হেফাজতে মৃত্যু

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নির্দেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু মামলাটি ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ডিবি পুলিশ উত্তরের ডিসিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ৫ মার্চ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।

এর আগে ১৫ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আলমগীরের স্ত্রী আলো বেগম। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পরে আদেশ দেয়ার কথা জানান। বৃহস্পতিবার আদেশের বিষয়টি জানা গেছে। মামলার অপর আসামিরা হলেন- উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান, এএসআই নামজুল ও মো. সোহাগ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আলমগীর রিকশা-ভ্যানে করে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর এলাকায় গার্মেন্টসের গেঞ্জি, টি-শার্ট, প্যান্ট বিক্রি করতেন। ১৬ ডিসেম্বর সেখানে যাওয়া মাত্রই এসআই মিজানুর রহমান আলমগীরের পকেটে হাত ঢুকিয়ে বলে পকেটে ইয়াবা আছে। পকেটে কিছু না পেলেও একটি প্যাকেট দেখিয়ে বলে এগুলো পাওয়া গেছে। পরে আলমগীরকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আলমগীর তার স্ত্রীকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। ভ্যানচালক লালুর মাধ্যমে আলমগীরের স্ত্রী ওই টাকা পাঠিয়ে দেন। আলমগীর বাসায় না ফেরায় রাত ৩টার দিকে তার স্ত্রী তাকে ফোন করেন। থানা থেকে একজন বলেন- আলমগীরের কাছে ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে তার স্ত্রী থানায় যান। থানায় গিয়ে একশ’ টাকা দিয়ে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আলমগীর তার স্ত্রীকে জানান, মিথ্যা অভিযোগে তাকে ধরে আনা হয়েছে। আসামিরা তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা আদায়ের জন্য নির্যাতন করেছে। টাকা দিতে না পারায় ও মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা তাকে থানার চারতলায় নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। পরদিন আদালতে নেয়ার সময় কয়েকজন মিলে তাকে টেনে প্রিজনভ্যানে তুলে দেন। ওই সময়ই আলমগীর খুব অসুস্থ ছিলেন। পরে আদালত থেকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগ, ওসি তপন চন্দ্র সাহার সহযোগিতায়, যোগসাজশ ও নির্দেশে অপর তিন আসামি আলমগীরকে পিটিয়ে, নির্যাতন করে জখম করেছে। আর ওই নির্যাতনের কারণেই কারাগারে নেয়ার পর আলমগীর মারা গেছেন।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত