ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক: বাড়ছে অপ্রাপ্তবয়সী চালক

অধিকাংশেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অভিজ্ঞতা

  ডেমরা প্রতিনিধি ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়ক
ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে পরিবহন সেক্টরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অপ্রাপ্তবয়সী চালকের সংখ্যা। ফলে বেশিরভাগ চালকই অদক্ষ। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। ছবি: যুগান্তর

নগরীর ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে পরিবহন সেক্টরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে অপ্রাপ্তবয়সী চালকের সংখ্যা। ফলে বেশিরভাগ চালকই অদক্ষ। তাদের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই।

সে সঙ্গে কনডাক্টর ও হেলপারদের মধ্যেও অনেকে রয়েছে অপ্রাপ্তবয়সী। এছাড়া চালক ও হেলপাররা মাদকাসক্ত হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর মাদকাসক্ত চালকরা নেশা ছাড়া যানবাহন চালাতে পারে না বলে জানা গেছে।

গাড়ি চালানোর সময় অতিমাত্রায় নেশাগ্রস্ত থাকে বলে বেপরোয়া হয়ে ওঠে চালক ও হেলপাররা। প্রতিবাদ জানালে যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে তারা। বর্তমানে জিম্মিদশায় রয়েছেন এখানকার যাত্রী সাধারণ।

পরিবহন সেক্টরের এসব কথা জেনেও অপ্রাপ্তবয়সী চালক-হেলপারদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে যানবাহন। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে দুর্ঘটনা, তেমনি বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এছাড়া ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কের পরিবহন সেক্টরেও ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, রাজধানীর ব্যস্ততম ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। এর মধ্যে ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে ডেমরা থেকে গুলিস্তান রুটে চলাচল করে ১২০টি বাস।

যাত্রীবাহী লেগুনা চলে ১শ’, ৩ শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ৩শ’ পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। অভ্যন্তরীণভাবে চলাচল করে দুই সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মিশুক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

ডেমরা-রামপুরা সড়কে ডেমরা থেকে মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এবং মেরাদিয়া থেকে মিরপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলে পৌনে ৪শ’ বাস ও ২০ থেকে ২২টি যাত্রীবাহী লেগুনা। অভিযোগ রয়েছে- আশঙ্কাজনক হারে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনা সেক্টরে। অন্য যানবাহনের তুলনায় বাস ও লেগুনার ৯৮ শতাংশ চালক ও হেলপাররা গাঁজা ও ইয়াবায় আসক্ত। গাড়ি চালানো অবস্থায় তারা অতিমাত্রায় নেশা না করলে গাড়ি চালাতে পারে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই এ আসক্তি দিনে দিনে বাড়ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মহলের।

আর পরিবহন সেক্টরের মালিকরা এসব বিষয় জেনেও নির্দিধায় ওইসব মাদকাসক্ত চালকদের হাতে যানবাহনের চাবি তুলে দিচ্ছেন। তবে পরিবহনের মালিকরা বলছেন, অতিমাত্রায় চালক স্বল্পতা ও বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কারণে বাধ্য হয়ে মাদকাসক্ত চালকদের হাতে গাড়ি বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। আর ট্রাফিক বিভাগ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের চরম অন্যায় হলেও ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তারা যেন নির্বিকার বলে অভিমত অভিজ্ঞমহলের।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কের অধিকাংশ যানবাহনচালক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও গাড়ি চালানোর অযোগ্য। অধিকাংশেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ি চালানোসহ ট্রাফিক আইনবিষয়ক অভিজ্ঞতা।

আর নেশার ঘোরে চালকরা প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায়। ট্রাফিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে সড়কে যে যার মতো যখন তখন বেপরোয়া গাড়ি চালায়।

ভাড়া ও অন্যান্য ছোট ছোট বিষয় নিয়ে প্রায়ই চালক-হেলপাররা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ অচরণ করে। বাকবিতণ্ডা হলে অনেক সময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে ফেলে দেয়ার হুমকিও দেয় তারা। এতে যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

চালক শ্রেণীর অভিযোগ- পরিবহন মালিকরা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ট্রিপের টার্গেট দিয়ে আমাদের রাস্তায় নামায়। তাই টানা পরিশ্রম শরীরে কুলায়না বলে তারা ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করে। স্বাভাবিক নিয়মে বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করলে এমনটি হতো না।

এ বিষয়ে ডেমরা জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পরিবহন সেক্টরে দেশের সব জায়গার চিত্র একইরকম। তাই চালক শ্রেণীসহ পরিবহন সেক্টরে প্রতিনিয়ত আমাদের মনিটরিং রয়েছে।

প্রায়ই আমরা পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সভা করি যাতে অদক্ষ ও নেশাগ্রস্ত চালকদের হাতে গাড়ি না দেয়া হয়। আর ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্ত চালকদের চিহ্নিত করা খুব সহজ যা দ্রুত রাস্তায় বাস্তবায়ন হবে।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. সাহেদ আল মাসুদ মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, পরিবহন সেক্টরে মাদকের আগ্রাসনের বিষয়গুলো নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয় খুবই জরুরি।

সবেমাত্র সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পহেলা নভেম্বর থেকে কার্যকর হলেও এ আইন সম্পর্কে সবাই অবগত নয়। তাই সময়সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করে সহনীয় পর্যায়ে শক্তিশালী এ আইনের বাস্তবায়ন করা হবে।

এক্ষেত্রে অ্যালকোহল ডিটেক্টর দিয়ে ৪ সেকেন্ডেই জানা যাবে চালক মাদকাসক্ত কিনা। আর স্পিডগানের সাহায্যে মুহূর্তেই নির্ণয় হবে চলন্ত যানবাহনের গতিবেগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×