ওয়াহিদুল হক স্মরণে নানা আয়োজন

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৭ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াহিদুল হক আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তার হাত ধরে এগিয়ে গেছে দেশের সংস্কৃতি। শুক্রবার এই মানুষটির ৮৫তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ছিল কয়েকটি আয়োজন। ছায়ানটের আয়োজনে শুক্রবার রাজধানীর রবীন্দ্র সরোবরে ছিল লোকগান নিয়ে ‘দেশঘরের আসর’। উৎসবের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর পূর্বমুখাতীর প্রবীণ শিল্পী মোজাফফর হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা। অনুষ্ঠান শুরু হয় শিল্পী মোজাফফর হোসেনের কীর্তন দিয়ে। তিনি গেয়ে শোনান ‘গোপি জন মনচোরা’। এরপরে তিনি গেয়ে শোনান জসীম উদদীনের লেখা গান ‘বাজান চল যাই চল মাঠে লাঙ্গল বাইতে’। পালাগানের গুরু-শিষ্য লড়াই করে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন আরিফ দেওয়ান ও কানন দেওয়ানের দল। একক গান পরিবেশন করেন শিল্পী মো. আফছার আলী। সবশেষে শ্রীমঙ্গলের রামকৃষ্ণ সরকার ও তার দল ধামাইল নৃত্য দিয়ে মুগ্ধ করেন দর্শকদের।

ওয়াহিদুল হক ও শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ করেছে কণ্ঠশীলন। ওয়াহিদুল হক ছিলেন কণ্ঠশীলনের প্রাণপুরুষ, কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন এ সংগঠনের সভাপতি। এ মাসেই তাদের দুজনের জন্মদিন। কণ্ঠশীলনের সভাপতি সন্জীদা খাতুনের সঞ্চালনায় শুক্রবার ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে চিত্রকলা নিয়ে কথা বললেন চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ। কবিতার সঙ্গে ছবির নৈকট্য ফুটে উঠল তাদের আলোচনায়। আয়োজনের শুরুতে ওয়াহিদুল হক ও কাইয়ুম চৌধুরীর রচনা থেকে পাঠ করা হয়। ছিল কণ্ঠশীলন প্রযোজনা ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে’। সবশেষে কণ্ঠশীলনের সদস্যরা জীবনানন্দ দাশের ছবিময় কবিতা আবৃত্তি করে শোনায়।

সকালে কণ্ঠশীলনের আরেকাংশের আয়োজনে শুরু হয়েছে দুই দিনের ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসব। ‘আপনা মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়’- প্রতিপাদ্যে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে শুক্রবার এ উৎসবের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক আশরাফুল আলম ও জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত। কণ্ঠশীলনের সভাপতি গোলাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কণ্ঠশীলনের অধ্যক্ষ মীর বরকত। এর আগে সুরতীর্থের শিল্পীরা জাতীয় সঙ্গীত ও উদ্বোধনী সঙ্গীত ‘আনন্দধ্বনি জাগাও প্রাণে’ পরিবেশন করেন। এর পর তামান্না রহমান ও তার দল মণিপুরী নৃত্য পরিবেশন করেন। উদ্বোধন শেষে গণগ্রন্থাগার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মোড় পর্যন্ত শোভাযাত্রা বের করা হয়।

দুপুরের অধিবেশনে একক আবৃত্তি করেন আহমাদুল হাসান হাসনু, নাদিমুল ইসলাম ও রুমান রুমা। বিকালে ছিল কল্পরেখার শিশুদের পরিবেশনা। বিকালের অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। এ পর্বে দলীয় আবৃত্তি করেন স্বরশ্র“তির শিল্পীরা। এ পর্বে পুঁথি পাঠ করেন এথেন্স শাওন। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন রূপা চক্রবর্তী, বেলায়েত হোসেন, রেজীনা ওয়ালী লীনা, অলোক বসু, ইকবাল খোরশেদ ফয়জুল আলম পাপ্পু, কাজী মাহতাব সুমন আহসান উল্লাহ তমাল, মনিরুল ইসলাম ও কায়সার রিজভী। সবশেষে ছিল লিটন বারুরীর নির্দেশনায় ছিল কণ্ঠশীলনের পরিবেশনা মৈমনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে ‘কঙ্ক ও লীলা’।

অনীককে স্মরণ : অনীক আজিজ স্বাক্ষর ভালোবাসার এক প্রিয় মুখ। অনীক হারিয়ে গেছে স্বেচ্ছায় গত ২১ জানুয়ারি। ও আর ফিরবে না। কিন্তু ওর সব স্মৃতি, সব ভালোবাসাকে রাখার প্রত্যয়ে শুক্রবার আয়োজন করা হয় তার সুহৃদদের ভালোবাসার অর্ঘ্য নিবেদন ‘অনীকের জন্য’। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে নানা আয়োজনে সাজানো ছিল এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছিল অনীকের জন্য ফুল আনতে। সেই ফুলেল ভালোবাসায় ভরে যাওয়া অনীকের প্রতিকৃতির পাশে দাঁড়িয়ে আলোচনা করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শাহাজাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সুশান্ত দাস, সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ ও শহীদ রিমুর মা জেলেনা চৌধুরী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অনীকের বাবা ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ও সাতক্ষীরার সভাপতি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোস্তাফা লুৎফুল্লাহ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter