বিআইপি’র নাগরিক ইশতেহার

কাউন্সিলর অফিস জনসেবার কেন্দ্রবিন্দু করতে হবে

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসকে জনসেবার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া সম্ভব বলে নগর পরিকল্পনাবিদদের পক্ষ থেকে নাগরিক ইশতেহার পেশ করা হয়েছে। তারা বলেছেন, বিশ্বের আধুনিক শহরে ওয়ার্ড কমপ্লেক্স গড়ে তুলে সেখানে সব ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের আইনে সে ক্ষমতা থাকলেও কোনো মেয়রই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে নগরপরিকল্পনাবিদদের পক্ষে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন : নগর পরিকল্পনাবিদদের পক্ষ থেকে নাগরিক ইশতেহার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব মতামত তুলে ধরেন। বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। উপস্থিত ছিলেন বিআইপি’র বোর্ড সদস্য পরিকল্পনাবিদ রেজাউর রহমান প্রমুখ।

বিআইপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার দর্শনে শহরের সব এলাকার উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। সিটি কর্পোরেশনের সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের অফিসগুলোকে পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমপ্লেক্স তৈরির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় আনতে হবে। সিটি কর্পোরেশন যেসব নাগরিক সুবিধাদি দিয়ে থাকে তা এই কমপ্লেক্স থেকে পরিচালিত হতে পারে। আরও বলা হয়, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে বিশেষ দু-একটা অঞ্চলের উন্নতি নয়, আমাদের সব অঞ্চলকে নিয়ে ভাবতে হবে। সে কারণে সিটি বাজেট তৈরি করার সময় যেন স্থানিকভাবে অর্থ বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়। খাতভিত্তিক বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে অঞ্চলভেদে যদি বাজেট বরাদ্দ করা হয়। তবে দুর্বল বা অপেক্ষাকৃত কম সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলো তাদের জন্য বেশি বাজেট বরাদ্দের জন্য দাবি করতে পারবে। তাদের নিয়ে আমরা একসঙ্গে আগাতে পারব এবং ঢাকা শহরের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিশু, প্রৌঢ় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিআইপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন আইনে মেয়র বা কাউন্সিলরদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সে দায়িত্ব পালন করেন না বা তারা এসব বিষয়ে অজ্ঞ থাকার কারণে উপলব্ধিও করতে পারেন না। তবে মেয়র আনিসুল হক তার মেয়াদকালীন কিছু কাজ করে এবং দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছেন। তারা আরও জানান, স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন আইনে ১৪টি স্থায়ী কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এসব স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য অত্যন্ত ব্যাপক। কিন্তু তারা সেটা করছেন না। অন্যদিকে বলছেন, তাদের ক্ষমতা নেই। কিন্তু আমরা যেটা দেখছি, আইনটি অত্যন্ত যুগোপযোগী। এ আইনের সংশোধন না করেই মেয়র বা কাউন্সিলররা শহরের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সব সেবা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অফিসভিত্তিক হতে হবে। সব কেন্দ্রবিন্দু ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস হলে, আমরা মানসম্মত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পেতে পারি। বিআইপি’র সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, সিটি কর্পোরেশন এবং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যাবলি এবং দায়িত্ব মূলত স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ দ্বারা নির্ধারিত। এ আইনের তৃতীয় তফসিলে বিশদভাবে কার্যাবলির বিবরণ দেয়া আছে। বিআইপি’র উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক পরিকল্পনাবিদ ড. গোলাম রহমান বলেন, নগরপিতাদের মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে। ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিসকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তবেই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব। বিআইপি’র সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, নগরে নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা শহরে বসবাসযোগ্যতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য নগর ব্যবস্থাপনা কাজে পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত