ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে অনীহা

হকার-ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্য * পথচারীদের সচেতনতার অভাব

  গেন্ডারিয়া প্রতিনিধি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে অনীহা

নগরীর ফুটওভারব্রিজগুলোর অধিকাংশ এখন বেহাল। ব্যবহারও কম হয়। যেগুলো ব্যবহার করতে নগরবাসী আগ্রহবোধ করেন, হকার-ভিক্ষুকদের দৌরাত্ম্যের কারণে সেগুলো ব্যবহারও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই কয়েকটি ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর প্রায় ৫১টি স্থানে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন মানুষ।

এসব স্থানে নিয়ম না মেনে যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এজন্য পথচারীদের অসচেতনতাকে দায়ী করছে তারা।

পথচারীদের পারাপারের সুবিধার্থে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছিল ৮৭টি ফুটওভারব্রিজ।

কিন্তু ব্রিজ ব্যবহারে তেমন আগ্রহ মেলেনি পথচারীদের। আগের মতোই নিয়ম না মেনে পথচারীরা রাস্তা পারাপার হচ্ছেন।

ফার্মগেটে সাইফুল হক নামের একজন পথচারী বলেন, সড়কের একপাশ থেকে অন্যপাশে ফুটওভারব্রিজ দিয়ে যেতে সময় অনেক বেশি লাগে। কিন্তু রাস্তা দিয়ে গেলে সময় কম লাগে।

তাই রাস্তা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আরেক পথচারী আহমেদ হোসেন অভিযোগের সুরে বলেন, ফুটওভারব্রিজের পরিবেশ নোংরা।

চলাচলে অস্বস্তি লাগে, হকার, দখলদারী, ছিন্নমূল মানুষের বিচরণ- এসব কারণে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করতে আগ্রহ থাকে না বেশিরভাগ পথচারীর।

শাহবাগ মোড়ের পথচারী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, রাস্তার মোড় থেকে ওভারব্রিজগুলো অনেক দূরে থাকে। এছাড়া রোগী কিংবা বৃদ্ধ মানুষের জন্য এ ওভারব্রিজগুলো সুবিধাজনক নয়।

সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো সামর্থ্য শারীরিকভাবে অনেক পথচারীর নেই। তাই ফুটওভারব্রিজের পরিবর্তে সমতলে সুনির্দিষ্টভাবে রাস্তা পারাপারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, যেসব স্থানে সিগন্যাল বা জেব্রাক্রসিং নেই ও যেখানে গাড়ি থামার কোনো সুযোগ নেই, নিয়ম অনুযায়ী সেসব স্থানে ফুট ওভারব্রিজ স্থাপন করতে হবে।

কিন্তু নগরীতে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে যেসব স্থানে সিগন্যাল আছে, আবার জেব্রাক্রসিংও আছে, সেসব স্থানেও ফুটওভারব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে। যা মোটেও পথচারীবান্ধব নয়। যে কারণে এগুলো পথচারীরা ব্যবহার করতে চাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নগরে যেভাবে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, তা পথচারীবান্ধব নয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমতলেই পথচারীদের জন্য রাস্তা পারাপারের স্পেস রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের শহরে তার উল্টো। প্রয়োজন ছাড়া ফুটওভারব্রিজ স্থাপন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ আরও বলেন, যারা অসুস্থ ও বৃদ্ধ, তারা কিভাবে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করবেন। তারা তো সমতল দিয়েই যাতায়াত করবেন। তাহলে পরিকল্পনাহীনভাবে কোটি কোটি টাকা নষ্ট না করে সমতলেও তো অল্প খরচে চলাচলের উপযোগী করা যেত।

এজন্য নগর পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে ও পথচারী এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে আলাপ ও গবেষণা করা দরকার। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন তা করে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, অপরিকল্পিত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ কথাটি সঠিক নয়।

যেখানে প্রয়োজন তা নির্ধারণ করেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। মনে করেন, বাংলামোটর ফুটওভারব্রিজ। এখানে কী জরুরি নয়?

এটা বলতে পারেন, মানুষ ব্যবহারে সচেতন হচ্ছে না। এক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়। জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশও বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছে, শাস্তি দিচ্ছে। সবাই যে ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করে না তা কিন্তু নয়। অসচেতন মানুষই এমনটি করে থাকে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাফিক উত্তরের যুগ্ম কমিশনার মো. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করার কোনো সুযোগ নেই।

তবে পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা অনেক বেশি। গাড়ি আসছে, আর আপনি যদি দৌড় দেন কিংবা ফুটওভারব্রিজ ছাড়া পার হন, তাহলে তো দুর্ঘটনা ঘটবেই।

ট্রাফিক আইনে বলা ব্যবস্থা তো আমরাই নেই। কিন্তু এত ছোটখাটো সচেতনতামূলক ব্যাপারেও যদি পথচারীরা সচেতন না হন তাহলে জেল-জরিমানা দিয়ে কতক্ষণ ঠিক রাখা সম্ভব?

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×