নগর নিয়ে বিদেশির ভাবনা

বিরিয়ানি আমার খুব পছন্দের খাবার

১৮ বছর ধরে বাংলাদেশে ধর্ম প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার জিয়োভান্নি গার্গানো। তিনি জোয়া নামেও পরিচিত। বর্তমানে তিনি একটি মিশনের দায়িত্বে আছেন। এদেশ তার ভীষণ পছন্দ। তাই এ দেশ ছেড়ে যেতে চান না এ ব্যক্তি। বাংলাদেশকে তার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মনে করেন জিয়োভান্নি গার্গানো। এ দেশের বিরিয়ানি খেতে তিনি খুব পছন্দ করেন। দেশের সঙ্গে তাল মিলানোর জন্য বাংলা ভাষাও শিখেছেন। বাংলাদেশ ও ইতালির নানা বিষয় নিয়ে যুগান্তরের পক্ষ থেকে তার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। সাক্ষাৎকার নেন কন্ট্রিবিউটর -

  খাদিজা আক্তার মুন্নী ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিরিয়ানি আমার খুব পছন্দের খাবার
ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার জিয়োভান্নি গার্গানো। ছবি: যুগান্তর

যুগান্তর : কেমন আছেন আমাদের ঢাকা মহানগরে?

জিয়োভান্নি গার্গানো : অবশ্যই আমি ঢাকাতে খুব ভালো আছি। ১৮ বছর ধরে এ দেশে আছি, তাই এ দেশকে আমি আমার দ্বিতীয় দেশ হিসেবে মনে করি। তা ছাড়া এ দেশে আমার অনেক পরিচিত আছে। এ দেশ আমার নিজের বাড়ির মতো।

যুগান্তর : আপনার দেশের রাজধানী রোমের সঙ্গে ঢাকার কোনো মিল খুঁজে পান?

জিয়োভান্নি গার্গানো : রোম আসলে অনেক পুরনো শহর, ওখানে অনেক পুরুনো ঐতিহ্যবাহী স্থান যেমন অনেক গির্জা আছে। কিন্তু ঢাকাতে ওই রকম পুরনো জিনিস কম আছে।

যুগান্তর : বসবাসে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন কি?

জিয়োভান্নি গার্গানো : প্রথম দিকে আমাদের নিরাপত্তা একটু কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার আমাদের অনেক নিরাপত্তা দিয়েছে। এখন কোনো সমস্যা হয় না।

যুগান্তর : ঢাকা ও রোমের আবহাওয়াগত পার্থক্য আছে কী?

জিয়োভান্নি গার্গানো : ইতালি চার ঋতুর দেশ, আর এ দেশ ছয় ঋতুর। তাই একটু অমিল আছে, তবে ইতালিতে এ দেশের মতো এত গরম নেই।

যুগান্তর : আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে পুলিশ আছেন। তাদের সম্পর্কে একটু বলুন।

জিয়োভান্নি গার্গানো : বাংলাদেশের পুলিশ তো ভালো। আমাদের বড়দিনের অনুষ্ঠানে পুলিশ আসে। তারা আমাদের সাথে খুব ভালো ব্যবহার করে।

যুগান্তর : রাস্তায় চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় কি?

জিয়োভান্নি গার্গানো : রাস্তায় চলাচলে কোনো অসুবিধা হয় না। বাংলাদেশি মানুষ বিদেশিদের দেখলে কথা বলতে চায়, নানা প্রশ্ন করে। যেমন-আপনি কোথা থেকে এসেছেন, আপনার ছেলে-মেয়ে ক’জন, আপনার পরিবার কোথায়। এগুলো আমার খুব ভালো লাগে। এসব প্রশ্ন আমি ভীষণ উপভোগ করি।

যুগান্তর : যানজট নিরসনে আপনার মতামত কী?

জিয়োভান্নি গার্গানো : এ দেশের বাসের চালকরা বদমাস, এরা কাউকে সম্মান দেয় না। সত্যি বলতে সরকারের একার পক্ষে তো যানজট নিরসন সম্ভব নয়, সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে, সবাইকে সবার দায়িত্বটা ঠিকমতো পালন করতে হবে। এ দেশে এত গাড়ি, আমার মনে হয় এ গাড়িগুলো কমাতে পারলে যানজট নিরসন হয়ে যাবে।

যুগান্তর : ইতালিতে চাকরি না করে বাংলাদেশ কেনো বেছে নিলেন?

জিয়োভান্নি গার্গানো : আমি বাংলাদেশে এসেছি একজন ধর্ম প্রচারক হিসেবে। যখন ইতালিতে বাংলাদেশের ধর্ম প্রচারকরা যেতেন। তাদের কথাবার্তা ব্যবহার ও সংস্কৃতি আমার খুব ভালো লাগত। তখন থেকেই বাংলাদেশে আসার জন্য মনস্থির করেছি ও স্বপ্ন পূরণও করেছি।

যুগান্তর : আপনি যে বিভাগটির দায়িত্ব পালন করছেন তা নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

জিয়োভান্নি গার্গানো : আমি বর্তমানে ভালুকাতে নোওলাপুরী কাততুলী মিশনের দায়িত্বে আছি। ওখানে বিভিন্ন জাতের মানুষ বাস করে। আর সব ধর্মের মানুষই আমার স্কুলে পড়াশোনা করে। কিন্তু অনেক খ্রিষ্টান ছেলে আছে যারা ফুচকা বিক্রি করে ও তার আয় দিয়ে রাতের বেলা নেশা করে, আমার ইচ্ছে আছে ওদের জন্য একটি কারিগরি স্কুল নির্মাণ করা। যাতে ওরা কাজ শিখে ভালো হয়ে চলতে পারে।

যুগান্তর : কতদিন বাংলাদেশে আছেন, আর কতদিন থাকতে চান?

জিয়োভান্নি গার্গানো : বাংলাদেশে আমি এসেছি ১৮ বছর হয়ে গেছে। এখন এই দেশে যত দিন থাকতে পারি তত দিনই থাকব। তবে আমার কোনো ইচ্ছে নেই এ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার।

যুগান্তর : ইতালির চিকিৎসাসেবা ও ঢাকার চিকিৎসাসেবার মধ্যে কতটুকু পার্থক্য খুঁজে পান?

জিয়োভান্নি গার্গানো : ইতালিতে চিকিৎসা করালে টাকা খুবই কম লাগে ও বিনামূল্যেও চিকিৎসা করানো যায়। কিন্তু বাংলাদেশে যার টাকা আছে সেই ভালো চিকিৎসা পায়। আর যার টাকা নেই তার জন্য ভালো চিকিৎসা হয় না।

যুগান্তর : ঢাকায় আপনি পরিবার নিয়ে থাকেন, ইতালিতে যান কি?

জিয়োভান্নি গার্গানো : আমার পরিবারের সবাই ইতালিতেই থাকে। আমি প্রতি তিন বছর পর গিয়ে তিন মাস থাকি।

যুগান্তর : যুগান্তরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

জিয়োভান্নি গার্গানো : যুগান্তরকেও ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×