ডিএসসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ড

মশার ভয়াবহ উপদ্রব

মশক নিধনে উদ্যোগ নেই বাড়ছে প্রজনন ক্ষেত্র দুর্ভোগ চরমে

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মশক নিধনে উদ্যোগ নেই বাড়ছে প্রজনন ক্ষেত্র দুর্ভোগ চরমে
নগরীর ডেমরায় ডিএসসিসির ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশন খালে মশার প্রজনন ক্ষেত্র। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসির) নবসম্পৃক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে মশক নিধনে কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। এখনও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। ফলে ক্রমেই বাড়ছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র।

নতুন ওয়ার্ডগুলোতে দিন দিন মশার ভয়াবহ উপদ্রব বাড়ছে বলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কিন্তু মশা নিধনে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

আর এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক অন্যান্য সেবা না থাকায় এখনও অধিকাংশ ওয়ার্ডে গ্রামের আদলেই বসবাস করছেন এখানকার বাসিন্দারা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ- এ ৮টি ইউনিয়ন ভেঙে ৫৮ থেকে ৭৫ নম্বর এই ১৮টি ওয়ার্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে ৫৮ থেকে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছেন অন্তত ১৭ লাখ অধিবাসী। আর ৬৯ থেকে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী সাড়ে ৫ লাখ।

নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সূত্রে জানা যায়, নগরীতে প্রতি বছর মশক নিধনে ওষুধ বরাদ্দ দিলেও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত কোনো প্রকার বরাদ্দ আসেনি। এছাড়া প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা হয়নি।

ওয়ার্ডভিত্তিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীও নিয়োগ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে এলাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন অধিবাসীরা। সুযোগ পেয়ে এলাকার ডোবা-নালা ও খাল-বিলে নির্বিচারে ময়লা ফেলছেন বাসিন্দারা। এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মশার প্রজনন ক্ষেত্র। সেই সঙ্গে বাড়ছে মশার ভয়াবহ উপদ্রব।

এদিকে নির্বাচিত হওয়ার ৩ মাসের বেশি সময় পার হলেও নতুন কাউন্সিলরদের গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে নতুন কাউন্সিলররা বর্তমানে জন্ম-মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দিতে পারেন।

কিন্তু মশক নিধন কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো না করতে পারায় তারা এলাকায় রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের অধিকাংশতেই কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। তাই এলাকায় যত্রতত্র, খাল-বিল ও ডোবা-নালায় গৃহস্থালির আবর্জনাসহ শিল্প-কারখানার বর্জ্য ফেলছেন অধিবাসীরা।

আর প্রজনন ক্ষেত্র বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনে দিনে মশার উপদ্রব অতিমাত্রায় বেড়েই চলেছে। তবে শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া এলাকার ওয়ার্ডগুলোতে (৫৮ থেকে ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড) বেসরকারিভাবে কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করা হলেও ডেমরা, মাণ্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ (৬৯ থেকে ৭৫) ওয়ার্ডে কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেনি।

এখানে ময়লা-আবর্জনা নির্বিচারে খাল, ডোবা-নালায় ফেলা হচ্ছে। এসব এলাকায় এখনও প্রকৃত নগরায়ন হয়নি। এখনও প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিচ্ছবি ফুটে ৬৯, ৭০ (ডেমরা) ও ৭৫ নম্বর (নাসিরাবাদ) ওয়ার্ডে।

৭৩ নম্বর (দক্ষিণগাঁও) ও ৭১, ৭২ নম্বর (মাণ্ডা) ওয়ার্ডের বেশিরভাগ অংশও গ্রাম মনে হয়। এসব অঞ্চলে মশার উপদ্রব বেড়েছে কয়েকগুণ। সরেজমিন দেখা গেছে, নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে মশার বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকার সর্বত্রই দাবড়ে বেড়াচ্ছে মশার দল। মশককুল যেন তাদের রাজত্ব কায়েম করেছে। কিছুতেই বশ করা করা যাচ্ছে না। দিনে-রাতে অকপটে মানুষের শরীরে হুল ফুটাচ্ছে। স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থলসহ সব জায়গা মশার দখলে।

বিষয়টি মোটেও সুখকর নয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। মানুষ এখন মশার কাছে জিম্মি। আর মশা নিয়ে তারা সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকেই দায়ী করেন। পাশাপাশি অসচেতন বাসিন্দাদেরও দায়ী করছেন অভিজ্ঞমহল।

অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মে অনেকের বাড়ির আশপাশে অহরহ মশার প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের দৃষ্টির অভাব বলেও অভিযোগ উঠেছে। অথচ মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংসের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

অভিজ্ঞ মহলের অভিযোগ, মশার অতিরিক্ত প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়ায় নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের চারদিকে মশাবাহিত রোগ ছড়াচ্ছে । আর মশার কামড়ে মানুষ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, ফাইলেরিয়াসহ মশাবাহিত নানা রোগে সংক্রমিত হচ্ছে।

অতিরিক্ত মশা নিধন করা না গেলে মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়ে গর্ভবতী মা ও শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এদিকে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির ৭২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল আলম শামীম যুগান্তরকে বলেন, আমার ওয়ার্ডসহ আশপাশের ওয়ার্ডগুলোতে কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এখনও মশা নিধনে কোনো ওষুধ, ফগার মেশিন ও লোকবল দেয়া হয়নি। তাই প্রতিনিয়ত নতুন ওয়ার্ডগুলোতে মশা বাড়ছেই।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) মো. সামসুল হক যুগান্তরকে বলেন, ডিএসসিসির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে এখনও মশা নিধনে বরাদ্দ আসেনি।

তবে দ্রুতই বরাদ্দ চলে আসবে। ইতিমধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক কিছু লোক নিয়োগ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ওয়ার্ডভিত্তিক মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×