অবৈধ স্থাপনায় ছেয়ে গেছে যাত্রাবাড়ী-চিটাগং রোড

ফেলে রাখা হয়েছে স’ মিলের গাছের গুঁড়ি * উল্টোপথে চলে কিছু যানবাহন

  খোরশেদ আলম শিকদার ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রাবাড়ী-চিটাগং সড়কের লিংক রোডে একটি স'মিলের গাছের গুঁড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। এতে চলাচলে সমস্যায় পড়েছেন পথচারীরা। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগং রোড পর্যন্ত সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

এসব স্থাপনার মধ্যে রয়েছে মোটর গ্যারেজ, দোকানপাট, অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার্গো ট্রাক স্ট্যান্ড। ‘স’ মিলের গাছের গুঁড়িও ফেলে রাখা হয়েছে। এতে সড়কের জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। চলাচলে সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা।

অপরদিকে লিংক রোড বন্ধ হওয়াতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে চলছে প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধীরগতির যানবাহন। এসব যানবাহনের অধিকাংশই চলছে উল্টোপথে। এতে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এদিকে, রায়েরবাগ থেকে মাতুয়াইল সেন্টু মিয়ার ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত লিংক রোড খানাখন্দ ও ময়লা আবর্জনায় ভরপুর। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু থেকে কোমরপানি ও কাদায় ভরে যায়।

ভাঙা ড্রেনেজ ময়লায় ভরপুর। বাসিন্দাদের ব্যবহৃত পানিতেই সড়ক ডুবে থাকে। মাতুয়াইল মা ও শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের উত্তর পাশে (মাতুয়াইল হাসপাতাল) লিংক রোড অবৈধ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে দোকানপাট ও কার্গো ট্রাকের অফিস এবং স্ট্যান্ড।

সাদ্দাম মার্কেট থেকে সাইনবোর্ড ও চিটাগাং রোড পর্যন্ত লিংক রোডের অস্তিত্বই বোঝার উপায় নেই। এখানে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা উজ্জ্বল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, লিংক রোড দখল হয়ে যাওয়ায় যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত মহাসড়ক দিয়ে চলছে বিভিন্ন ধীরগতির যানবাহন।

তাছাড়া এসব যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতির যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। লিংক রোড চালু থাকলে মহাসড়ক দিয়ে ধীরগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ হতো। যাত্রীরাও নিরাপদে চলাচল করতে পারতেন, কমত দুর্ঘটনা।

পরেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ অ্যান্ড বডি বিল্ডার্সের মালিক এসডি পরেশ যুগান্তরকে বলেন, লিংক রোডটি সবাই দখল করেছে, তাই আমিও করেছি। সড়ক সচল করা হলে মালামাল সরিয়ে ফেলব।

রায়েরবাগ এলাকার বাসিন্দা ইকরাম হোসেন শিমুল যুগান্তরকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত লিংক রোডটি যখন সচল ছিল তখন মাতুয়াইল মেডিকেলে লিংক রোড দিয়ে রিকশায় বা অন্য ছোট যানবাহনে নির্বিঘ্নে চলতে পারতাম।

সড়কটি দখল হয়ে যাওয়ায় শনিরআখড়া, রায়েরবাগসহ এসব এলাকার মানুষ মাতুয়াইল মেডিকেলে যেতে মহাসড়ক দিয়ে উল্টোপথে যাচ্ছেন। এতে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

তুষারধারা এলাকার বাসিন্দা সুমন চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, মা ও শিশুদের চিকিৎসার জন্য মাতুয়াইল মা ও শিশু স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট একটি ভালো হাসপাতাল।

এ কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। মহাসড়ক দিয়ে ছোট যানবাহন চলার কারণে অনেক দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন।

মাতুয়াইল মা ও শিশুস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হাসপাতালটি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকিৎসা নিতে রোগী আসেন। মহাসড়কসংলগ্ন লিংক রোড বন্ধ থাকায় রিকশা, অটোরিকশাসহ ধীরগতির যানবাহন মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। এসব গাড়ি উল্টোপথেও চলে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৬৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টু যুগান্তরকে বলেন, যাত্রাবাড়ী থেকে রায়েরবাগ পর্যন্ত লিংক রোডে যেভাবে সংস্কার করা হয়েছে, চিটাগাং রোড পর্যন্ত এর আদলে করা হলে মহাসড়কে দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।

ডেমরা ট্রাফিক জোনের ইন্সপেক্টর অমলকান্তি রায় যুগান্তরকে বলেন, লিংক রোড সচল করা হলে রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন মহাসড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এতে যাত্রীদের চলাচল নির্বিঘ্ন হবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমবে।

ডিএসসিসি অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীল যুগান্তরকে বলেন, লিংক রোড ও নালার উন্নয়ন কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ স্থাপনা থাকলে খোঁজ নিয়ে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত