আলোচনা সভায় বক্তারা

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের চেতনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের চেতনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল
ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের চেতনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই চেষ্টা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিগুলো।

শনিবার দুপুরে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত ‘ইতিহাসের অবরুদ্ধ অধ্যায় : ১৯৭৫-৯৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা ডা. নুজহাত চৌধুরী, রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারানা হালিম, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, সাংবাদিক ও গবেষক জায়েদুল আহসান পিন্টু, লেখক ও গবেষক মারুফ রসূল।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

আলোচনায় ওঠে আসে ’৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন, ইতিহাস বিকৃতিকরণসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিষয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেন, জিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করে আমার বাবার হত্যাকারী আত্মস্বীকৃত খুনি দৈনিক ইনকিলাবের মাওলানা এমএ মান্নানকে প্রতিমন্ত্রী করেন।

এ সময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে যুদ্ধাপরাধীদের পুনঃস্থাপন করেছিলেন জিয়া? কেন যুদ্ধ চলাকালে তাকে সেক্টর কমান্ডার পদ থেকে বহিষ্কার করেছিলেন জেনারেল ওসমানী?

সে কি আইএস’র এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তান বানানোর এজেন্ডা হাতে নিয়েছিল? আমার মনে হয় এই প্রশ্নগুলো করার সময় এসেছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের চেতনাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে স্থান করে দিতে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। এ সময় ১১ হাজার ৪৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আরও সাড়ে চার হাজার সেনা সদস্যের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণার জন্য ফান্ড প্রদান করা উচিত মন্তব্য করে জাফর সোবহান বলেন, এখনও উইকিপিডিয়াতে বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে বেশ কিছু ভুল তথ্য দেয়া আছে- যা রেফারেন্সের অভাবে ঠিক করা যাচ্ছে না। আর সেজন্য আমাদের প্রচুর গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রয়োজন।

সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর কথা লেখাই যেন নিষেধ ছিল।

তিনি বলেন, আমার গবেষণায় পাওয়া তথ্যে কুমিল্লার এক জল্লাদ একাই ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন ৯২ জনকে।

এই ফাঁসি কার্যকরের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয় তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে জেনেছি, ফাঁসির রায়ে আগেই জিয়ার সই দেয়া থাকত। তারা শুধু জিয়ার দেয়া রায় পড়ে শোনাত।

এ সময় তিনি আরও বলেন, খাবার টেবিলে বসে জিয়া এক হাতে খাবার খেয়েছে ও অন্য হাতে ফাঁসির আদেশে সই করে গেছে। এমনকি ফাঁসির আদেশে সই করার জন্য তার সঙ্গে বিমানবন্দর পর্যন্ত গেছে সেনাসদস্যরা।

সঠিক ইতিহাস চর্চার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করে মারুফ রসূল বলেন, সরকারের এ বিষয়ে পৃথক একটি অধিদফতর খোলা প্রয়োজন।

বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে চলা প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় সরকারের প্রতিটি দফতরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। এসব স্থানে সরকারি দফতরগুলোর অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×