাসীদের হেঁটে চলতে হচ্ছে দীর্ঘ পথ। রাস্তা খুঁড়ে মাটি স্তূপ করে রাস্তার ওপরই রাখা হচ্ছে।

ইট, বালুও রাস্তার ওপর। অনেক জায়গায় পাইপ বসানো হয়ে গেলেও সেগুলো আর ভরাট করা হয়নি। কয়েক দিনের বৃষ্টির পর রাস্তাগুলোতে এখন চলাচলের অবস্থা নেই।

তাই কাজের ধীরগতি নিয়ে তাই প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। এদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের দক্ষতার অভাবে যেভাবে কাজের গতি থাকার কথা সেভাবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

সারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সারুলিয়া এলাকার মসজিদ গলি থেকে সারুলিয়া বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ দীর্ঘ সময় গেলেও কাজের তেমন অগ্রগতি নেই।

তাই জনদুর্ভোগ বাড়ছেই। যান চলাচল বন্ধ বলে বয়স্করা পথ চলতে পারছেন না। পার্শ্ববর্তী শুকুরশী এলাকাতেও একইভাবে কাজ চলছে।

উত্তর মাণ্ডা এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল আলম যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই মাণ্ডার অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত। তার ওপর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোতে ধীরগতিতে চলছে সড়ক উন্নয়ন কাজ। এতে জনদুর্ভোগ বাড়ছেই।

ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৫) মিথুন চন্দ্র শীল যুগান্তরকে বলেন, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বড় একটি মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার কাজ অনেকটাই শেষের দিকে।

সারুলিয়া ও শুকুরশীসহ কিছু কিছু এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজ পরে বরাদ্দ দিয়ে শুরু করা হয়েছে। ওই সব এলাকার রাস্তাগুলো সরু বলে পরিবহনে পাইপ পাঠানো যায় না। তাই কাজের দেরি হয়। তারপরও দ্রুত গতিতে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে বড় যে কোনো উন্নয়ন কাজে কিছুটা সময় লাগবেই।

সিডিউল অনুযায়ী ৫৮ থেকে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের দনিয়া, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকায় ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। আর ৬৯ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজ প্রকল্প অনুযায়ী আগামী বছর জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে দ্রুত গতিতে কাজ শেষ করতে মনিটরিং করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×