লেখালেখি উপদেশ দিয়ে হয় না

ঢাকায় নিজের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সমরেশ মজুমদার

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় নিজের বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সমরেশ মজুমদার
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে শনিবার বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে নিজের লেখালেখিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন পশ্চিমবঙ্গের কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। ছবি: যুগান্তর

উপদেশ দিয়ে লেখক হওয়া যায় না। লেখক হতে হলে ভেতর থেকে তাড়না থাকতে হয়।

একজন মা যখন সন্তানের জন্ম দেন তখন সেই সন্তানকে যেমন যত্ন না করলে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি হয় না, ঠিক তেমনি একজন লেখকের ভেতরে একটা উপলব্ধি ও তাড়িত কাজ না করলে তিনি লেখক হতে পারেন না।

কথাগুলো বলছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত লেখক সমরেশ মজুমদার।

শনিবার বাতিঘর আয়োজন করে ‘বই প্রকাশের গল্প’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে প্রকাশিত হয় সমরেশ মজুমদারের লেখা নতুন বই ‘অপরিচিত জীবনযাপন’ এবং বাদল সৈয়দের লেখা ‘জন্ম জয়’ বই দুটো।

বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাশ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সমরেশ মজুমদার বলেন, নিজের কথা বলি, আমি কখনও একই জিনিস বারবার লিখিনি, লিখতেও চাই না। এমনকি আমি একই ধরনের বাক্যও দুইবার লিখি না।

ভুল করে লিখে ফেললেও তা বদলে দেলি। এই গুণ প্রত্যেক লেখকের থাকতে হবে এবং নতুন কিছু দেয়ার তাগিদ থাকতে হবে।

সমরেশ মজুমদার বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের রাজধানী কলকাতা থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। বাংলা সাহিত্যের রাজা-রানী চলে এসেছে ঢাকায়।

বাংলা সাহিত্যের রাজধানী আগে কলকাতা ছিল। এটা আমি ত্রিশ বছর আগের কথা বলছি। কিন্তু গত ত্রিশ বছরে আমরা নতুন কোনো সুনীল শীর্ষেন্দু প্রফুল্ল রায়কে পাইনি। সেই আসা শুরু হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে। তিনি খুব বিনয়ের সঙ্গে জায়গাটি দখল করে নিলেন।

বরেণ্য এই সাহিত্যিক বলেন, আমার লেখা ‘কালবেলা’ বইটা ন্যায্যভাবে এক লাখ সাত হাজার কপি বিক্রি হয়েছে।

আর বিভিন্ন পত্রিকা এবং নানা জায়গা থেকে জেনেছি, বাংলাদেশে আড়াই লাখেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। কালবেলা উপন্যাসের মাধবীলতা তো বিয়ে না করেও সন্তানের মা হয়।

এ ধরনের বই লিখলে তো অশ্লীলতার অভিযোগে সেটি বাতিল করে দেয়ার কথা। কিন্তু বাঙালি পাঠক মাধবীলতাকে কেন গ্রহণ করল?

এর আগে আমি যখন ঢাকায় আসি তখন ঢাকা ক্লাবে একটি ছেলে আর মেয়ে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসে। তারা জানায়, তাদের নাম অনিমেষ এবং মাধবীলতা।

আমি ভাবলাম, মজা করছে হয়ত। পরে তারা বলল, এফিডেভিট করেই তারা নিজেদের নাম রেখেছে অনিমেষ আর মাধবীলতা।

সমরেশ মজুমদার বলেন, লেখালেখি অত্যন্ত যন্ত্রণার একটি বিষয়। এ যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায় যখন বাংলাদেশের কোনো বইয়ের দোকানে এসে দেখি ‘রাত তিনটে তোমাতে আমাতে’ বইয়ের নিচে লেখা সমরেশ মজুমদার।

বইটি কেনার পর দেখি একটি অক্ষরও আমার নয়। কিন্তু বইয়ের পেছনে আমার ছবিটি দেয়া আছে। পাইরেসি চলুক সমস্যা নেই কিন্তু যদি মূল বইটি ঠিক রেখে ছাপা হতো তাহলেও কষ্ট লাগত না।

এরপর দর্শকের কাছে সমরেশ জানতে চান, কেন অনিমেষ, মাধবীলতা চরিত্র এত জনপ্রিয় হল? দর্শক সারি থেকে দু’জন পাঠক সমরেশকে জানিয়েছেন উপন্যাসটি কেন তাদের ভালো লেগেছে।

এভাবেই আড্ডা গল্পে দীর্ঘ সময় কথা বলেন সমরেশ মজুমদার। অনুষ্ঠানে এই প্রখ্যাত সাহিত্যিক বলেন, যে কোনো কিছুতেই আলাদা হতে না পারলে, কেউ গ্রহণ করবে না। কেউ ফিরেও তাকাবে না।

একই রকম লিখলে তো হবে না। ভিন্ন কিছু লেখার চেষ্টা করতে হবে। অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে এসে হাজির হন লেখক বাদল সৈয়দ। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল থেকেই এখানে এসেছি। অনুষ্ঠানটিতে সবার সঙ্গে উপস্থিত থাকব বলে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×