ডেমরায় দখলমুক্ত হচ্ছে না খাল

বর্ষায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা * পুনরায় খনন জরুরি

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেমরায় দখলমুক্ত হচ্ছে না খাল
ডেমরায় দখলমুক্ত হচ্ছে শতাধিক খাল। ছবি: যুগান্তর

ডেমরা থানা এলাকায় দখলমুক্ত হচ্ছে না ডিএনডির (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খালগুলো। এছাড়াও সংস্কার ও খননের অভাবে তলদেশ ভরাট হয়ে গভীরতা কমে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ওইসব খাল।

আর অধিবাসীদের ফেলা গৃহস্থালির ময়লা-আবর্জনাসহ কচুরিপানা ও ঘাস গুল্মলতায় খাল ভরাট হয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ।

এতে আসন্ন বর্ষায় ডেমরার অধিকাংশ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। আর জরুরি ভিত্তিতে খালগুলো পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

জানা যায়, নগরীর ডেমরা থানার ডিএনডির অভ্যন্তর এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসম্পৃক্ত ৬৪ ও ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকাসহ ৬৬, ৬৭ ও ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা নিয়ে গঠিত। তবে ৬৬ ও ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডটি সম্পূর্ণ ডিএনডির অভ্যন্তরে পড়েছে।

এলাকাগুলো বর্তমানে ডিএসসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন। অব্যাহত দখল আর সংস্কারের অভাবে ডিএনডির অভ্যন্তরে প্রবহমান প্রায় ১৫ কিলোমিটার ৬০ ফুট প্রশস্ত পানি নিষ্কাশন খাল এখন অস্তিত্ব সংকটে। খালের দু’পাশে অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট, বাড়িঘর, হোটেল, হাসপাতাল, স্কুল, কলকারখানা, টঙ দোকানসহ নানা স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা।

কিছু অসাধু প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এসব দখলযজ্ঞ চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা নজরদারিতে এ ক্ষেত্রে বার্ষিক ও মাসিক ভাড়ার চুক্তিভিত্তিক বাণিজ্যে মেতেছেন ওইসব অসাধুরা।

তাছাড়া নিজেদের সুবিধার্থে খালের অনেক জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন বর্ষায় মারাত্মক জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে ডিএনডি এলাকার অন্তত ৮ লাখ বাসিন্দা।

তাছাড়া ডিএনডির অভ্যন্তরে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো ঘরবাড়ি ঘর থেকে উঁচু হওয়ায় ভয় আরও বেড়েছে। জানা যায়, ডেমরায় কয়েক বছর ধরেই ডিএনডির অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খালগুলো অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে গেছে।

সরকারদলীয় ও অন্যান্য প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় কয়েক শতাধিক দখলদার খাল দখল করে রেখেছে। আর অধিবাসীদের ফেলা পলিথিন, ময়লা আবর্জনায় খালগুলো ভরাট হয়ে নষ্ট হয়েছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। খালের পাড়ে যত্রতত্র চোখে পড়ে ময়লার স্তূপ ও ভাগাড়।

তাছাড়া ডেমরা ও আশপাশের এলাকায় কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন নেই। নেই পর্যাপ্ত সরকারি পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাই পানি নিষ্কাশন খালগুলোকেই বাসিন্দারা ময়লার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাছাড়া এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলোর কাঁচামালের উচ্ছিষ্ট খালে ফেলা হচ্ছে।

ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানের উচ্ছিষ্ট মালামালসহ বাড়তি আবর্জনাও একইভাবে খালে ফেলতে দেখা যায়। তবে কর্তৃপক্ষ অনেক সময় খালগুলো পরিষ্কার করলেও সেই ময়লা পাড়েই রাখা হয়। পরে বৃষ্টির পানিতে ওই ময়লা-আবর্জনা খালে পড়ে। এতে বহু নালা-নর্দমা খাল ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে।

ডেমরা থানা এলাকায় ১৫ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল অবৈধ দখলে চলে গিয়ে কোথাও কোথাও ৭ থেকে ৮ ফুট নালায় পরিণত হয়েছে।

ডেমরার কোনাপাড়া থেকে বাঁশেরপুল হয়ে বামৈল মাম পাওয়ার পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার খাল অপ্রশস্ত ও অবৈধ দখলে।

বামৈল মাম পাওয়ার থেকে পূর্ব হাজীনগর হয়ে গলা কাটা পুলসংলগ্ন হয়ে নিমাইকাশারি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকা থেকে বড়ভাঙ্গা হয়ে ডগাইর দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার, বামৈল থেকে নয়াকাটা হয়ে পশ্চিম সানারপাড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার, পূর্ববক্সনগর বকুলতলা থেকে আমতলা ওরিয়েন্টাল স্কুলসংলগ্ন সংযোগ খালটি উত্তর সানারপাড় পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ও মাতুয়াইল ইউনিয়নের আংশিক খাল মিলে প্রায় ১৫ কিলোমিটার খালের অধিকাংশই অবৈধ দখলে সরু হয়ে গেছে।

এ ছাড়াও বামৈল এলাকায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে খাল। উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম ডগাইর এলাকাতেও একই অবস্থা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, নতুন করে উন্নয়ন হওয়ায় আগের নির্মাণ করা হাজারও বাড়িঘর অভ্যন্তরীণ এলাকার মূল রাস্তা থেকে নিচে পড়ে গেছে। আর বাড়ির ড্রেনেজ পাইপগুলো সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। এতে আসন্ন বর্ষায় সমস্যা আরও বাড়বে।

হাজীনগর রসুলনগর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার মো. জসিমউদ্দিন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ডিএনডির অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খালগুলো অবৈধ দখলের কারণে সরু নালায় পরিণত হয়েছে। তাই বর্ষাকালে ভুক্তভোগীরা অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে পড়েন। সমস্যা সমাধানে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ডিএসসিসির ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরউদ্দিন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, আমার ওয়ার্ড এলাকায় বামৈল থেকে ডগাইর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ও ডগাইর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার পানি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। যার অধিকাংশই অবৈধ দখলে রয়েছে।

এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও খননের অভাবে অস্তিত্ব হারাচ্ছে খালগুলো। তবে দেড় মাস আগে সেনাবাহিনী খালের ময়লা পরিষ্কার করলেও এখনও খনন কাজ করেনি। স্বাভাবিক পানি প্রবাহে অন্তত ৮ ফুট গভীর করে খনন প্রয়োজন।

বাসিন্দাদের ফেলা আবর্জনায় খালগুলোর তলা ভরাট হয়ে এলাকার জমি লেভেল হয়ে গেছে। দ্রুত খনন না করলে এবারের বর্ষায় উত্তর ডগাইর, উত্তর বামৈল, সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাবে।

ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) মো. সামসুল হক যুগান্তরকে বলেন, ডিএনডির বড় খালগুলো বর্তমানে সেনাবাহিনী দেখছে। সময়মতো ছোট ছোট খালগুলো বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে।

প্রকল্পের আওতায় এলেই অভ্যন্তরীণ খালগুলোকে দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হবে। তখন খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×