রানাভোলা এভিনিউয়ের অবৈধ স্থাপনা: দীর্ঘদিনেও হচ্ছে না উচ্ছেদ

  উত্তরা প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রানাভোলা এভিনিউয়ের অবৈধ স্থাপনা: দীর্ঘদিনেও হচ্ছে না উচ্ছেদ
উত্তরা রানাভোলা এভিনিউয়ে রাস্তার দুপাশে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। অজ্ঞাত কারণে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে না। ছবি: যুগান্তর

উত্তরা ১০নং সেক্টর ১৩নং রোডের (রানাভোলা এভিনিউ) অবৈধ স্থাপনা দীর্ঘদিনেও উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। স্লুইসগেট থেকে সাহেব আলী মাদ্রাসা পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কটির দুই পাশে গড়ে উঠেছে কাঁচাবাজার, কাঠ, বাঁশ, মুদি ও চা-পানের দোকান, নার্সারি ও হোটেল।

এমনকি ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ও করা হয়েছে। ১০নং সেক্টর কল্যাণ সমিতি বারবার অভিযোগ করলেও অজ্ঞাত কারণে উচ্ছেদের আওতায় আসছে না এসব অবৈধ স্থাপনা।

একাধিক এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকার দলীয় প্রভাবশালী মহল ও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব কার্যালয় টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায়, স্লুইসগেট মসজিদ ঘিরে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল, মুদি ও মাছ-তরকারির অর্ধশতাধিক দোকান। একটু উত্তরে বিশাল জায়গা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়।

নির্মাণসামগ্রী- ইট, পাথর, খোয়া, বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করছে কেউ কেউ। ভার্সিটি গেট সংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ের একপাশে শ্রমিক লীগের কার্যালয় রয়েছে। অপর পাশে ২০-২৫টি টিন, কাঠ, বাঁশের তৈরি চা-পান ও মুদি দোকান এবং খাবার হোটেল।

একটু এগোতেই পাইকারি বাঁশ ও কাঠের দোকান। কামারপাড়া বাস স্টপেজ পেরিয়ে সাহেব আলী মাদ্রাসা পর্যন্ত খাবার হোটেল, চা-পানের দোকান, গজারি কাঠের ব্যবসা, চোরাই তেলের ব্যবসার ঝুপড়ি এবং রিকসা ও গাড়ির গ্যারেজ রয়েছে।

উত্তরা ১০নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি রঞ্জন কুমার বণিক যুগান্তরকে বলেন, রাজউক ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মালিকানাধীন ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে দলীয় প্রভাবশালী লোকজন।

তিনি বলেন, মাঝে মাঝে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগে পুরো এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। কিন্তু সম্প্রতি আবার কিছু অসাধু লোক অবৈধভাবে স্থাপনা তুলে ব্যবসা করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, ১০নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগির উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন চন্দ্র সাহা যুগান্তরকে বলেন, কোথাও অবৈধ স্থাপনা হচ্ছে জানতে পারলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ওই রোডে রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন জমিতে কোনো স্থাপনাই তিনি থাকতে দেবেন না।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল হক যুগান্তরকে বলেন, প্লট হস্তান্তর করার পরে ওই প্লটে যদি কোনো অবৈধ স্থাপনা বা অন্য কিছু হয়, সেক্ষেত্রে প্লট মালিক লিখিত আবেদন করলে রাজউক থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

আর ১০নং সেক্টরের ১৩নং রাস্তাটি আমরা সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করেছি। তাছাড়া ওই এলাকায় কল্যাণ সমিতি আছে তারা যদি লিখিত আবেদন করে সে ক্ষেত্রে রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী আফছার উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, তিনি মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে উচ্ছেদের পদক্ষেপ নেবেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×