গাবতলী আন্ডারপাস ব্যবহারে পথচারীদের অনীহা

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আরমান ভূঁইয়া

নির্বিঘ্নে সড়ক পারাপারের জন্য নির্মিত গাবতলী আন্ডারপাস ব্যবহারে পথচারীদের চরম অনীহা রয়েছে। অধিকাংশ পথচারী আন্ডারপাস ব্যবহার না করে সড়কের ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে।

এতে প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। জাতীয় পাখি দোয়েলের আদলে সাজানো হয়েছে এ পাতালপথটি। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের আলোর পসরা। ময়লা ফেলার জন্য রয়েছে ডাস্টবিন। অধিক সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও বেশিরভাগ পথচারী ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, জনসাধারণের অসচেতনা ও অবজ্ঞার কারণে পথচারীরা আন্ডারপাস ব্যবহার করছে না। এতে প্রায় সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গাবতলী ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. মাসুদ রানা বলেন, পথচারীদের সড়ক পারাপারের জন্য আন্ডারপাসে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার তার সবই গাবতলী আন্ডারপাসে রয়েছে। তবে পাতালপথ ব্যবহার না করার প্রধান কারণ জনসাধারণের অসচেতনতা ও নিচু সড়ক ডিভাইডার। ডিভাইডার নিচু থাকায় নারী-শিশুসহ সবাই অনায়াশে সড়ক পারাপার হচ্ছে। সরেজমিন দেখা যায়, গাবতলী বাস টার্মিনালের মাঝামাঝিতে নির্মাণ ‘গাবতলী আন্ডারপাস’। পাতালপথটি দোয়েল পাখির আদলে সাজানো হয়েছে। এর প্রবেশমুখে ও ভেতরে কাঠের তৈরি নানা সাইজের দোয়েল পাখি ও ফুল দিয়ে দেয়ালে সাজানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে সিসি ক্যামেরা। বিভিন্ন কালারের টাইলস ফ্লোরে লাগানো হয়েছে। দেয়ালে রং করা আছে। চারদিকে চমৎকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তারপরও পথচারীদের ব্যবহারে অনীহা রয়েছে। তবে নেই কোনো নিরাপত্তাকর্মী। পথচারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় অনেকে ভয়ে আন্ডারপাস ব্যবহার করে না। তবে রাতে এক নিরাপত্তা প্রহরী থাকে বলে দাবি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। পারাপার কম থাকায় পাতালপথের বাইরের অংশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে ময়লার স্তূপ জমে আছে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। পাতালপথের উপর ও এর আশপাশ দিয়ে পথচারীরা সড়ক পারাপার হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে আন্ডারপাসের উপর দিয়ে সড়ক পারাপার হওয়া সুজন বলেন, আন্ডারপাস দিয়ে রাস্তা পার হতে গেলে অনেক সময় লেগে যায়। তাই তাড়াতাড়ি আসার জন্য রাস্তার উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছি। গাবতলী গ্যারেজের মিস্ত্রি আনোয়ার বলেন, আন্ডারপাসের ভেতরের চেয়ে রাস্তা দিয়ে তাড়াতাড়ি পারাপার হওয়া যায়। দেখা যায়, গাবতলী মাজার রোডের মোড় থেকে গরুর হাট পর্যন্ত সড়কের মাঝের ডিভাইডার তুলনামূলক নিচু। এতে পথচারীরা নির্বিঘ্নে সড়ক দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে। আবার ডিভাইডারের মাঝে কিছু কিছু জায়গায় এক ফুট কাটা রয়েছে। ফলে এসব জায়গা দিয়েও পথচারীরা পারাপার হচ্ছে। পথচারী আশিক আহমেদ বলেন, বেশিরভাগ মানুষই সহজ পথ অবলম্বন করে। যদি আন্ডারপাস ছাড়া রাস্তা পারাপারের অন্য কোনো উপায় না থাকে তাহলে সবাই আন্ডারপাস ব্যবহার করবে।

ডিএনসিসি অঞ্চল-৪ এর নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা বিনতে সিরাজ বলেন, গাবতলী আন্ডারপাসের ব্যবহার ও এর উন্নয়ন নিয়ে আমরা গত সপ্তাহে মিটিং করেছি। সেখানে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত আন্ডারপাসে দুই শিফটে নিরাপত্তাকর্মী দেয়া হবে। সড়কের মাঝের ডিভাইডারে উঁচু করে রেলিং সিস্টেম করা হবে। এছাড়াও ডিভাইডারের মাঝের ফাঁকা অংশ বন্ধ করে দেয়া হবে, যাতে পথচারীরা আন্ডারপাস ছাড়া রাস্তা পারাপার করতে না পারে।