ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন : ২ নম্বর ওয়ার্ড

নাগরিক অধিকার শতভাগ প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসি
ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক অধিকার শতভাগ প্রতিষ্ঠা করতে চান সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ওয়ার্ডটিতে ডিএসসিসির চলমান উন্নয়নের ধারাও অব্যাহত রাখতে চান তারা।

এছাড়াও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নসহ সর্বাধুনিক ডিজিটাল ওয়ার্ড গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ওয়ার্ডটিতে সুষ্ঠু স্যুয়ারেজ ব্যস্থাপনাসহ পরিকল্পিত ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেছেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

খিলগাঁও থানাধীন ডিএসসিসি ২ নম্বর ওয়ার্ডটি (খিলগাঁও অঞ্চল-২) আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এটি ঢাকা-৯ আসনের অন্তর্ভুক্ত। এ ওয়ার্ডটিতে ভোটার সংখ্যা ৭৩ হাজার হলেও এখানে ৭ লাখ মানুষের বসবাস।

এখানে প্রায় চার হাজার ৮০০ হোল্ডিং রয়েছে। উত্তর গোড়ান, দক্ষিণ গোড়ান, পূর্ব গোড়ান, সিদ্দিকবাজার, শান্তিপুর এলাকা, ছাপড়া মসজিদ এলাকা, আদর্শ স্কুল এলাকা ও দক্ষিণ বনশ্রীর এ-ব্লক থেকে এল ব্লক নিয়ে এ ওয়ার্ড গঠিত।

ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন- ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর চৌধুরী, ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আনিসুর রহমান সরকার, ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দীন মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রজ্জাক রুবেল, খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম ভুট্টু।

বিএনপির পক্ষ থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মাসুদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমানের নাম শোনা গেছে। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকলেই বিএনপি প্রার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

ডিএসসিসি ২ নম্বর ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সড়কে নর্দমাসহ চলছে উন্নয়ন কাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন বাসিন্দারা। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত সড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে এখানকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোসহ সর্বত্রই সড়কে তীব্র যানজট লেগেই থাকে। তাছাড়া এখানে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাহীন অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। ব্যাটারিচালিত অবৈধ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বেশি থাকায় সড়কে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা লেগেই থাকে।

তাছাড়া এলাকার সর্বত্রই নোংরা পরিবেশ ও ধুলাবালি বেশি থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেশি। সন্ধ্যা নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণ শুরু হয়। এখানকার সড়কের দু’পাশেই এলোমেলোভাবে পার্কিং করা থাকে ব্যক্তিগত গাড়িসহ শত শত রিকশা। এখানে গাড়ি পার্কিংয়ের আলাদা সু-ব্যবস্থা দেখা যায়নি।

বৃষ্টি হলেই সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই পানি নামতেও দীর্ঘ সময় লাগে। এখানে ডিএসসিসির কোনো কমিউনিটি সেন্টার না থাকায় নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের বেলায় বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়।

এছাড়াও এখানে সরকারি স্কুল ও কলেজ নেই। নেই কোনো সরকারি হাসপাতাল, পাবলিক লাইব্রেরি, শিশুপার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র। ওয়ার্ডটিতে দ্রুত শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

ডিএসসিসি ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিসুর রহমান সরকার যুগান্তরকে বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি উন্নয়ন হয়েছে এ ওয়ার্ডে, যা দৃশ্যমান। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নকাজ করেছি। দক্ষিণ বনশ্রীতে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ ৭০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

পূর্ব উত্তর ও দক্ষিণ গোড়ানে ইতিমধ্যে ১০০ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ওয়ার্ডের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে ২ হাজার এলইডি বাতি স্থাপন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ২০০ সিসি ক্যামেরা, শাখা রোডগুলোতে প্রায় আড়াইশ’ নিরাপত্তা গেট স্থাপন করা হয়েছে।

ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দীন মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, বাবার আমল থেকেই পারিবারিকভাবে আমরা সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে জড়িত। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রবেশ।

ক্লিন ইমেজ নিয়েই এলাকার ক্রীড়া সংগঠন, মসজিদ-মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিত্ব করে সেবা করছি। বিগত দিনে এলাকার সার্বিক উন্নয়নেও ছিল আমার বিশেষ ভূমিকা। দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজাব।

এলাকার ছেলে হিসেবে ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। এ ওয়ার্ডটিকে সর্বাধুনিক নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন ওয়ার্ডে রূপান্তর করাই আমার লক্ষ্য। ওয়ার্ডটিকে আধুনিক শিক্ষা জোন হিসেবে আরও ঢেলে সাজাতে চাই।

মাকদমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এলাকা থেকে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দূর করে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

তাছাড়া এখানে স্থায়ী একটি বাজার ও কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা আমার মূল লক্ষ্য। খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান বলেন, দল থেকে মনোনয়নের আশা নিয়ে আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

আমি নির্বাচিত হলে এ ওয়ার্ডের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। সবার জন্য বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলব। ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কাজ করব। যাতে বৃষ্টির পানি ওয়ার্ডে কখনোই না জমে।

গোড়ান শেখ রাসেল খেলার মাঠের উন্নয়নসহ সরু রাস্তাগুলো প্রশস্ত করব। এলাকার উন্নয়নের মাধ্যমে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সুনাম ধরে রাখব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×