ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০ : ২৯ নম্বর ওয়ার্ড

পরিবেশ দূষণরোধে কাজ করার অঙ্গীকার

  কাওসার মাহমুদ ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশ দূষণরোধ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯ নম্বর ওয়ার্ডকে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে বর্ষার জলাবদ্ধতা নিরসন করতে চান তারা। মাদক নিয়ন্ত্রণ, মশক সমস্যা সমাধান করারও অঙ্গীকার করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পরিকল্পিত ও প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করে সর্বাধুনিক মডেল ওয়ার্ড গড়তে কাজ করবেন তারা। কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার, পাঠাগারসহ নাগরিকদের বিনোদনের ব্যবস্থা করারও অঙ্গীকার করছেন অনেকে। চকবাজার থানাধীন এ ওয়ার্ড ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার হলেও প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ওয়ার্ডটি ঘিঞ্জি ঘনবসতিপূর্ণ ছোটেখাটো সরু গলিতে ঠাসা একটি বাণিজ্যিক এলাকা। এটি সংসদীয় ঢাকা-৭ আসন অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এর আয়তন ৫ বর্গ কিলোমিটার। ইসলামবাগ, পোস্তা, হাজী বাল্লু রোড, কামালবাগ, চুড়িহাট্টা ও চকবাজারের অংশবিশেষসহ ১৫টি পাড়া-মহল্লা রয়েছে।

এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম রাডো, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, চকবাজার থানা যুবলীগের সভাপতি শেখ মো. জাহিদ হোসেন। বিএনপি থেকে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম বাবুল, চকবাজার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাসেল, চকবাজার থানা বিএনপির সহ-সভাপতি টিপু সুলতান ও চকবাজার থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন নাজু খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জাবেদ হাসান তমো কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী।

চকবাজার থানাধীন ডিএসসিসির ২৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা বাণিজ্যিক ও আবাসিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এ এলাকার অলিগলিতে পলিথিন কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব কারখানা। পরিবেশ অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় এগুলো স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হলেও মালিকরা তা সরিয়ে নিচ্ছে না। ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তায় খোলা ড্রেনেজ রয়েছে। সেখানে মাছি-মশাসহ ক্ষতিকর পোকামাকড় জন্মাচ্ছে। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়ক পোস্তা, ইসলামবাগ, হাজী বাল্লু রোডসহ সর্বত্রই তীব্র যানজট লেগে থাকে। তাছাড়া এখানে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাহীন অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। সরু রাস্তায় রিকশা, ঠেলাগাড়ি ও মিনি ট্রাক দাঁড়িয়ে মালামাল লোড-আনলোড বেশি করায় সড়কে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা লেগেই থাকে। ওয়ার্ডে ব্যায়ামাগার ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র না থাকায় সমস্যায় রয়েছেন বাসিন্দারা। কয়েক বছর ধরে পাঠাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ এলাকার সর্বত্রই নোংরা পরিবেশ ও ধুলাবালি বেশি থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেশি। সন্ধ্যা নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশার আক্রমণ শুরু হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে, বৃষ্টি হলেই ইসলামবাগ ঢালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও গলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সেই পানি নামতেও দীর্ঘ সময় লাগে। একমাত্র কমিউনিটি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় দখল হয়ে গেছে। অবৈধ দখলদাররা সেখানে রিকশার গ্যারেজ তৈরি করে ভাড়া দিচ্ছে। প্রতি শুক্রবার ওই স্থানে জুয়ার আসর বসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কমিউনিটি সেন্টারে কোনো অনুষ্ঠান করতে না পারায় নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের বেলায় বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। এছাড়া ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন বাসিন্দারা। শীতে গ্যাস সরবরাহ সমস্যা রয়েছে। বর্তমান কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল যুগান্তরকে বলেন, আমি কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এছাড়া ইসলামবাগ কমিউনিটি সেন্টারে সিটি কর্পোরেশনের অনুমোদন নিয়ে সপ্তাহে একদিন মেলা বসানো হয়। আগামী দিনে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে আমি এলাকাটিকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব। চকবাজার থানা যুবলীগের সভাপতি শেখ মো. জাহিদ যুগান্তরকে বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এ ওয়ার্ডে স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে এলাকার অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা আমার মূল লক্ষ্য। তাছাড়া মাদক, সন্ত্রাস ছাড়াও এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। চকবাজার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাসেল যুগান্তরকে বলেন, এলাকার প্রধান সমস্যা মাদকের বিস্তার। আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে সবার আগে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কাজ করব। এলাকার অন্য সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি কমিউনিটি সেন্টার ভবন নির্মাণ করে তার মধ্যে ইন্ডোর গেম, ব্যায়ামাগার নির্মাণ করার ইচ্ছা রয়েছে। চকবাজার থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দিন নাজু খান যুগান্তরকে বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব। চকবাজার থানা বিএনপির সহ-সভাপতি টিপু সুলতান যুগান্তরকে বলেন, আমার দাদা হাজি বাল্লু এ এলাকায় ২৯ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে মানুষের সেবা করেছেন। আমি তার উত্তরসূরি। আমি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই। জাবেদ হাসান তমো যুগান্তরকে বলেন, আমার বাবা এ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন। আমি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করব। এছাড়াও এলাকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি যুবকদের বেকারত্ব দূর করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×