সড়কে ৬ মাস ড্রেনের পানি

মেরাদিয়ায় রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ * বর্জ্যে বন্ধ হয়ে গেছে স্যুয়ারেজ লাইন * ফেলে রাখা হয়েছে ড্রেনেজ পাইপ

  ডেমরা প্রতিনিধি ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নগরীর মেরাদিয়ার প্রধান সড়কে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে জমে আছে ড্রেনের ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি। ফেলে রাখা হয়েছে সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনেজ পাইপ। সামান্য বৃষ্টি হলেই অপ্রশস্ত এ সড়কটিতে হাঁটুপানি জমে থাকে। নিয়মিত ড্রেনের বর্জ্য পরিষ্কার না করায় বন্ধ হয়ে গেছে স্যুয়ারেজ লাইন। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার দু’পাশের দোকান ঠিকমতো খুলতে পারছেন না দোকানিরা। সড়কের আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। মেরাদিয়ার প্রধান সড়কটি মধ্যপাড়া থেকে আনসারবাগ জামে মসজিদ পর্যন্ত কোয়ার্টার কিলোমিটার বেহাল। সড়কটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পড়েছে। মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় অপ্রশস্ত প্রধান সড়কে ড্রেনের পানি জমে থাকায় এলাকাবাসীর চলাচলসহ পণ্য পরিবহন অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে পচা পানি মাড়িয়ে পথ চলতে হচ্ছে এখানকার ছোট ছোট শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের। তাছাড়া এ সড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে পা পিছলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হন দিনমজুররা। সব সময় পানি জমে থাকায় সড়কের পাশ দিয়ে হাঁটার জন্য ইট ফেলা হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক আগেই বর্জ্য জমে সড়কের ড্রেনেজ পাইপ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সবসময় ড্রেনের পানি জমে থাকে। সড়কে পানি জমে থাকায় দোকানদাররা তাদের দোকান খুলতে পারছে না। এতে প্রতিমাসেই দোকানভাড়াসহ অধিক লোকসানের শিকার হচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। এদিকে বয়স্ক ও শিশুদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পচা পানিতে চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের। তবে রোববার থেকে সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় দীর্ঘ ৬ মাস ধরে মেরাদিয়া প্রধান সড়কের মধ্যপাড়াসহ কোয়ার্টার কিলোমিটার রাস্তায় ড্রেনের পানি জমে আছে। এতে এ এলাকায় ডেঙ্গু মশার বংশ বৃদ্ধি সহজ হয়েছে। এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী। মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফ হোসেন লিটন যুগান্তরকে বলেন, নগরীর মধ্যে এমন বিভীষিকাময় জীবনযাপন কিছুতেই আশা করা যায় না। ঘর থেকে গোসল করে পরিষ্কার জামাকাপড় পরে বের হতেই রাস্তায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে অফিসে যেতে হয়। কখনও কখনও বাচ্চাদের দৌড়ে ময়লা পানি শরীরে ছিটে আসে।

আনসারবাগ এলাকার বাসিন্দা মোছা. তাহমিনা হোসেন যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিন বাচ্চাদের নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। প্রায়ই সিঙ্গেল ইটের ওপর দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পচা পানিতে পা পিছলে পড়তে হয়। এমন নোংরা পানিতে পা পড়লে কেমন লাগে বলে বোঝানো যাবে না। আর সড়কে ড্রেনেজ পাইপ ফেলে রাখার পর ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে।

ডিএসসিসি ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাকসুদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ইতিমধ্যে মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে, যা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তবে ডিএসসিসির উন্নয়নকাজের তদারকির ভার এখন কাউন্সিলরদের নেই বলে এলাকাবাসী অনেক কষ্টের শিকার হন। কাউন্সিলরদের তদারকি থাকলে জনদুর্ভোগ লাঘব করেই পরিকল্পিতভাবে এলাকার উন্নয়ন কাজ হতো।

ডিএসসিসি (খিলগাঁও অঞ্চল-২) সহকারী প্রকৌশলী মো. পারভেজ রানা মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, আনসারবাগ এলাকায় ইতিমধ্যে সড়ক উন্নয়ন কাজ অনেক এগিয়েছে। মেরাদিয়া মধ্যপাড়া এলাকাতেও কাজ শুরু হয়েছে, যা খুব দ্রুত শেষ হবে। আগে ড্রেনের পাইপ লাইনের আউটলেট ছিল পার্শ্ববর্তী নিচু ঝিল ও জলাশয় অঞ্চলের দিকে। বর্তমানে ওইসব জলাশয়ের অধিকাংশই বালু ভরাট করে উন্নয়ন করা হচ্ছে। তাই অনেক আউটলেট বন্ধ বলে পুরনো ড্রেনেজ পাইপগুলো বর্জ্যে পরিপূর্ণ হয়ে সিলট্রেড (শক্ত) হয়ে গেছে। যা পরিস্কার করা যায় না। তাই পরিকল্পিতভাবে স্থায়ী আউটলেট নির্মাণ করে নতুন ড্রেনেজ লাইনগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এতে জনদুর্ভোগ থাকবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×