সরেজমিন পোস্তগোলা

ধুলা-কাদার সঙ্গে বসবাস

  আল ফাতাহ মামুন ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধুলা-কাদার সঙ্গে বসবাস
পোস্তগোলায় একটু বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদাপানি জমে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারীরা। ছবি: যুগান্তর

শীত কিংবা গ্রীষ্ম, বর্ষা অথবা বসন্ত- কোনো ঋতুই স্বস্তি আনে না পোস্তগোলাবাসীর জন্য। বছরেরজুড়ে ধুলা-কাদার সঙ্গে বসবাস এ অঞ্চলবাসীর। সকালে বৃষ্টি হলে দুপুরেই ধুলায় ছেয়ে যায় আকাশ।

শুষ্ক মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও রাস্তায় কাদাপানির দৃশ্য চোখে না দেখলে যেমন বিশ্বাস করা যায় না, তেমনি বর্ষা মৌসুমে ধুলার রাজত্বও বিশ্বাস করা দায়। তবে এ দুটোই নির্মম সত্য এ অঞ্চলে বসবাসীর জন্য।

পোস্তগোলার বাসিন্দা রুমানা বেগম বলেন, পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে পা পিছলে পড়ে পুরো শরীর কাদাপানিতে একাকার হয়ে গেছে। অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছি। মানুষের চাপাচাপিতে পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে পা পিছলে কাদায় পড়ে যাই।

এখন আবার বাসায় গিয়ে কাপড় পরিবর্তন করে অফিসে যেতে হবে। এ যন্ত্রণা আর কত সইব আমরা? আরেক পথচারী লিমা খন্দকার বলেন, খানাখন্দে ভরা রাস্তা। বৃষ্টি থাকুক বা না থাকুক কাদাপানি থাকবেই। রাস্তার এক পাশে একটু শুকনো রাস্তা।

ওই পথ ধরেই খুব কষ্টে গায়ে গা ঘেঁষে চলতে হয়। একপাশে লোক চললে আরেক পাশে থেমে থাকতে হয়। এভাবেই চলছে আমাদের নগরজীবন।

কামরুল ইসলাম যাচ্ছিলেন জুরাইন বাজারে। পোস্তগোলার রাজাবাড়িতে মুদি দোকান তার। মাস্কে পুরো মুখ ঢাকা। তবুও যেন নিরাপদ হতে পারছেন না ধুলার আক্রমণ থেকে। এক হাতে মুখ ঢেকে আরেক হাতে চোখ ডলতে ডলতে পথ এগোচ্ছিলেন। তিনি বলেন, পোস্তগোলা যেন আমাদের জন্য এক অভিশাপের নাম।

রাজধানীজুড়ে কত সমস্যাই তো মোকাবেলা করে বসবাস করছে মানুষ। কেউ পানির সমস্যা, কেউ জলাবদ্ধতার আবার কেউবা ধুলার সমস্যা নিয়ে বসবাস করছে।

আমাদের কপাল এতই খারাপ যে নাগরিক সব সমস্যা নিয়েই বসবাস করতে হয়। মাত্রই কাদা ডিঙিয়ে এখন ধুলার সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বাজার করতে যাচ্ছি। বৃষ্টিতেও ধুলা কমেনি। এ এক আজব ব্যাপার।

পদ্মা সেতুর কাজ চলার কারণে পোস্তগোলাবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। আগে ধুলার সমস্যা প্রকট থাকলেও এখন যোগ হয়েছে কাদা ও যানজটের সমস্যা।

রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। কখনও কখনও বিকল্প রাস্তা না রেখেই রাস্তা খোঁড়া হয়। এতে যাত্রাবাড়ী, মাওয়া, নারায়ণগঞ্জ- গুরুত্বপূর্ণ এ তিন লেনের গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকে।

আগে একাধিকবার এ এলাকার ধুলা সমস্যা নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হবেন তারা। কিন্তু এ ব্যাপারে রাস্তায় পানি দেয়া ছাড়া আর কোনো ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। পানি দেয়ার ফলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

শুষ্ক মৌসুমে রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। এলাকাবাসী বলেন, সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি এক দু’জায়গায় পানি দিলেও ধুলাপ্রবণ অন্যান্য জায়গায় পানি দিচ্ছে না।

পোস্তগোলা-করিমউল্লাবাগ রোডটি তুলনামূলক বেশি ধুলাপ্রবণ। এ এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, ব্রিজের আশপাশে পানি দেয়া হয়। কিন্তু আমাদের এখানে পানি দেয়া হয় না। কী কষ্টে যে বসবাস করছি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাজী মো. মাসুদ বলেন, পদ্মা সেতুর কাজের কারণে এখানে ধুলা ও কাদা বেড়ে গেছে। কাজ শেষ হলে এ সমস্যা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য আমরা রাস্তা ঝাড়– দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। সিটি কর্পোরেশন থেকে পানি দেয়া হচ্ছে। আশা করি, দুর্ভোগ অনেকটা কমে আসবে।

হাজী মাসুদ বলেন, রাস্তায় বালুর ট্রাক চলাচলের কারণেও ধুলা বেড়ে যায়। বালুর ট্রাকগুলো থেকে ধুলা উড়ে রাস্তা-দোকান ও বাসাবাড়ি ধুলাময় করে দেয়। এ সমস্যা সমাধান আমাদের হাতে নেই।

ডিএসসিসি আঞ্চল-৫-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামছুল হক বলেন, পোস্তগোলা এলাকাটি ধুলাপ্রবণ এলাকা। পদ্মা সেতুর কাজের কারণে এখানে কাদাপানির সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে পোস্তগোলা সেতু পর্যন্ত পুরো রাস্তা সোনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।

এখানে কোনো কিছু করতে গেলে তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে করতে হয়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনদুর্র্ভোগ কমাতে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×