ডিএনসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০

সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৭, ৮ ও ৯: নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করবেন প্রার্থীরা

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ও নাজমুল হক ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মানব কল্যাণে কাজ করতে প্রথমেই নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা।

এছাড়াও ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মশক নিধন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ারও অঙ্গীকার করেছেন তারা।

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও গর্ভবতী দিনমজুরের ভাতা চালু করার অঙ্গীকার করছেন তারা। পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান ওইসব প্রার্থী।

ডিএনসিসি সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৭ : সাধারণ ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার।

ওয়ার্ডটি সংসদীয় ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১৭ আসন এবং অঞ্চল-৩ আঞ্চলিক কার্যালয় অন্তর্ভুক্ত এলাকা। সংরক্ষিত এ ওয়ার্ডটিতে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন।

ওয়ার্ডটির আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন- বনানী থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমেনা বেগম রানু (আনারস)।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা হলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা (গ্লাস)। অন্যান্যরা হলেন-মনোয়ারা মজলিস (চশমা), মরিয়ম বিনতে হোসাইন (বই) ও মোসা. সেলিনা আক্তার (স্টিল আলমারি)।

পেয়ারা মোস্তফা যুগান্তরকে বলেন, গত নির্বাচনের আগেরবার আমি এ এলাকার কাউন্সিলর থাকাকালীন অনেক উন্নয়ন করেছি। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেছি।

বিভিন্ন ধরনের ভাতা যথাযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আর এ এলাকার সমস্যাগুলোসহ প্রতিটি অলিগলি ও বাড়িঘর সম্পর্কে আমার সব জানা আছে।

অধিবাসীদের সঙ্গেও আমার আন্তরিকতা অনেক। আর এ এলাকার সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমি দীর্ঘ সময় ধরেই কাজ করছি।

আবারও নির্বাচিত হলে বিশেষ করে এলাকায় আধুনিক স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাসহ অপরিকল্পিত রাস্তাগুলোর উন্নয়ন করব। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসব। যতদিন বেঁচে আছি মানুষের সেবায় কাজ করে যাব।

ডিএনসিসি সংরক্ষিত ওয়ার্ড ৮ : সাধারণ ২২, ২৩ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ২৫ হাজার।

ওয়ার্ডটি সংসদীয় ঢাকা ১১ ও ঢাকা ১২ আসনভুক্ত এবং অঞ্চল-৩ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। সংরক্ষিত এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন।

ওয়ার্ডটির আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিতু আক্তার (আনারস)। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন মোসা. নিলুফা ইয়াসমীন নীলু (গ্লাস)। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- মনিরা চৌধুরী (চশমা), ইয়াসমিন সাইদ (বই) ও শামিমা অক্তার (স্টিল আলমারি)।

মিতু আক্তার যুগান্তরকে বলেন, আমি ২০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আজও বুকে লালন করছি।

সার্বিক উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার পথেই হেঁটে চলেছি। তাই আওয়ামী লীগ থেকে আমাকেই সমর্থন দেয়া হয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে এলাকায় সর্বপ্রথম মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

সিটি কর্পোরেশনের সব ধরণের সেবা নিশ্চিত করব। সাংগঠনিকভাবে এলাকার বাল্য বিবাহ, যৌতুক, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি।

বয়স্কভাতা, মাতৃকালীন ভাতা,বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা মহিলা গর্ভবতী দিনমজুরদের ভাতাসহ সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।

মানুষের কাছে সহজে সেবা পৌঁছে দিতে ৩টি ওয়ার্ডে সেবা কেন্দ্র গঠন করব। অসহায়দের নিয়ে সেলাই মেশিন, ব্লক, বাটিক ও পাটজাত পণ্যের ওপর কাজ করার প্রশিক্ষণ দেব। নারীরা যাতে কোনোভাবে সমাজে প্রতারিত না হয় তার জন্যও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন করব।

ডিএসসিসি সংরক্ষিত ৯ : সাধারণ ২৪, ২৫ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ভোটার সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। সংরক্ষিত এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন দুইজন।

এটি সংসদীয় ঢাকা-১১ আসন ও অঞ্চল-৩ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত এলাকা। ওয়ার্ডটির আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান কাউন্সিলর নাজমুন নাহার হেলেন (বই)। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হলেন, তেজগাঁও থানা বিএনপি মহিলা দলের সভাপতি রিনা বাসার (আনারস)।

নাজমুন নাহার হেলেন বলেন, আমার মানসিকতা অনুযায়ী জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় কাজ, যা আমার মধ্যে বিদ্যমান। আর আমার অবস্থান থেকে আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার বিষয় নিয়ে আমার ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। এছাড়াও রাস্তাঘাট, স্কুল, মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছি। ওয়ার্ডটিতে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। বিশেষ করে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিতসহ নারীদের সহায়তা ও উন্নয়নে সব সময় কাজ করে চলেছি।

রিনা বাসার যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে আমি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়ন ও মানুষের নানামুখী সেবায় কাজ করে আসছি। আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে নির্বাচিত হলে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শতভাগ সেবা প্রদানে কাজ করব।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত