শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করছে জিন ব্যাংক ও সিড মিউজিয়াম

  শেকৃবি সংবাদদাতা ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী করছে জিন ব্যাংক ও সিড মিউজিয়াম
ফাইল ছবি

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্যের আধার হিসেবে পরিচিত। প্রাণিবৈচিত্র্য ও গাছপালার বৈচিত্র্য যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে ফসলের বৈচিত্র্য। এ বাংলার মাটিতে এক সময় যেসব ফসল ফলত তার সব আজ নেই। কিছু হারিয়ে গেছে।

আবার কিছু হারিয়ে যাওয়ার পথে। যেসব ফসল এখনও ক্ষেত-খামারে সেসবের পরিচয়ও মানুষ তেমন জানে না। যেসব ফসলের জাত হারিয়ে যাওয়ার পথে সেগুলো সংরক্ষণ করা জরুরি।

সে সঙ্গে দেশে চাষ হয় এমন সব ফসলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করানোর জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘সিড মিউজিয়াম’ ও ‘জিন ব্যাংক’।

এ কাজে নিয়োজিত আছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া ও অধ্যাপক ড. মো. ছরোয়ার হোসেন।

হায়ার অ্যাডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় শেকৃবির ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের চতুর্থ তলায় গড়ে তোলা হয়েছে এ জিন ব্যাংক।

বিলুপ্ত প্রায় ফসলের জাত টিকিয়ে রাখতে গবেষণা করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। আর সিড মিউজিয়ামের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের বীজ চিনছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শেকৃবির এ জিন ব্যাংকে ২৫ ধরনের ফসলের দেড় শতাধিক প্রজাতির জিন সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ প্রজাতির ধান, ১৩ প্রজাতির ভুট্টা, ২৪ প্রজাতির সবজি, ১৩ প্রজাতির কটন, ৩ প্রজাতির সরিষা ছাড়াও টমেটো, টমাটিলো, মরিচ, মসুর, মটর ও তিলসহ বেশ কয়েকটি ফসলের জিন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ জিন ব্যাংক।

আর শিক্ষার্থীদের ফসলের বীজ চেনানোর জন্য ২০০ ধরনের ফসলের বীজ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘সিড মিউজিয়াম’।

অধ্যাপক ড. শহীদুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, পরিবেশের পরিবর্তন, প্রযুক্তির প্রসার ও শিল্পায়নের কারণে বহু প্রজাতির ফসল এবং উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আরও অনেক ফসলের বিভিন্ন প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

দেশের কৃষি গবেষকরা এসব টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিলুপ্ত প্রায় এসব ফসলের জিনের সংরক্ষণ পর্যাপ্ত না থাকায় গবেষকরা তাদের গবেষণা কাজে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এসব গবেষণার জন্য পরিবেশভেদে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জাতের উদ্ভিদের প্রয়োজন হয়।

যেমন বর্তমান সময়ে উচ্চ ফলনশীল লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাত আবিষ্কার জরুরি। লবণাক্ত জমিতে ফলানো যায় এমন ধানের ফলন কম।

ফলন বাড়ানোর জন্য লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাতের সঙ্গে উচ্চ ফলনশীল কোনো ধানের জাতের ক্রস করাতে হবে। সহ্য করা জাতের সংযোজন করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু প্রয়োজনীয় এসব ধানের জাত যদি সংরক্ষণে না থাকে তাহলে সেসব নিয়ে গবেষণা সম্ভব নয়। তাই গবেষণার জন্য বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জিন সংরক্ষণের প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত জিন বা জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে অনেক উদ্ভিদের বহু জাতের বিলুপ্তি রক্ষা করা যেত।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×