ভূতেরগলি কমিউনিটি সেন্টার

কমিউনিটি সেন্টার সরকারি অফিস

  এম রেজাউল করিম ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাগজ-কলমে এবং ওয়েবসাইটের তালিকায় থাকা ভূতেরগলি কমিউনিটি সেন্টার নামে একটি ভবন থাকলেও আদতে তা এখন সরকারি প্রশাসনিক ভবন হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ৫ কাঠা জায়গার ওপর নির্মিত তিনতলা এ ভবনের নিচতলায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলা ব্যবহৃত হচ্ছে কলাবাগান থানা হিসেবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এ কমিউনিটি সেন্টার। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট কাঁঠালবাগান, নর্থরোড, সার্কুলার রোড, গ্রিন কর্নার, গ্রিন স্কয়ার (গ্রিন রোড), গ্রিন রোড পূর্ব, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিট (ওয়েস্ট স্ট্রিট), আল আমীন রোড, নর্থ সার্কুলার রোড, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট (হাতিরপুল), ক্রিসেন্ট রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে এ ওয়ার্ড। ধানমণ্ডির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকার তিন লাখ মানুষের বসবাস। যে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করার জন্য তাদের একমাত্র ভরসা ছিল এ কমিউনিটি সেন্টার। কিন্তু সেটি আর এখন কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় বিশ-পঁচিশ বছর ধরেই এ কমিউনিটি সেন্টারে কোনো অনুষ্ঠান হয় না। এ কথায় সুর মিলিয়েছন ভবনটির নিচতলায় বসা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিবও। যুগান্তরকে তিনি বলেন, আনুমানিক ২৫ বছর ধরে এ কমিউনিটি সেন্টারে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান বা উৎসব উদযাপন করা হয় না। স্থানীয়দের অনেকেই ভুলতে বসেছেন এখানে একটি কমিউনিটি সেন্টার ছিল।

তিন তলা ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও শেওলাযুক্ত দেয়াল। চারপাশে ঘিঞ্জি পরিবেশ। এরপরও প্রায় ১০ বছর ধরে (২০০৯ সাল থেকে) এ ভবনটি ভাড়া নিয়ে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কলাবাগান থানা।

সরেজমিন দেখা যায়, নিচ তলায় থাকা ব্যায়ামাগারের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষটি ব্যবহার হচ্ছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সচিবালয় ও সভাকক্ষ হিসেবে। আর তার ডান পাশের রুমে উদিতি ক্লাব। তার সামনের ফাঁকা জায়গায় রাখা আছে থানার জব্দ করা মালামাল। দ্বিতীয় তলায় চলছে কলাবাগান থানার কার্যক্রম এবং তৃতীয় তলায় পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা।

কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। যে কোনো সময় এ ভবনে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। কারণ, হাল্কা নড়াচড়াতেই ভবনটির দেয়াল থেকে আস্তর খুলে পড়ে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হায়দার হিরু যুগান্তরকে বলেন, এ কমিউনিটি সেন্টারটি কখনই সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি। কারণ ধানমণ্ডির আশপাশে আরও অনেক আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার আছে। তাই সবাই সেদিকেই ঝুঁকত। আর নিম্নবিত্ত বাসিন্দাদের মধ্যে যারা ব্যবহার করত, তাদের হারটাও অনেক কম ছিল। তিনি আরও বলেন, ভবনটি এখন প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে আমি নগরভবনকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। এমনকি ইতিমধ্যেই আমরা বুয়েটে কাগজপত্রসহ অন্যান্য তথ্যাদি প্রেরণ করেছি। এখন ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।

আধুনিকায়ন নিয়ে কাউন্সিলর বলেন, এ সরকারের দেয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী যে ১৬টি কমিউনিটি সেন্টার আধুনিকায়ন করার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছিল সেখানে এ সেন্টারটির নাম ছিল। কিন্তু গুরুত্ব দেখিয়ে সেখান থেকে ৩টি সেন্টারের কাজ করা হয়েছে। আমরা আবারও আবেদন করেছি। সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি আমরা এবার সংসদ সদস্যের ফান্ড পাওয়ার জন্যও আবেদন করব। যাতে শিগগিরই এ কমিউনিটি সেন্টারটিকে আধুনিকায়ন করা যায়। এতে এলাকার বাসিন্দাদের ব্যবহারের যোগ্য হবে এ কমিউনিটি সেন্টার।

ডিএসসিসি জোন-১-এর সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা রেজাউল হাসানের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে ঢাকার বাইরে আছি। এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না। তবে ভবনটিকে থানার কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.