তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী
jugantor
তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী

  মো. পলাশ প্রধান  

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তুরাগের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবক’টি রাস্তা ভাঙাচোরা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে হরিরামপুর ইউনিয়নের কাঠামো ভেঙে ডিএনসিসির নতুন তিনটি ওয়ার্ড করা হয়।

কিন্তু এসব ওয়ার্ডে এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সিটি নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন তার বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কে বড় বড় গর্ত হয়েছে। খোয়া-বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা গর্তগুলো পুরনো চেহারায় ফিরে গেছে। রাস্তার দু’পাশের ভর্তি হয়ে যাওয়া নিষ্কাশন নালার পানি ও গর্তের খোয়া বালু উঠে গোটা এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে।

রাস্তায় হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার কিছু অংশের বড় গর্ত খোয়া বালু দিয়ে ডিএনসিসি নির্বাচনের আগে সাময়িকভাবে ভরাট করেছিল। নির্বাচনের সময় যানবাহনের চাপে খোয়া উঠে গেছে। পড়ে আছে সেই পুরনো গর্ত।

ফুলবাড়িয়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জামান উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। সিটি নির্বাচনের সময় অনেক নেতাকর্মীসহ কাউন্সিলররা অনেক কথা দিয়ে যায়। প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচিত হলে প্রথমে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পানি ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করবেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর ওই কাউন্সিলরদের দেখাই পাওয়া যায় না। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তুরাগের অধিকাংশ রাস্তার দুই পাশে মাটি কেটে অস্থায়ী নালা তৈরি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, বৃষ্টির পানিতে অস্থায়ী নালাও ভর্তি হয়ে যায়। নালার কয়েকটি জায়গা দিয়ে উপচে রাস্তায় পানি পড়ছে। জমা হচ্ছে গর্তে। অস্থায়ী নালার জন্য রাস্তার পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী হোসেন।

তিনি বলেন, নালা থেকে পানি সরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। রাস্তার পাশে পানি জমে ছোটখাটো ডোবা হয়ে গেছে। আলোর মিছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা পারভিন মায়া বলেন, আমার এ স্কুলে একসময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল।

বর্তমানে রাস্তায় পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এ স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেকেই অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। নয়ানগর থেকে ধরঙ্গারটেক হয়ে রানাভোলা সড়কটির ৮ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি।

এতে ভোগান্তি মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। তুরাগের কামারপাড়া থেকে সুয়ারেজ লাইনের জন্য ১০ নং সেক্টরের খিদির খাল পর্যন্ত যে লাইনটি আনা হয়েছে সেই সড়কটিও বেহাল।

১২ ফিট সড়কের বুকচিরে আট ফিট ড্রেন করা হয় সুয়ারেজ লাইনের জন্য, কিন্তু মেরামতের সময় সেই ৮ ফিট করার কারণে বাকি ৪ ফিট সড়কও এখন স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী।

তুরাগের ফুলবাড়িয়া নলভোগ সড়কটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ডিএনসিসি ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহম্মদ বলেন, এ ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তা বেহাল।

এবার বিজয়ী হয়েছি, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে জনগণের পাশে থাকব। তবে, আমার এ ওয়ার্ডের ড্রেনেও অনেক সমস্যা আছে। রাস্তার পাশাপাশি ড্রেনেরও কাজ করব।

ডিএনসিসি ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. যুবরাজ বলেন, আমি পরপর দু’বার নির্বাচিত হয়েছি। প্রথমে যুব সমাজের জন্য কিছু করব। তাছাড়া আমার ওয়ার্ডে মাদক নিয়ে অনেক সমস্যা আছে।

মাদক নির্মূলের জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলে কাজ করব। রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধানে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।

তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী

 মো. পলাশ প্রধান 
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা: প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী
তুরাগের অধিকাংশ রাস্তা ভাঙাচোরা। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তুরাগের ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবক’টি রাস্তা ভাঙাচোরা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে হরিরামপুর ইউনিয়নের কাঠামো ভেঙে ডিএনসিসির নতুন তিনটি ওয়ার্ড করা হয়।

কিন্তু এসব ওয়ার্ডে এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সিটি নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন তার বাস্তবায়ন চান এলাকাবাসী।

সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কে বড় বড় গর্ত হয়েছে। খোয়া-বালু দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করা গর্তগুলো পুরনো চেহারায় ফিরে গেছে। রাস্তার দু’পাশের ভর্তি হয়ে যাওয়া নিষ্কাশন নালার পানি ও গর্তের খোয়া বালু উঠে গোটা এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে।

রাস্তায় হেঁটে চলাচলও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার কিছু অংশের বড় গর্ত খোয়া বালু দিয়ে ডিএনসিসি নির্বাচনের আগে সাময়িকভাবে ভরাট করেছিল। নির্বাচনের সময় যানবাহনের চাপে খোয়া উঠে গেছে। পড়ে আছে সেই পুরনো গর্ত।

ফুলবাড়িয়া বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. জামান উদ্দিন বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যায়। সিটি নির্বাচনের সময় অনেক নেতাকর্মীসহ কাউন্সিলররা অনেক কথা দিয়ে যায়। প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচিত হলে প্রথমে এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ, পানি ও গ্যাস সমস্যার সমাধান করবেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর ওই কাউন্সিলরদের দেখাই পাওয়া যায় না। পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় তুরাগের অধিকাংশ রাস্তার দুই পাশে মাটি কেটে অস্থায়ী নালা তৈরি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, বৃষ্টির পানিতে অস্থায়ী নালাও ভর্তি হয়ে যায়। নালার কয়েকটি জায়গা দিয়ে উপচে রাস্তায় পানি পড়ছে। জমা হচ্ছে গর্তে। অস্থায়ী নালার জন্য রাস্তার পাশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী হোসেন।

তিনি বলেন, নালা থেকে পানি সরে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। রাস্তার পাশে পানি জমে ছোটখাটো ডোবা হয়ে গেছে। আলোর মিছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শামিমা পারভিন মায়া বলেন, আমার এ স্কুলে একসময় অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল।

বর্তমানে রাস্তায় পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী এ স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেকেই অন্য স্কুলে চলে যাচ্ছে। নয়ানগর থেকে ধরঙ্গারটেক হয়ে রানাভোলা সড়কটির ৮ বছরেও কোনো উন্নয়ন হয়নি।

এতে ভোগান্তি মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে। তুরাগের কামারপাড়া থেকে সুয়ারেজ লাইনের জন্য ১০ নং সেক্টরের খিদির খাল পর্যন্ত যে লাইনটি আনা হয়েছে সেই সড়কটিও বেহাল।

১২ ফিট সড়কের বুকচিরে আট ফিট ড্রেন করা হয় সুয়ারেজ লাইনের জন্য, কিন্তু মেরামতের সময় সেই ৮ ফিট করার কারণে বাকি ৪ ফিট সড়কও এখন স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী।

তুরাগের ফুলবাড়িয়া নলভোগ সড়কটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ডিএনসিসি ৫২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহম্মদ বলেন, এ ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তা বেহাল।

এবার বিজয়ী হয়েছি, যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে জনগণের পাশে থাকব। তবে, আমার এ ওয়ার্ডের ড্রেনেও অনেক সমস্যা আছে। রাস্তার পাশাপাশি ড্রেনেরও কাজ করব।

ডিএনসিসি ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. যুবরাজ বলেন, আমি পরপর দু’বার নির্বাচিত হয়েছি। প্রথমে যুব সমাজের জন্য কিছু করব। তাছাড়া আমার ওয়ার্ডে মাদক নিয়ে অনেক সমস্যা আছে।

মাদক নির্মূলের জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলে কাজ করব। রাস্তাঘাটের সমস্যা সমাধানে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

২১ জানুয়ারি, ২০২০