নগরায়নে বিলীনপ্রায় মেরাদিয়া হাট

  একেএম সীমান্ত ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরায়নে বিলীনপ্রায় মেরাদিয়া হাট

দালানকোঠার ভিড়ে বিলীন হতে চলেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মেরাদিয়া হাট। এ হাটের ১ দশমিক ১৫ একর আয়তনের জায়গার মধ্যে মাত্র ৫৪ শতাংশই অবশিষ্ট রয়েছে। এ জায়গায় এখনও হাট বসে।

এলাকার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন হাটটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে তিনি তা পেরে উঠছেন না।

একান্ত না পেরে হাটের জমি উদ্ধারে শেষপর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ হোসেন মহসীন।

জানা যায়, মেরাদিয়া হাট মাকসুদ হোসেন মহসীনের পূর্বপুরুষদের দান করা জমিতে গড়ে ওঠে।

তবে সুদীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায় হাটের বিস্তৃতি নিয়ে কোনোরূপ সমস্যা না হলেও ২০০১ সালে স্থানীয় যুবদলের কিছু নেতা হাটের জমি রেকর্ডভুক্ত করে নেয়। তারা হাটের প্রায় ৭১ শতাংশ জমি বিক্রি করে দেয়।

২০১৫ সালে মাকসুদ হোসেন মহসিন বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে তিনি নিজ উদ্যোগে হাটের দখল করা জমি পুনরুদ্ধারে সক্রিয় হন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার দোকানি নানা ধরনের পণ্য নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন বুধবারের এ হাটে। মাছ, তরকারি, শুঁটকি থেকে শুরু করে, প্রসাধনী, জামা, জুতো, মিষ্টি, বাতাসা সবই পাওয়া যায় এখানে।

গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও রয়েছে এ হাটে। চুড়ি, ফিতা, লিপস্টিক বা কানের দুল এগুলোও পাওয়া যায় এই হাটে।

তবে হাটের জায়গায় উঁচু দালানকোঠায় ভরে যাওয়ায় ভবনগুলোর নিচে চলাচলের রাস্তাজুড়ে দোকান সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

এমনই একজন ইদ্রিস ৪০ বছর ধরে নিয়মিত দোকান নিয়ে বসেন এ হাটে। তিনি প্রথম এসেছেন তার বাবার হাত ধরে।

ইদ্রিস বলেন, ‘এখানে আমার দাদা, দাদার বাপ সবাই দোকান চালাইছে। আগে এ হাটে অনেক জায়গা ছিল। এখন বিল্ডিংয়ের ভিড়ে দোকান বসিয়ে খুব বেশি আরাম পাওয়া যায় না। তবুও বাপ-দাদার পেশা ধরে আছি।’

মনির নামে এক ক্রেতা বলেন, মেরাদিয়ার হাট একটা ঐতিহ্যবাহী হাট। নগরায়নের চাপে এ হাটের শ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। আমার বাবা-চাচারাও এই হাট থেকে পান মসলা কিনতেন। আমিও আসি।

বনশ্রীতে বসবাসকারী শারমিন বলেন, সপ্তাহের এই দিনটি ছাড়া অন্য দিনগুলোকে ইটপাথরের খাঁচা মনে হয়। কিন্তু হাটের দিন বুধবার এখানে গ্রামবাংলা থেকে আসা নানা ধরনের মানুষ আসে তাদের পসার নিয়ে।

আমি প্রতি বুধবারেই এখান থেকে কিছু না কিছু কিনতে আসি। কেননা এখানে যা পাওয়া যায় তা খুবই ভালোমানের। পাশাপাশি শহরের বাইরের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে মিশতে পারার একটা সুযোগ হয়।

এই ভালোলাগা থেকেই এ হাটের প্রতি আমার আগ্রহ। তবে হাটের জায়গায় এ ভবনগুলো করা ঠিক হয়নি। নাহলে হাটকে হাটের মতোই লাগত।

হাটের জায়গায় ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে হাউজিং কোম্পানির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আমরা রেকর্ডভুক্ত নিশ্চিত হয়েই জমি কিনে কোটি টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণ করেছি।

রেকর্ডে হাটের অন্তর্ভুক্ত থাকলে আমরা কি আর ওই জমি কিনতাম? হাটের শ্রী নষ্ট যদি বলেন তা হয়েছে যারা দুর্নীতি করে হাটের জমিকে নিজ নামে রেকর্ড করিয়েছে- তাদের জন্য।

তবে যেহেতু বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে আছে তাই এ বিষয়ে এখনও কিছু বলার সময় আসেনি। বিচারক সবদিক বিবেচনা করে রায় দেবেন। কোটি টাকা ক্ষতি হলেও আদালত যদি ভবন সরিয়ে নিতে বলে, আমরা সেটাও করতে প্রস্তুত।

ডিএসসিসি ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ হোসেন মহসীন যুগান্তরকে বলেন, এই হাটের জমি আমার বাপ-দাদারা দান করেছিলেন।

এ জমি যুবদলের লোকজন তাদের নিজ নামে দুর্নীতি করে রেকর্ড করিয়ে হাউজিং কোম্পানির কাছে প্লট আকারে বিক্রি করে দেয়। ওই সময় আমি রাজনীতিতে বেশ চাপের মুখে থাকায় দখলদারদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারিনি।

তবে বর্তমানে হাটের জমি উদ্ধার করার লক্ষ্যে হাউজিং কোম্পানির সাথে বিভিন্নভাবে দেনদরবার চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। বিষয়টি আদালতে ঝুলে আছে।

আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া এ হাটের জমি পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব। কেননা হাটের জমিতে ইতিমধ্যে অনেক বড় বড় দালান তৈরি হয়েছে।

আদালত যদি হাটের পক্ষেও রায় দেন, তবুও ওই ভবনগুলো সরিয়ে নেয়া খুব একটা সহজ হবে না। তাই আপনাদের মাধ্যমে আমি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাটের শ্রী ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×