হ্যালো মেয়র

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)

  মতিন আবদুল্লাহ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র
ঢাকা উত্তর অংশের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি।

নগরবাসীকে আরও উন্নত নাগরিক সেবা দিতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে উত্তর ও দক্ষিণ- দুই অংশে ভাগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর অংশের নগরপিতা হন আনিসুল হক। তার মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেন প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি। মেয়র হিসেবে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা, নগরের বিভিন্ন সমস্যা ও এর সমাধান নিয়ে যুগান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন মো. ওসমান গণি। যুগান্তরের পক্ষে সাক্ষাৎকার নেন -মতিন আবদুল্লাহ

যুগান্তর : মেয়রের দায়িত্ব কেমন উপভোগ করছেন?

ওসমান গণি : নানা জটিলতার ভুগছি। এরমধ্যে অন্যতম জলাবদ্ধতা নিরসন চ্যালেঞ্জ, মশার উপদ্রব, বর্জ্যব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো কাজ শেষ করা। আসছে বর্ষার মৌসুম। এ মৌসুমে গত বছর আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। এবার যেন সেরকম না হয়, সেজন্য ড্রেনগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিষ্কার করা হচ্ছে। আর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে খালগুলোর দখল ও ভরাটমুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। ঢাকা ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে মন্ত্রণালয় একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

যুগান্তর : ডিএনসিসি এলাকার জলাবদ্ধতার মূল কারণ কী?

ওসমান গণি : ঢাকার অন্য এলাকার জলাবদ্ধতা এবং ডিএনসিসি এলাকার জলাবদ্ধতার একই কারণ। ২০ বছর আগে ঢাকার আশপাশে অনেক নিচুজমি ছিল। সেসব জমিতে ধানসহ শাক-সবজি চাষ করা হতো। বর্ষার মৌসুমে এসব নিচু জমিতে বৃষ্টির পানি জমা হতো। এ কারণে সে সময় ঢাকা শহরে কোনো জলাবদ্ধতা হতো না। সরকারি-বেসরকারিভাবে এসব নিচুজমি ভরাট করে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো তৈরি করায় পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বর্ষার মৌসুমে পানি বের হতে পারে না। তাছাড়া এখনও যে জলাধার, খাল ও ডোবানালা রয়েছে, অসচেতন নগরবাসী সেসব ভরাট করে ফেলছে আবর্জনা দিয়ে। এ কারণে অনেক চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলছে না। এজন্য সরকারি সংস্থার উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। সবাই মিলেই ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে গড়ে তোলার কাজ করতে হবে। আর এবার নগরবাসীকে এতটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, গত বর্ষার চেয়ে এবারের বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে।

যুগান্তর : মশার উপদ্রবে নগরবাসী অতিষ্ঠ, প্রতিকার মিলছে না কেন?

ওসমান গণি : হ্যাঁ, সঠিক কথা বলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব অনেক বেড়েছে। এটা মশার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় উপদ্রব বাড়ছে। ইতিমধ্যে ডিএনসিসি স্বাস্থ্য বিভাগের সব জনবল, কাউন্সিলর এবং ডিএনসিসির কল্যাণ সমিতির নেতাদের নিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে আমাদের। যেমন- সব ড্রেন উন্মুক্ত ও প্রবাহমান নয়। এ কারণে নগরীর ড্রেনের সর্বত্র মশার লার্ভা নিধন ওষুধ লার্বিসাইট ছিটানো সম্ভব হয় না। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এর বাইরে ডিএনসিসি এলাকায় যে জলাধার রয়েছে, সব ডিএনসিসির নয়। আর ডিএনসিসির জলাধার না হলে সেসব আমরা পরিষ্কারও করতে পারি না। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এক্ষেত্রেও নগরবাসীর সচেতনতা দরকার রয়েছে। তবে নগরবাসীর সুবিধার জন্য দুটো হটলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটা নগরবাসীকে জানিয়ে দেয়া হবে। এই দুটি নম্বর ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, যে কোনো নগরবাসী এসব নম্বরে ফোন করে তাদের এলাকার মশার উপদ্রব বৃদ্ধির কারণ জানালেও সেসব সমস্যা দূর করতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

যুগান্তর : আমিন বাজার ল্যান্ডফিল পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে, এর সমাধান নিয়ে কোনো চিন্তা করছেন কি?

ওসমান গণি : হ্যাঁ, সঠিক বলেছেন। আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। সেসব সমস্যার সমাধানের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আমি আমিন বাজার ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ল্যান্ডফিলের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে।

যুগান্তর : বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার কোনো চিন্তা করছেন কিনা?

ওসমান গণি : এটা নিয়ে তো অনেক দিন থেকে নানা ধরনের কার্যক্রম চলছে। কিন্তু কোনোটাই বাস্তবে রূপ দেয়া সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে জাপানি একটি প্রতিনিধি দল এসেছিল, আমি তাদের বলেছি, দ্রুত সময়ে কিছু করতে হবে। তারা আমাকে আশ্বস্ত করেছে, দ্রুত সময়ে বর্জ্য থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা বর্জ্য থেকে অন্য কিছু করার প্রচেষ্টা চালাবেন। এ ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়কে আমাদের ইতিবাচক মতামত জানিয়ে একটি চিঠিও দিয়েছি। এ লক্ষ্যে ঢাকার নাসিরাবাদে আধুনিক মানের নতুন একটি ল্যান্ডফিল তৈরিরও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অল্পসময়ের ব্যবধানে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখতে পারে বলে আশা করছি।

যুগান্তর : ডিএনসিসির জনবল সংকটের কথা বলা হচ্ছে অনেক দিন থেকে, কিন্তু সমাধান হচ্ছে না কেন?

ওসমান গণি : হ্যাঁ, আপনি সঠিক বলেছেন। ডিএনসিসি অনেক কম জনবল নিয়ে কাজ করছে। আর এভাবে কাজ করতে রীতিমতো নাকাল হতে হচ্ছে আমাদের। এ বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি এবং নতুন সাংগাঠনিক কাঠামো প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছি। আমাদের সাংগাঠনিক কাঠামোতে তেমন কোনো ত্র“টি নেই। কিন্তু ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে মিলানোর জন্য দেরি করা হচ্ছে। শুনেছি, ঢাকা দক্ষিণের সাংগাঠনিক কাঠামো এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি। এটা নিয়ে আমরা জোরতৎপরতা চালাচ্ছি। এটা তাড়াতাড়ি অনুমোদন না হলে ডিএনসিসিভুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

যুগান্তর : বর্তমান সময়ে ডিএনসিসি এলাকার উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

ওসমান গণি : ডিএনসিসি এলাকার উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে কোনো আপস করা হচ্ছে না। যারা এসব বলছেন, সেসব সঠিক না। খুবই যাচাই-বাছাই করে উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে এটা সত্য যে, মামলাসহ কিছু বাস্তবতার কারণে মিরপুর এলাকার কয়েকটি সড়ক সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে। কেননা, ওই এলাকার ১০-১৫ ফুট সড়কগুলোকে ৩০-৬০ ফুট পর্যন্ত প্রশ্বস্ত করা হয়েছে। এসব নিয়ে মামলাসহ বেশকিছু জটিলতা মোকাবেলা করছি আমরা।

যুগান্তর : ডিএনসিসিতে দুর্নীতি জেঁকে বসেছে, অনেকের এমন অভিযোগ, এ ব্যাপারে আপনার মূল্যায়ন কী?

ওসমান গণি : এটা একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ। দুর্নীতি এবং কাজের মানের ব্যাপারে কোনো আপস করছি না। যারা এসব কথা বলছেন, তাদের ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কেননা, অনেকে আমার কাছে অনেক রকম দাবি-দাওয়া নিয়ে আসছেন, আইন-কানুন মেনে কাজ করায় সবার দাবি-দাওয়া পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এটা কারও পক্ষে সম্ভবও না। আইন-কানুন মেনে ডিএনসিসি তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এতে কে খুশি হল, আর কে বেজার হল, সেসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না ডিএনসিসি।

যুগান্তর : আপনার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলবেন?

ওসমান গণি : ঢাকা শহরকে আরও বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকারের চিন্তা-বাস্তবায়ন করতে ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের রুটিন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, সাইনবোর্ডে বাংলা লেখা নিশ্চিতকরণ অভিযান। এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে। নতুন করে অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ অভিযান শুরু করা হবে। যেসব অবৈধশক্তি নগরীর বাসযোগ্যতা বিনষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, এদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না, সে যেই হোক না কেন?

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.