ভাঙাচোরা ৩০ শতাংশ সড়ক

অন্তহীন দুর্ভোগে নাকাল নগরবাসী

  মতিন আবদুল্লাহ ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তহীন দুর্ভোগে নাকাল নগরবাসী
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তা খুঁড়ে রাখায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। মতিঝিল কালভার্ট রোড থেকে তোলা ছবি- যুগান্তর

বৃষ্টি-জলাবদ্ধতা ও উন্নয়ন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে নগরীর প্রায় ৩০ শতাংশ সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ অবস্থায় সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। ঢাকার দুই সিটির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ভোগান্তির মাত্রা কয়েকগুণ বেশি হচ্ছে। খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচলে প্রতিনিয়তই মানুষ পড়ে বা গাড়ি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সড়ক সংস্কারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

জানা যায়, সম্প্রসারিত এলাকা বাদে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সড়কের পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের কিছু বেশি।

এর মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলমান মেট্রোরেলের কাজের কারণে মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকার প্রধান সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এছাড়া গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নির্মাণাধীন বাস রুট ট্রানজিটের (বিআরটি) কারণে আবদুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। আর বৃষ্টিজনিত কারণে জলাবদ্ধতা, ঢাকা ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়িতে সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে।

মহানগরীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়া, বনশ্রী, বাড্ডা, মিরপুরের প্রধান সড়কসহ অলিগলির সড়কগুলো বেহাল। একই অবস্থা বিরাজ করছে মহানগরীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান, বছিলা আবাসিক এলাকার সড়কেরও। গোলাপবাগ, শাহজাহানপুর, মানিকনগর, তিলপাপাড়া, জুরাইন, লালবাগ, বাবুবাজার, হাজারীবাগ এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শরীফ উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘বৃষ্টি-জলাবদ্ধতা এবং উন্নয়ন কাজের কারণে উত্তর সিটির ২৫-৩০ শতাংশ সড়ক ভেঙেচুরে গেছে। সেগুলোর সংস্কার কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিগগিরই সেসব সড়ক সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা সড়ক সংস্কার করলেও অন্যান্য সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ঠিক রাখতে পারি না। যদিও পরে সেসব সংস্কার করা হয়; কিন্তু আগের মতো হয় না।

অনেক চেষ্টা করেও বিদ্যমান সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না।’ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, বৃষ্টি-জলাবদ্ধতা এবং উন্নয়ন কাজের কারণে দক্ষিণ সিটির কিছু সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। সেসব সড়ক সংস্কারের লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভাঙাচোরা সড়কের পরিমাণ ১০ শতাংশ হতে পারে। আর উন্নয়ন কাজ চলছে এমন সড়কের পরিমাণ ১৫-২০ শতাংশ হতে পারে। সড়কের দুর্ভোগ কমাতে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন আন্তরিকতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, লালবাগ কেল্লার মোড় বাজার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই চিত্র কেল্লার মোড় টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে পোস্তা সড়কের এবং পোস্তা মোড় থেকে লালবাগ চৌরাস্তামুখো সড়কটিতে পিচ ঢালাই বলতে কিছু নেই।

মহানগরীর মানিকনগর এলাকার সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনের উন্নয়ন কাজের কারণে ওই এলাকার প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

বেখেয়াল হয়ে চলাচলের সময় এসব গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। বছিলা আবাসিক এলাকার ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুল সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এ সড়কে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ মাড়াতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ বাসস্ট্যান্ড থেকে বছিলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কে বৃষ্টির পানি জমে অংশবিশেষ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সড়কে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

আর উন্নয়ন কাজের ক্ষেত্রেও সড়ক খনন নীতিমালা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিল থেকে ৩০ অক্টোবর ঢাকা শহরের সড়ক খনন বন্ধ রাখার কথা। এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের। অবাক হলেও সত্য, সড়ক খনন বন্ধ রাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত এ দুই সংস্থাও এ নীতিমালা মানছে না।

চলমান বর্ষার মৌসুমে ভারি বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটুপানি জমে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়া, মাজার রোড, ১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, সাংবাদিক কলোনি ও কালশী এলাকার সড়কের করুণ অবস্থা।

এর বাইরে কুড়িল প্রগতি সরণি, কারওয়ান বাজার, ধানমণ্ডির মধুবাগ, রায়ের বাজার, শান্তিনগর, রাজারবাগ, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, মতিঝিল, পুরান ঢাকার আলাউদ্দিন রোড ও নাজিম উদ্দিন রোডেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। ভাঙাচোরা জলাবদ্ধ সড়কে নগরবাসীর বর্ণনাতীত দুর্ভোগ মাড়াতে হচ্ছে।

লালবাগ কেল্লার মোড় বাজার এলাকার বাসিন্দা কাজী সাগর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘বছরদুয়েক আগে এ সড়কটি নতুন করে তৈরি করা হয়। সেসময় প্রকৌশলীরা বলেছিলেন, পাঁচ বছরেও সড়কের কিছু হবে না। বিগত দুবছর ভালোই চলেছে সড়কটি। তবে এবারের বর্ষার মৌসুমে সড়কটি বেহাল হয়েছে।

মোহাম্মদপুর বছিলা এলাকার বাসিন্দা মো. মমিনুল হক যুগান্তরকে বলেন, বছিলা আবাসিক এলাকা এবং মোহাম্মদপুর থেকে বছিলা ব্রিজ সড়কটি করুণ। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুপানি জমে যায়। এ সড়কের পিচ ঢালাই উঠে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে। চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×