শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে অভিযান: হাজারও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিযান

শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনি যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বস্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ক্লাব, মাজার, বাজারসহ সব অবৈধ স্থাপনার পেছনের শক্তি ছিল তিনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। অবৈধ স্থাপনা গড়তে হলে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হতো মাহমুদকে। স্থাপনা গড়ার পর মাসোহারা তুলত তার বাহিনী।

এ কলোনি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বহুবার উদ্যোগ নিলেও কেবলমাত্র মাহমুদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার কারণে সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান সফল হয়েছে। এ অভিযানের তৃতীয় দিন ছিল রোববার। এদিন পর্যন্ত ৭টি বস্তিসহ প্রায় ২ হাজার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে কথিত মাজার, শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগ কার্যালয়, মির্জা আব্বাস ও খালেদের অবৈধ বাজার।

সরেজমিন দেখা যায়, উচ্ছেদের সময় অবৈধ দখলদাররা ছিল নিশ্চুপ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী দখলদার জানায়, তাদের শক্তির উৎস ছিল যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ। তিনি গ্রেফতার হওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীও গা ঢাকা দিয়েছে। এর আগে যতবারই উচ্ছেদ শুরু হয়েছিল তার হুমকি ও বাধার কারণে সে কার্যক্রম সফল হয়নি। অবৈধ দখলদাররা উচ্ছেদের খবর পাওয়া মাত্রই খালেদ মাহমুদের কাছে যেত কিংবা তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছে খবরটি পৌঁছে দিত। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রায় ১১ বার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কোনো অভিযানেই সফল হয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালের জুলাই মাসে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। তারপর আর বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ।

ঢাকা রেলওয়ে বিভাগীয় প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রেলপথমন্ত্রী ও রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তিনি টানা অভিযান পরিচালনা করছেন। কলোনির ভেতরে অবৈধ বস্তিসহ হাজার হাজার স্থাপনা রয়েছে। আমরা এক এক করে সব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছি। এ কলোনির ভেতর কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকবে না। আপনার প্রতি হুমকি আসছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, হুমকি-ধমকি তো আসছেই, কিন্তু কোনো কিছুতেই এবার আর পিছু হটব না। যে কোনো মূল্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কোনো দলীয় কার্যালয় থাকবে না, এক এক করে সব উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ক্লাব-কোচিং সেন্টার, সামাজিক সংগঠনে ভরা ছিল এ কলোনি। এক এক করে সব গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। কলোনিতে মির্জা আব্বাস ও খালেদের নামে দুটি অবৈধ বাজার ছিল। ইতিমধ্যে বাজার দুটি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

কলোনির বস্তিসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির সংযোগ ছিল জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থাপনায় বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির লাইনও অবৈধ ছিল। প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এসব স্থাপনা থেকে মাসোহারা পেতেন। ১১ বছর ধরে অবৈধভাবে এ কলোনির ভেতর কোরবানির পশুর হাট বসাত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ। রেলওয়ে থেকে বাধা দেয়া হলেও তা কোনো দিন মানা হয়নি। গত ঈদেও খালেদ মাহমুদের নেতৃত্বে পশুর হাট বসানো হয়। মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত এ কলোনিতে মাদক কেনা-বেচা চলত। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এখান থেকে যে আয় হয় তার ভাগ পেতেন। কলোনি অঞ্চলের অবৈধ স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করতে ‘বাংলদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’ ও ‘শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগ কার্যালয়’ নামে দুটি ক্লাব গড়ে তোলা হয়। এ দুই ক্লাবে বখাটেদের আড্ডার পাশাপাশি জুয়ার আসরও বসত বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। কোয়ার্টারের ভেতর রেলওয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ কার্যালয়ও গড়ে উঠেছে। এ কার্যালয় ঘিরে গড়ে উঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা।

ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা একটি পরিকল্পনা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। কেউ যদি পুনরায় এ কলোনিতে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলেই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এখন থেকে আর কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কোনো কোচিং সেন্টার কিংবা সামাজিক সংগঠন থাকবে না এ কলোনিতে। যে সব বাসায় রেলওয়ে কর্মচারী থাকছেন না সেই সব বাসাও চিহ্নিত করা হচ্ছে। যাদের নামে বরাদ্দ তারা যদি সেই বাসায় না থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×