৭১ নম্বর ওয়ার্ড: নগরায়ণ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার
jugantor
ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০
৭১ নম্বর ওয়ার্ড: নগরায়ণ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. খাইরুজ্জামান ও খোরশেদ আলম। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসৃষ্ট ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান নগরায়ন কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। সড়কে পুরোপুরি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অনেক প্রার্থী।

পাশাপাশি বহুতলবিশিষ্ট সর্বাধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক-শিশুপার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রসহ সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চান ওইসব প্রার্থীরা।

তাছাড়া অবহেলিত এ ওয়ার্ডের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য হবে বলেও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুগদা থানাধীন ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডটি শুন্যা মৌজার গ্রিন মডেল টাউন থেকে কাজিবাড়ি, কাজিবাড়ির পশ্চিম পাশ থেকে দানবের গলির পূর্বপাশ, দানবের গলির পশ্চিম থেকে হিরু মিয়া রোডের পূর্ব পাশ, হিরু মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ থেকে লাল মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ ও পশ্চিম পাশ থেকে মাণ্ডা খালপাড় পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।

ওয়ার্ডটি সংসদীয় ঢাকা-৯ আসন ও (নগর ভবন অঞ্চল-৭) আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার হলেও লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও মাণ্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খাইরুজ্জামান (রেডিও)।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন মাণ্ডা ইউনিয়ন ও ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম (মিষ্টি কুমড়া)। এ ওয়ার্ডে এ দু’জন প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএসসিসির নতুন এ ওয়ার্ডে ঘিঞ্জি পরিবেশে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়নসহ নানা সমস্যায় দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা।

চারদিকে প্রচুর ধুলাবালি ও নোংরা পরিবেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন মানুষ। এলাকার প্রধান সড়কটির দু’পাশেই অবৈধ দখলযজ্ঞ ও স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানপাট করা হয়েছে। ঘিঞ্জি পরিবেশে তীব্র গ্যাস সংকট নিয়ে বসবাস করছেন মানুষ।

অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খাল অবৈধ দখল-দূষণের কবলে রয়েছে। গৃহস্থালীর আবর্জনাসহ সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা খালেই ফেলেন অধিবাসীরা। তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখানকার বড় সমস্যা।

মো. খাইরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ২১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছি।

গত কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এলাকায় কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ নির্মাণ করেছি। এখনও কাজ চলমান রয়েছে। ৬০ শতাংশ অলিগলির রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

এছাড়া পানির সমস্যা সমাধানে পাম্প বসানোর জায়গা বরাদ্দ করা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়েছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু রেখেছি।

এলাকার বড় দুটি মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। আবারও নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব।

মো. খোরশেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। ১৯৮০ সালেও সৌদি আরবে থেকে বিএনপির রাজনীতি করেছি।

তাই সামিজিক সেবা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দল থেকে আমাকেই সমর্থন দেয়া হয়েছে।আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করব। সেবার মান শতভাগে নিয়ে আসব।

এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব ধরনের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন করব। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার মানোন্নয়ন করেছি, যা আরও ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে।

আগের মতো দরিদ্র মেধাবীদের বিনাবেতনে লেখাপড়ার সুযোগ দেব। এছাড়া এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ যানজট নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করব।

ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০

৭১ নম্বর ওয়ার্ড: নগরায়ণ কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার

 মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মো. খাইরুজ্জামান ও খোরশেদ আলম। ছবি: যুগান্তর
মো. খাইরুজ্জামান ও খোরশেদ আলম। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসৃষ্ট ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান নগরায়ন কার্যক্রমের পরিধি বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। সড়কে পুরোপুরি ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন অনেক প্রার্থী।

পাশাপাশি বহুতলবিশিষ্ট সর্বাধুনিক কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক-শিশুপার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রসহ সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে চান ওইসব প্রার্থীরা।

তাছাড়া অবহেলিত এ ওয়ার্ডের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য হবে বলেও তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুগদা থানাধীন ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডটি শুন্যা মৌজার গ্রিন মডেল টাউন থেকে কাজিবাড়ি, কাজিবাড়ির পশ্চিম পাশ থেকে দানবের গলির পূর্বপাশ, দানবের গলির পশ্চিম থেকে হিরু মিয়া রোডের পূর্ব পাশ, হিরু মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ থেকে লাল মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ ও পশ্চিম পাশ থেকে মাণ্ডা খালপাড় পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।

ওয়ার্ডটি সংসদীয় ঢাকা-৯ আসন ও (নগর ভবন অঞ্চল-৭) আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার হলেও লক্ষাধিক মানুষের বসবাস।

ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও মাণ্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. খাইরুজ্জামান (রেডিও)।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন মাণ্ডা ইউনিয়ন ও ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক মো. খোরশেদ আলম (মিষ্টি কুমড়া)। এ ওয়ার্ডে এ দু’জন প্রার্থী কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ডিএসসিসির নতুন এ ওয়ার্ডে ঘিঞ্জি পরিবেশে উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। সমন্বয়হীন উন্নয়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়নসহ নানা সমস্যায় দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা।

চারদিকে প্রচুর ধুলাবালি ও নোংরা পরিবেশে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন মানুষ। এলাকার প্রধান সড়কটির দু’পাশেই অবৈধ দখলযজ্ঞ ও স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানপাট করা হয়েছে। ঘিঞ্জি পরিবেশে তীব্র গ্যাস সংকট নিয়ে বসবাস করছেন মানুষ।

অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশন খাল অবৈধ দখল-দূষণের কবলে রয়েছে। গৃহস্থালীর আবর্জনাসহ সব ধরনের ময়লা-আবর্জনা খালেই ফেলেন অধিবাসীরা। তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখানকার বড় সমস্যা।

মো. খাইরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ২১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থেকে সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছি।

গত কাউন্সিলর নির্বাচনে জয়লাভ করার পর এলাকায় কয়েকটি অভ্যন্তরীণ সড়ক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ নির্মাণ করেছি। এখনও কাজ চলমান রয়েছে। ৬০ শতাংশ অলিগলির রাস্তায় সড়ক বাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

এছাড়া পানির সমস্যা সমাধানে পাম্প বসানোর জায়গা বরাদ্দ করা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে মশক নিধন কার্যক্রম চালিয়েছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু রেখেছি।

এলাকার বড় দুটি মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। আবারও নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব।

মো. খোরশেদ আলম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছি। ১৯৮০ সালেও সৌদি আরবে থেকে বিএনপির রাজনীতি করেছি।

তাই সামিজিক সেবা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে দল থেকে আমাকেই সমর্থন দেয়া হয়েছে।আমি নির্বাচিত হলে প্রথমেই ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করব। সেবার মান শতভাগে নিয়ে আসব।

এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সব ধরনের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ দমন করব। এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষার মানোন্নয়ন করেছি, যা আরও ব্যাপক পরিসরে সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে।

আগের মতো দরিদ্র মেধাবীদের বিনাবেতনে লেখাপড়ার সুযোগ দেব। এছাড়া এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ যানজট নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করব।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

২১ জানুয়ারি, ২০২০