মাদক পাচারের নিরাপদ রুট সদরঘাট

  কাওসার মাহমুদ ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর সঙ্গে দেশের-দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। লঞ্চযোগে নৌপথে কোনো ধরনের চেকিং ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিড়ম্বনা না থাকায় সহজে পাচার হচ্ছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক। পাচারকারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে নৌপথকে বেছে নেয়ায় প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চল থেকে সাগরপথে রাজধানীতে আসছে মাদকের চালান। গভীর রাতে এসব চালান লঞ্চ থেকে নির্বিঘ্নে খালাস হয়ে ঢুকে পড়ছে রাজধানীতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দুই-একটি চালান ধরা পড়লেও অধিকাংশ মাদকের চালান নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে।

জানা গেছে, সদরঘাটের ঢাকা নদীবন্দর দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ৪২টি নৌরুটে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। এসব লঞ্চে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তল্লাশি না থাকায় মাদক পাচারকারীদের কাছে দিন দিন সদরঘাট জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো থেকে ফেনসিডিল ও গাঁজা রাজধানীতে ঢুকছে। আর রাজধানী থেকে ইয়াবা, হেরোইন ও অন্যান্য মাদক নিরাপদে পৌঁছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে। গত এক মাসে সদরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা কয়েকটি ছোট মাদকের চালান আটক করতে সক্ষম হলেও অধিকাংশ চালান ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদক কারবারিদের সঙ্গে লঞ্চের কতিপয় মাস্টার, ড্রাইভার, খালাসি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সহায়তায় রাজধানীতে ঢুকে পড়ছে এসব মাদকের চালান। আবার কখনও রাজধানী থেকেও দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে মাদক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক রাজনৈতিক নেতা ও লঞ্চের স্টাফ যুগান্তরকে বলেন, সদরঘাট টার্মিনাল দিয়ে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদক ঢুকে পড়ছে। লঞ্চপথে কোনো ধরনের তল্লাশি না থাকায় পাচারকারীরা দীর্ঘদিন ধরে এ পথ দিয়ে মাদক আনানেয়া করছে। ডিএমপির সদরঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এনামলি হক যুগান্তরকে বলেন, কয়েকদিনে আমরা কয়েকটি মাদকের চালান আটক করেছি। সোমবার সদরঘাট থেকে ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ এক মাদক পাচারকারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাচারকারী চক্র সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই সূত্র ধরে পাচারকারী চক্রকে গ্রেফতার করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। ঘাট এলাকায় পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

কোতোয়ালি থানার ওসি এবিএম মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সদরঘাট নদী বন্দরে সীমানা জটিলতা অনেক বেশি। আমাদের সীমানা হল পুরনো টার্মিনাল থেকে পশ্চিম দিকে। পার্কিং ইয়ার্ড থেকে লালকুঠি ঘাট এলাকা সূত্রাপুর থানায় পড়েছে। নদীতে নৌপুলিশ এবং ওই পাড়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকা পড়েছে। তার পরেও আমরা মাদক চোরাকারবারিদের ধরতে তৎপর রয়েছি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×