রাজধানী সুপার মার্কেটে মঞ্জু বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি

ভয়ে মুখ খোলেন না ব্যবসায়ীরা

  ইকবাল হাসান ফরিদ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী সুপার মার্কেটে
রাজধানী সুপার মার্কেট, ঢাকা

টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটে চলছে মঞ্জু বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি। মার্কেটের বৈধ কমিটি না থাকায় স্বঘোষিত সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটির (ডিএসসিসি) ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু এবং তার বাহিনীর লোকজন এ চাঁদাবাজি করছে। চাঁদা না পেলেই সাধারণ ব্যবসায়ীদের ধরে নিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা মঞ্জু বাহিনীর অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু কোনো কিছুতেই কর্ণপাত না করে টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেট লুটে খাচ্ছেন ময়নুল হক মঞ্জু ও তার বাহিনীর লোকজন। মঞ্জু বাহিনীর অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে ইতিপূর্বে ব্যবসায়ীরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার এবং র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বরাবর একাধিকবার আবেদন করেছেন। এমনকি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও মার্কেটের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। আবেদন-নিবেদনের পর কিছু দিন অত্যাচার নির্যাতন কমে। আবার নতুন করে শুরু হয়। সর্বশেষ গত ৩১ জানুয়ারি ব্যবসায়ীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর চাঁদাবাজির কবল থেকে রেহাই পেতে র‌্যাব-১০ এর পরিচালক বরাবর একটি আবেদন করেন। এতে তারা উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজির পাশাপাশি মার্কেট কমিটির স্বঘোষিত সভাপতির পদ আঁকড়ে ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ময়নুল হক মঞ্জু। এরপর র‌্যাব-১০ এর নির্দেশনায় মার্কেটে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ময়নুল হক মঞ্জুর বিরুদ্ধে আট অজুহাতে সাড়ে আট কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার প্রমাণ পায়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ২০ ফেব্র“য়ারি এ তদন্ত শেষ হয়। আর এর পর থেকেই মঞ্জুর অত্যাচার নির্যাতন আরও বেড়ে গেছে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ময়নুল হক মঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। আমাকে হেনস্তা করার জন্য র‌্যাবকে ‘কন্ট্রাক’ করে একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। আমি উপর মহলে জানিয়ে দিয়েছি। এরপর থেমে গেছে সবকিছু। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আমার প্রতিপক্ষকে দিয়ে অডিট করানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে মার্কেটের অর্থকড়ি আত্মসাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ব্যবসায়ীদের একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, মার্কেটে কোনো বিষয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক তা হতে দেয়া যাবে না।

এদিকে সরেজমিন রাজধানী সুপার মার্কেটে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যবসায়ীরা ময়নুল হক মঞ্জু ও তার লোকজনের চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা বলেন, আমরা মঞ্জু বাহিনীর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাই না। কেউ মুখ খুললেই নেমে আসে নির্যাতন। ৩১ জানুয়ারি র‌্যাব-১০ এর পরিচালক বরাবর আবেদনে ব্যবসায়ীরা বলেন, ময়নুল হক মঞ্জুর চাঁদাবাজিতে রয়েছে নিজস্ব সিন্ডিকেট। এরা মার্কেটের অফিসে বসে স্বদর্পে চাঁদাবাজি করে। এর মধ্যে অন্যতম হল প্রদীপ তালুকদার, মোটা বাবু, টুন্ডা সায়েম, কানা সাইদুল, নাজমুল, জাফর সানিসহ আরও বেশ কয়েকজন। এরা মঞ্জুর পক্ষে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে র‌্যাব-১০ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত মোটা বাবু, কামাল উদ্দিন ও আবদুল হক নামে তিন চাঁদাবাজকে হাতেনাতে এক লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করেছিল। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত তখন চার মাসের সাজাও দিয়েছিলেন। এরপর কিছু দিন আত্মগোপনে ছিলেন মঞ্জু। পরে পরিস্থিতি অনুকূলে আসতেই আবারও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন। এরই মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী অতিষ্ঠ হয়ে ওয়ারী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তার পরও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। রমজান মাস এলেই মঞ্জুর চাঁদার হার দুই-তিনগুণ বেড়ে যায়। এ ছাড়াও মার্কেটের চলাচলের জায়গায় ছোট ছোট পকেট দোকান বসিয়ে অবৈধভাবে ভাড়া উত্তোলন করছেন। ফলে মার্কেটের পার্কিংয়েরও কোনো জায়গা থাকছে না। কোনো দোকান ভাড়া, বদল কিংবা বিক্রয় করলে মঞ্জুকে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা দিতে হয়। না হলে তার লোকজন ওই দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেন। মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উত্তোলন করা টাকার হিসাব চাইতে গেলেও হয়রানির শিকার হতে হয়। অভিযোগে ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, মঞ্জু মার্কেটের ১৭৮৮টি দোকান থেকে প্রতি মাসে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের দোহাই দিয়ে জেনারেটরের তেল বাবদ মাসে ১৭৫ টাকা করে তিন লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা উত্তোলন করেন। লোডশেডিং না থাকায় পুরো টাকাই তিনি আত্মসাৎ করেন। বিদ্যুৎ বিল থেকে বাড়তি আদায় করেন তিন লাখ টাকা।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.