ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০

৩০ নম্বর ওয়ার্ড: ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়তে চান সম্ভাব্য প্রার্থীরা

  কাওসার মাহমুদ ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিএসসিসি
ডিএসসিসি। ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে ব্যবসাবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চান সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। মালামাল লোড আনলোড পয়েন্ট নির্ধারণ, রাস্তা প্রশস্তকরণ, নদীতে মালামাল উঠানো-নামানোর জন্য জেটি নির্মাণ করতে চান তারা।

ড্রেনেজ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, মশক সমস্যা সমাধান করার অঙ্গীকার করেছেন তারা। কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করছেন অনেকে।

চকবাজার থানাধীন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটি ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার হলেও ওয়ার্ডটিতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ওয়ার্ডটি ঘিঞ্জি ঘনবসতিপূর্ণ ছোটখাটো সরু গলিতে ঠাসা একটি বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা।

এটি সংসদীয় ঢাকা-৭ আসন অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এর আয়তন চার বর্গকিলোমিটার। ছোট কাটারা, বড় কাটারা, চক সার্কুলার রোড, ইমামগঞ্জ, নলগোলা, সোয়ারীঘাট, দেবীদাস ঘাট লেন ও কামালবাগ অংশ বিশেষসহ ১৩টি পাড়া মহল্লা রয়েছে।

এ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা হলেন বর্তমান কাউন্সিলর মো. হাসান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ দাবা, ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মামুন হোসেন বাপ্পী, আওয়ামী লীগ নেতা মো. মূসা, আশিকুর রহমান হৃদয়, আশিক আলম অপু, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হুমায়ূন কবীর, ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস।

এছাড়া মো. আবদুর রাজ্জাক ও শাহীন উল্যা নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

ওয়ার্ডের চকবাজার মোড় থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত চক সার্কুলার রোডটি ভাঙাচোরা। এ এলাকার অলিগলিতে পলিথিন কারখানাসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রীর কারখানা রয়েছে।

পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব কারখানা সরানোর জন্য পরিবেশ অধিদফতর ও সিটি কর্পোরেশন থেকে বিভিন্ন সময় স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও মালিকরা তা সরিয়ে নিচ্ছে না।

ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তায় খোলা ড্রেনেজ রয়েছে। সেখান থেকে মাছি মশাসহ ক্ষতিকর পোকামাকড় জন্মাচ্ছে। এখানকার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়ক বেড়িবাঁধ রাস্তা, চক সার্কুলার রোড, বড় কাটারাসহ সবত্রই তীব্র যানজট লেগেই থাকে।

তাছাড়া এখানে স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাহীন অপরিকল্পিত ও অপ্রশস্ত রাস্তা রয়েছে। সরু রাস্তায় রিকশা, ঠেলাগাড়ি ও মিনি ট্রাক দাঁড়িয়ে মালামাল লোড-আনলোড বেশি করার কারণে সড়কে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা লেগেই থাকে।

ওয়ার্ডে ব্যয়ামাগার ও মাতৃসদন না থাকায় সমস্যায় রয়েছেন বাসিন্দারা। ওয়ার্ডের বিভিন্ন পলিথিন কারখানা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমান কাউন্সিলর মো. হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমি কাউন্সিলরের দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি। এছাড়া আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছি।

বর্তমানে মাদকের উপদ্রব শূন্যের কোটায়। পলিথিন কারখানা থেকে কেউ চাঁদাবাজি করে কি না, তা আমার জানা নেই। আগামী দিনে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। মনোনয়ন পেলে আমি এলাকাটিকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলব।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ দাবা যুগান্তরকে বলেন, দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এ ওয়ার্ডকে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলব।

এছাড়া স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে এলাকার অন্যান্য সমস্যা সমাধান করা আমার মূল লক্ষ্য। মাদক, সন্ত্রাস নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সর্বোপরি নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধান করে একটি আধুনিক ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস যুগান্তরকে বলেন, আমি দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করব। এ ছাড়াও এলাকার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি যুবকদের বেকারত্ব দূর করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলব।

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবীর যুগান্তরকে বলেন, এলাকার প্রধান সমস্যা মাদকের বিস্তার। আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে সবার আগে মাদক নিয়ন্ত্রণ করে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় কাজ করব। এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করব।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, এলাকাবাসীর সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হলে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করব। এ এলাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা অনেক বেশি। এজন্য রাস্তাগুলোকে বড় করা ও একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করব।

এ ছাড়া এলাকার দেবী দাস ঘাট রোড, কামালবাগ, ছোট কাটারা হেকিম হাবিবুর রহমান রোডে ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করে পানির কষ্ট দূর করা এবং এলাকার যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করে মাদক থেকে দূরে নিয়ে আসা আমার মূল লক্ষ্য। এলাকার সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দূর করে ওয়ার্ডটিকে একটি আধুনিক বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহিন উল্যাহ যুগান্তরকে বলেন, আমি এলাকাবাসীর সমর্থন পেয়ে নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের সেবা করতে চাই। এলাকার সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক কাজ করে যাব।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×