ডিএসসিসি কাউন্সিলর নির্বাচন ২০২০

সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০ ও ১১: নারীদের হয়রানি বন্ধের অঙ্গীকার প্রার্থীদের

  কাওসার মাহমুদ ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শামছুন নাহার ভূঁইয়া, নাসরিন রশীদ পুতুল ও লুনা হুমায়ন পারভিন। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সংরক্ষিত ১০ ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে নারী হয়রানিমুক্ত ওয়ার্ড গড়তে চান।

পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন ও ঘরে-বাইরে নারীদের যৌন হয়রানি রোধ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করতে চান তারা।

এছাড়া বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনমুখী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রার্থীরা এসব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

প্রতিটি এলাকায় নারী প্রার্থীরা সমান তালে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিটি মহল্লার অলি-গলিতে ছেয়ে গেছে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে। হরেক রকম গানে গানে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন প্রার্থীরা।

সাধারণ ভোটাররাও পুরুষ কাউন্সিলর প্রার্থীদের পাশাপাশি নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়েও ভাবছেন। এসব ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর পাশাপাশি একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী আলোচনায় রয়েছেন।

সংরক্ষিত ওয়ার্ড নম্বর ১০ : ডিএসসিসির ১০ নম্বর ওয়ার্ডটি সাধারণ ২৭, ২৮ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। সংরক্ষিত এ ওয়ার্ডে ৪৯ হাজার ৭৬৫ জন ভোটার রয়েছেন।

চলতি নির্বাচনে এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোসাম্মৎ সেলিনা বেগম আনারস প্রতীক ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর বই প্রতীক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আসমা আক্তার রুনা গ্লাস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব প্রার্থীই নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর শামছুন নাহার ভূইয়া যুগান্তরকে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৪ বছর এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছি। মানুষের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে ছিলাম।

এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদকও পেয়েছি। মিটফোর্ড হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য হিসেবে এলাকার জনগণের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাপক কাজ করেছি।

পুনরায় নির্বাচিত হলে এলাকার স্ট্রিট লাইট, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে কাজ করব। এছাড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোসাম্মৎ সেলিনা বেগম যুগান্তরকে বলেন, এ ওয়ার্ডের মানুষ পরিবর্তন চায়। নির্বাচিত হলে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

ওয়ার্ডের নারীদের যৌন হয়রানি রোধ, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ ও নারী এবং শিশু নির্যাতন রোধে কাজ করব। এছাড়া বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব।

ডিএসসিসির সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১১ : সংরক্ষিত এ ওয়ার্ডটি সাধারণ ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৭৬ হাজার ৪৫১ জন।

এখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী লুনা হুমায়ুন পারভিন আনারস প্রতীক ও বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নাসরিন রশীদ পুতুল বই প্রতীকে নির্বাচনে লড়ছেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোসাম্মৎ নাজমা আক্তার গ্লাস প্রতীক ও রেজওয়ানা রাহিম মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বিএনপি সমর্থিত নাসরিন রশীদ পুতুল যুগান্তরকে বলেন, বিগত দিনে কাউন্সিলর থাকাকালীন রাত-দিন মানুষের সেবা করেছি। এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পানির সমস্যা, জলাবদ্ধতার সমস্যা ও ড্রেনেজ সমস্যা সমাধান ছাড়াও ওয়ার্ডবাসীর নানা সমস্যা সমাধান করেছি। আমি পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে আমার অসম্পন্ন সব কাজ সম্পন্ন করব।

এলাকার গরিব নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান থাকবে জিরো টলারেন্স।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী লুনা হুমায়ন পারভিন যুগান্তরকে বলেন, আমি প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি।

নির্বাচিত হলে বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে সব ধরনের ভাতা যাতে সঠিক সময়ে সবার কাছে পৌঁছে তা নিশ্চিত করব।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন

আরও
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত