শেখদী স্কুল রোড, মাঝপথে বন্ধ উন্নয়ন কাজ

ঠিকাদারের বিল নিয়ে ডিএসসিসি-ইউপি বিরোধ * শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দুর্ভোগ

  দনিয়া প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাঝপথে বন্ধ শেখদী স্কুল রোড ও ড্রেনেজের উন্নয়ন কাজ।
মাঝপথে বন্ধ শেখদী স্কুল রোড ও ড্রেনেজের উন্নয়ন কাজ। এতে চলাফেরায় বিঘ্ন ঘটছে এলাকাবাসীর। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও সাবেক দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বিরোধে মাঝপথে বন্ধ হয়ে আছে ৬২ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক দনিয়া ইউপির ৮নং ওয়ার্ড) শেখদী স্কুল রোডের উন্নয়ন কাজ।

এতে চরম দুর্ভোগের শিকার শেখদী আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শেখদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকার বাসিন্দারা।

সরেজমিন জানা যায়, ডিএসসিসির শেখদী বটতলার মোড় থেকে আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল সড়কটি বাসিন্দাদের পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতে সারা বছর ডুবে থাকে। বৃষ্টি হলে কোমরপানি হয়।

সড়কের পাশে শেখদী আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আবদুল্যাহ মোল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

এ ছাড়া শেখদী আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজে রয়েছে এসএসসি, জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র। সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষাও এ স্কুলে নেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের জুতা-মোজা ভিজিয়ে ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পরীক্ষা দিতে ও স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা। ঢাকনাবিহীন ড্রেনে পড়ে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া সড়কের দু’পাশে রয়েছে মুদি, মনোহারি, ফার্মেসিসহ প্রায় অর্ধশত দোকানপাট। সড়কের এ বেহাল অবস্থার কারণে দু’বছর দোকানপাট প্রায় বন্ধ রয়েছে। পুঁজি ভেঙে দোকান ভাড়া ও সংসার চলছে। মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

সড়কের শেখদী বটতলার মোড় থেকে আলহেরা জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজে ৭৯ লাখ ৮৩ হাজার ৪৩২ টাকা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৭২ লাখ ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এ কাজের জন্য মেসার্স দিবা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স স্বপন ট্রেডিং কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দিয়ে ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাজের অর্ডার দেয়া হয়। ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল কাজের সময়সীমা।

দায়িত্বরত ঠিকাদার ড্রেনেজ নির্মাণের কাজ ৮০ ভাগ শেষ করেন। সিটি কর্পোরেশন ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ নিয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজের বিল পাননি। ফলে মাঝপথেই কাজ বন্ধ থাকে। ঠিকাদার তার বিল পাওয়ার জন্য এক বছরেরও বেশি সময় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

সড়ক উন্নয়ন কাজের ঠিকাদার মেসার্স স্বপন ট্রেডিং কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী মো. স্বপন যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ তেজগাঁও সার্কেল দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের খাত থেকে শেখদী বটতলার মোড় থেকে আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল রোড পর্যন্ত উন্নয়ন কাজের জন্য তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়।

স্যুয়ারেজের শতভাগ কাজ শেষ করে রাস্তায় বালু ফেলা হয়। এমন সময় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলমান অবস্থায় এ খাতের অর্থ ডিএসসিসি নিয়ে যায়। সে কারণে ইউনিয়ন পরিষদ আমাদের কাজের বিল দিতে পারেনি।

ডিএসসিসি অর্থ নিলেও স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এটিও। এরপরও কাজের বিলের টাকা পাচ্ছি না। তিনি দ্রুত বিল পাওয়ার দাবি জানান।

ডিএসসিসির ৬২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোস্তাক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, শেখদী এলাকাটি নিচু। ফলে বাসিন্দাদের পয়ঃনিষ্কাশনের পানিতেই এলাকা ডুবে যায়। বৃষ্টি হলে কোমর ও তার চেয়ে বেশি পানি হয়।

বাসাবাড়িতে ময়লা দুর্গন্ধময় পানি ঢুকে যায়। এলাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগ হয়। দীর্ঘ ভোগান্তির পর শেখদী বটতলা থেকে শেখদী আবদুল্যাহ মোল্লা স্কুল অ্যান্ড কলেজ হয়ে পূর্ব শেখদী আলহেরা জামে মসজিদ ও মনির শিকদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নের কাজ চলছিল।

সিটি কর্পোরেশন ইউনিয়ন পরিষদের এ খাতের টাকা নিয়ে যাওয়ায় ঠিকাদার কাজের বিল পায়নি। ফলে ড্রেনেজের কাজ হলেও রাস্তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষার্থী ও বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার বালি সড়কে ফেলে চলাচলের কিছু উপযোগী করছি। তিনি ঠিকাদারের টাকা পরিশোধ ও রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×