ফেসবুকে ৪শ’ বছরের ঢাকা

  আল ফাতাহ মামুন ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আহসান মঞ্জিলের একটি দুর্লভ ছবি ‘ঢাকা-৪০০ ইয়ারস হিস্ট্রি ইন ফটোগ্রাফস’-এ শেয়ার করেন লেখক ও গবেষক সিদ্দিক মাহমুদ। সংগ্রহে থাকা ছবিটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন- ‘১৯০৬ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে অনুষ্ঠিত ভারতীয় মুসলিম লীগের সম্মেলনে উপস্থিত দলের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।’ মুসলিম লীগের শীর্ষ ব্যক্তিরা ছাড়াও নবাব পরিবারের অনেক সদস্যকে দেখা যায় দুর্লভ এ ছবিতে। গ্রুপের সদস্যদের অনেকে এ ছবির জন্য ধন্যবাদ জানান। কেউ কেউ স্মৃতিকাতরও হয়ে পড়েন। ওয়াজেদ আলী খান পন্নি নামে একজন মন্তব্যে লিখেন, এ সভায় আমার প্রিয় দাদাও উপস্থিত ছিলেন। পোস্টদাতা লেখক ও গবেষক সিদ্দিক মাহমুদ উত্তরে বলেন, আমি আপনার দাদা খান পন্নি ও আপনাদের পারিবারিক ঐতিহ্য সম্পর্কে জেনেছি। রিনা আফরিন লেখেন, ঐতিহাসিক দুর্লভ ছবিগুলো সংগ্রহ করে সবার দেখার সুযোগ করে দিলে খুব ভালো হতো।

নিজ হাতে আঁকা হাতিরপুলের ছবি শেয়ার করে আহসানুল হক কচি লিখেছেন, যারা ঢাকার হাতিরপুল দেখেননি, তাদের জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। ১৯৭৩ বা ’৭৪ সালের কোনো এক সময়ে তেজগাঁও, হাতিরপুল, নীলক্ষেত, বাবুপুরা, পলাশী, ফুলবাড়িয়া, টিকাটুলী হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রেল লাইন তুলে ফেলা হয়। ছবিতে যে হলুদ দালানগুলো আঁকা আছে তাকে আমরা মোতালেব কলোনি হিসেবে জানতাম। কালো রঙের বস্তুগুলো পাথরি কয়লা। এখানেই ছিল ঢাকার একমাত্র স্টিম পাওয়ার হাউস।’

গ্রুপের সদস্য কাজী আখতারউদ্দিন মন্তব্যে জানান, স্বাধীনতার আগে যারা ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে যাতায়াত করতেন, তাদের আছে সেই অভিজ্ঞতা। ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকে গ্রিন অ্যারো ট্রেনে কতবার কুমিল্লা গেছি; সবুজ ট্রেন আর উল্কা ছিল লাল রঙের। ফুলবাড়িয়া থেকে বের হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং আর ইডেন কলেজের পেছন দিয়ে হাতিরপুলের ভেতর দিয়ে ঝমঝম করে ট্রেন যেত। আমরা রেস্টুরেন্ট কারে বসতে পছন্দ করতাম, কাটলেট আর বাটার টোস্ট ছিল উপাদেয় মেনু। খুবই সস্তা। কী অপরূপ স্মৃতিময় সেই দিনগুলো।

এমনটা যে শুধু আহসান মঞ্জিল কিংবা হাতিরপুলের পোস্টের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তা কিন্তু নয়। এ পেজের প্রায় পোস্টের ক্ষেত্রেই এমনটি হয়ে থাকে। এতে গবেষকরা চাইলে এখান থেকে অনেক ইতিহাসের উপাদান সংগ্রহ করতে পারেন।

‘ঢাকা-৪০০ ইয়ারস হিস্ট্রি ইন ফটোগ্রাফস’ শুরু হয়েছিল এসরার আহমেদের চিন্তা থেকে। ২০০৮ সালে ধানমণ্ডি সরকারি বালক বিদ্যালয়ের সহপাঠীদের পুনর্মিলন নিয়ে একটি ফেসবুক পেজ খোলেন তিনি। আর সেই বছরই রাজধানী হিসেবে চারশ’ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছিল ঢাকা। তখন তার মাথায় আসে পুরনো ছবির মধ্যে দিয়ে ঢাকার ইতিহাস খোঁজার চেষ্টা হিসেবে একটা ফেসবুক পেজ করলে কেমন হয়? প্রথম দিকে নিজের পরিবারের সদস্যদের সংগ্রহ করা ঢাকার পুরনো ছবি দিয়েই তিনি শুরু করেন। এরপর গ্রুপের অন্য সদস্যরাও নিজের ব্যক্তিগত সংগ্রহের ছবি পোস্ট দেয়া শুরু করেন। এভাবেই একটু একটু করে জমে উঠে পেজটি।

এ গ্রুপে শেয়ার করা ছবির বেশির ভাগই আলোকচিত্র। আর এগুলো ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে আসে বলে বেশির ভাগই অনেকের কাছে অদেখা মনে হয়। আর এটাই এ গ্রুপটিকে ঢাকা বিষয়ক অন্য গ্রুপ থেকে আলাদা করেছে। পাশাপাশি এ গ্রুপের সদস্যরা নির্ভুল তথ্য দেয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন।

দিন দিন পেজটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০১৬ সালে যেখানে এটির সদস্য ছিল ২৫ হাজারের মতো, সেখানে ২০১৯ সালের এপ্রিলে এসে সদস্য সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। ছবির সংখ্যাও চল্লিশ হাজার ছাড়িয়েছে। ছবির পাশাপাশি এ পেজে এখন ভিডিও চিত্রও দেয়া হচ্ছে। সেসব অবশ্যই ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংক্রান্ত। কখনও কখনও বিভিন্ন উৎসব, জাতীয় দিবস সংক্রান্ত পুরনো ছবিও স্থান পেয়ে থাকে এ পেজে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×