মৌলভীবাজার ও বেগমবাজার: অবাধে বিক্রি ভেজাল শিশুখাদ্য

  কাওসার মাহমুদ ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৌলভীবাজার-বেগমবাজার: অবাধে বিক্রি ভেজাল শিশুখাদ্য
ফাইল ছবি

রাজধানী থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে ভেজাল শিশুখাদ্য। মান নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউটের (বিএসটিআই) কোনো লাইসেন্স ছাড়াই এসব শিশু খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রয় করা হচ্ছে।

নগরীর অন্যতম পাইকারি বাজার মৌলভীবাজার ও বেগমবাজারে কয়েকশ’ দোকানে নাম-লোগোহীন প্যাকেটজাত দুধ, হরলিক্স, সয়া বিটামিন, চকলেট, ললিপপ, আচার, আমসত্ত্ব ও আইসক্রিমসহ নানারকম মুখরোচক খাবার বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব খাদ্যপণ্য হাতবদল হয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোকানগুলোতে পৌঁছে যাচ্ছে। বছরের পর বছর এসব খাদ্যপণ্য বিক্রয় করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নির্বিকার।

বেগমবাজারের আবুল কালাম, হাবিবুবুর রহমান, জয়নাল হোসেনসহ একাধিক ব্যবসায়ী যুগান্তরকে বলেন, খেলনা সমেত এসব খাদ্যপণ্যশিশুরাই খেয়ে থাকে। এগুলো বছরের পর বছর এভাবেই উৎপাদন ও বিক্রয় হচ্ছে। বিএসটিআই বা অন্য কোনো সংস্থা এসব খাবারের বিষয়ে তদারকি করে না বলে জানান তারা।

জানা গেছে, শিশুখাদ্যের অন্যতম হল প্যাকেটজাত দুধ ও পুষ্টি (নিউট্রিশন)। ভারতীয় বস্তা দুধ কিনে এসব খাদ্য প্যাকেট করে বাজারে বিক্রয় করা হচ্ছে। গুঁড়ো দুধের মেয়াদ শেষ হলে আবার সেগুলোতে তারিখ বসিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন।

কোনো কোনো সময় দুধের প্যাকেট পরিবর্তন করে বিক্রি করা হচ্ছে। আর নিউট্রিশনে বাদাম, দুধ, সয়াবিন, ফুড গ্রেট কালার, চিনি, গ্লুকোজ মিশিয়ে বানানো হচ্ছে। আর চকালেট ক্যান্ডি, ললিপপ, জিংক, সাইট্রিক এসিড, গ্লুকোজ, হাইড্রোজেন চিনি, নারিকেলের নির্যাস, স্যাকারিন, ফুড গ্রেট কালার ও প্রিজারভেটিভ দিয়ে বানানো হচ্ছে।

এছাড়া পাইপ আইসক্রিম বানানো হচ্ছে স্যাকারিন, চিনি, পানি ও বিভিন্ন রংয়ের সংমিশ্রণে। তবে এসব খাদ্য ক্ষতিকর নয় বলে দাবি করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। বেগম বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের মাধ্যমে এসব খাদ্য বাজারজাত করা হয়।

মৌলভীবাজার ও বেগমবাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ রাজ্জাক ভেজাল খাদ্য, দুগ্ধজাত পণ্য রিপ্যাকিং ও তারিখ পার হওয়ার পরও কিছু ব্যবসায়ী বিক্রি করেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখানকার অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

তাই কোনো পাণ্যের তারিখ পার হয়ে গেলে তাদের অনেক লোকসান গুনতে হয়। আবার আশি শতাংশ কোম্পানি এসব মালামাল ফেরতও নেয় না। অনেকটা বাধ্য হয়েই তারা এসব পণ্য বিক্রি করেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমরা নিয়মিত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছি। মধ্যখানে আমাদের অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়েছিল। আশা করি চলতি মাসে অভিযান পুরোদমে শুরু হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×