মাতুয়াইলে পানিবন্দি মানুষ

বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

  খোরশেদ আলম শিকদার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএনডির খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে সারা বছরই পানিবন্দি থাকে মাতুয়াইল দক্ষিণপাড়া, শামীমবাগ, নাছিরাবাদ, তুষারধারা আবাসিক এলাকা, গিরিধারা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার মুন্সীবাগ ও শহিদবাগ এলাকার বাসিন্দারা। তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতে হয় বাঁশের সাঁকো অথবা নৌকা দিয়ে। এ স্থানটি পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবগঠিত ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের (সাবেক মাতুয়াইল ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডে)।

শুধু তাই নয়, এ বাঁধের কারণে যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শেখদী, দোলাইর পাড়, দনিয়া, জুরাইন, শ্যামপুর, মোহাম্মদবাগ, কদমতলী, মেরাজনগর, রায়েবাগ, মাতুয়াইলসহ ওই এলাকা পয়োনিষ্কাশনের পানিতে তলিয়ে যায়। আর বৃষ্টি হলে কোমর পানি হয়। মাছ চাষ ঘেরের এমন দৃশ্য প্রকাশ্যে হলেও এ যেন কারও বলার কিছু নেই। সরেজমিন জানা যায়, রুবেল, সেন্টু, আলম, চাকলা, সাইফুল, মাজু, দেওয়ান, সাইদুর রহমান কেরি, নজুসহ আরও তিন-চারজন তাদের জমির কিছু অংশকে পুঁজি করে, কেউ আবার কিছু জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করে আসছেন। মাতুয়াইল মেডিকেল রোডের শামীমবাগ থেকে তালেব সাহেবের বাড়ি হয়ে মুন্সীবাগ সড়কটি দুই বছর আগে এলাকাবাসী দুই লাখ টাকা দিয়ে সড়কের কিছু অংশে মাটি ভরাট করে। খাল ও জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে সড়কটি পানিতে ডুবে রয়েছে। ফলে চাষের তেলাপিয়া, পাঙ্গাস মাছসহ বিভিন্ন রাক্ষুসে মাছ সড়কের মাটি খেয়ে সড়ক ভেঙে ফেলেছে। এভাবে এলাকার অসংখ্য সড়ক বাঁধের কারণে পানিতে ডুবে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে ডুবে যায় তুষারধারা মহিউদ্দিন বাদল কলেজিয়েট স্কুল রোড, কেনেলপাড় সড়কসহ এলকায় অলি গলি। এ ছাড়াও যেসব জমিতে চাষাবাদ হতো সেই জমিতে এখন কোথাও গলা পানি, আবার কোথাও হাঁটু পানি। এ শুকনা মৌসুমে বাসাবাড়ির পয়োনিষ্কাশনের পানিতেই এখন যেন বর্ষাকাল। আর বৃষ্টি হলে ওই এলাকায় থাকে বুক পানি। ফলে বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

শামীমবাগ এলাকার একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি খালে ও ফসলি জমিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় কয়েক লাখ বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ ছাড়াও জমিতে পানি থাকায় অনেক জায়গার মালিকরা নির্মাণসামগ্রী নিতে না পেরে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছে না। ১২ বছর যাবত কষ্ট ভোগ করে আসছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এলাকায় রয়েছে মহিউদ্দিন বাদল কলেজিয়েট স্কুল, তুষারধারা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইম্পেরিয়াল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুসলিম আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ প্রায় ১৫টি মাদ্রাসা ও কিন্ডারগার্টেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভিজে যেতে হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে দুর্গন্ধময় পানি ও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা। এর মধ্যে এলাকায় ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকায় মাদকাসক্ত বখাটেদেরদের আনাগোনায় ভয় আতঙ্কে বসবাস করেন বাসিন্দারা। এর মধ্যে বাসাবাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বাইরে থেকে খাবার খেতে হয়।

দনিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হাসান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর যুগান্তরকে বলেন, সাইনবোর্ড নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের কালভার্টের দু’পাশে ময়লায় ভরপুর। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে পরিষ্কার করা না হলে শনিরআখড়া, রসুলবাগ, কদমতলী, মোহাম্মদবাগ, রায়েরবাগ, পলাশপুরসহ ডিএনডি অধ্যুষিত এলাকা ডুবে যাবে। মাতুয়াইল ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার রুহুল কুদ্দুস গাজী যুগান্তরকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে শনিরআখড়া, জুরাইন, শ্যামপুর, কদমতলীসহ ওই এলাকার পানি সাইনবোর্ড-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের কালভার্টের নিচ দিয়ে শিমরাইল পাম্প হাউসে যেতে হয়। অথচ নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের কালভার্টের সামনে খালের মুখ ভরাট করে দোকানপাট করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডিএনডির খালের অধিকাংশ স্থানে ময়লায় খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। তা ছাড়া খালগুলো আঁকাবাঁকা করা হয়েছে। খালগুলো যখন করা হয় এবং পরিষ্কার করা হয়, তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি লোকজনদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে কাজ করা হলে ভালো হতো। মাতুয়াইল ইউপির চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. রাশেদ আলী (লালু) যুগান্তরকে বলেন, জনগণের কষ্ট হোক এমন কোনো কাজ কারোই করা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, দু’চারজন ব্যক্তির মাছ চাষের কারণে লাখ লাখ বাসিন্দার দুর্ভোগ, তা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.