গুলিস্তান পার্ক: সংস্কার কাজে অব্যবস্থাপনা

নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয়

  একেএম সীমান্ত ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গুলিস্তান পার্ক: সংস্কার কাজে অব্যবস্থাপনা
গুলিস্তান পার্কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। ছবি: যুগান্তর

গুলিস্তান পার্কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে চরম অব্যবস্থাপনা রয়েছে। একসময় নাট্যপ্রেমীদের আড্ডা থাকলেও পার্কটি এখন মাদকপ্রেমীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

১৫ জুন শনিবার বিকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর এ পার্কের অভ্যন্তরে নির্মিতব্য জিমনেসিয়াম ভবন থেকে কয়েক কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

মাদকসেবী ভিক্ষুক আর হকারদের অঘোষিত আশ্রয়স্থল এখন এ গুলিস্তান পার্ক। শুধু তাই নয়, গুলিস্তানে ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ীদের উচ্ছিষ্ট ফেলার স্থানও এ পার্ক।

সরেজমিন দেখা যায়, পার্কজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে লিচুর শুকনো পাতা। গুলিস্তানের ফল ব্যবসায়ীরা লিচু বিক্রি শেষে উচ্ছিষ্ট পাতাগুলো এ পার্কের অভ্যন্তরেই ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে ওই পাতাগুলো পরিষ্কার করা হয় না।

ফলের উচ্ছিষ্ট, ছিন্নমূল হকার, আর মাদকসেবীদের অবস্থানের মধ্য দিয়ে এ পার্কের সংস্কার কাজ চলছে। টিন দিয়ে ঘেরা কিছু অংশের মধ্যে ছিন্নমূল মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখা যায়। শুকনো সুইমিংপুলটির মধ্যে খেলাধুলা করতে দেখা যায় আশপাশের ফুটপাতে বসবাসরত ছিন্নমূল শিশু-কিশোরদের।

এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীরা পার্কের ভিতরে ও বাইরে মলমূত্র ত্যাগ করে এক অসহনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছে। পার্কের পেছনের অংশ যেখানে গুলিস্তান ফ্লাইওভার এসে মিশেছে, সেখানে পার্কের সীমানার গ্রিল কেটে ছোট ছোট চায়ের দোকান বসিয়েছে হকাররা।

এমনই কয়েকজন হকার যুগান্তরকে বলেন, ভাই আমরা কী করমু, কোনো জায়গায় বসতে পারি না। যেখানেই বসি সেখানেই পুলিশের বাধা। তাই কোনো রকমে এ জায়গায় এসে দোকান চালাচ্ছি। পেট তো চালাতে হবে। পার্কের প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই হাতের ডান দিকে রয়েছে কয়েকটি ছোটখাটো সিগারেট ও চায়ের দোকান।

এ দোকানগুলোতে সারাদিন ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। চায়ের দোকানে বিক্রি করা বিভিন্ন রুটির প্যাকেট, কলার খোসা, খালি সিগারেটের প্যাকেট, জাল দেয়া উচ্ছিষ্ট চায়ের পাতা ইত্যাদি বর্জ্য দোকানগুলোর সামনে পার্কের ওপর ফেলে রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের মলমূত্র মিশে দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এক বছর আগে এ পার্কের সংস্কারকাজের জন্য মেসার্স আলী ও টি হোসেন এন্টারপ্রাইজকে (জেভি) বরাদ্দ দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

বরাদ্দ সময় অনুযায়ী ৩০ জুন ২০১৯ এ পার্কে সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা। সংস্কার কাজের মধ্যে রয়েছে, পার্কের পুকুরটির চারপাশ বাঁধানো, একটি জিমনেসিয়াম, মাঠের ঘাস বসানোসহ পার্কের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য আধুনিক মানের গেট নির্মাণ করা।

চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় এ কাজ শেষ হতে আরও এক বছর লেগে যাবে। এ বিষয়ে মেসার্স আলী ও টি হোসেন এন্টারপ্রাইজের পার্টনার ঠিকাদার খায়ের উদ্দিন জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ৭৫ ভাগ কাজ শেষ করেছি।

আশা করছি আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে অর্থাৎ কোরবানি ঈদের আগেই আমরা এ কাজ সম্পন্ন করতে পারব। অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে যে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার মধ্যে যদি ব্যবস্থাপনার জন্য খরচ করতে হয় তাহলে এ কাজে টাকার সংকট পড়বে।

ডিএসসিসির প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, আসলে ঈদের কারণে শ্রমিকরা না থাকায় বহিরাগতরা এসে পার্কের পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ নিয়েছে। সংস্কার কাজ চলাকালীন ব্যবস্থাপনার কোনো খাত না থাকলেও কাজ শেষে আমরা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বরাদ্দ রাখব।

তখন আর এই বর্তমান পরিস্থিতি দেখা যাবে না। তবে কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্য আমি আগামী সাত দিনের মধ্যেই একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কথা দিচ্ছি আগামী সপ্তাহের রোববার নাগাদ একটি সুন্দর কাজের পরিবেশ দৃশ্যমান হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×