ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে আগাম সতর্ক করলেন হাইকোর্ট
jugantor
ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে আগাম সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে আগাম সতর্ক করলেন হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনকে আগাম সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। কারণ, এই ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরে যদি কোনোভাবে করোনাভাইরাসের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, তাহলে কিন্তু মানুষের শেষ জায়গাটিও থাকবে না।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে মামলার শুনানিতে বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন সতর্কবার্তা দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আর দুই সিটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর মৌসুম আসার আগেই দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল যেন মশকনিধন সঠিকভাবে করেন। সেটা হয়নি।

পরে ডেঙ্গুর অস্থির অবস্থা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, আদালত দুই সিটির আইনজীবীকে সতর্ক করে উল্লেখ করেছেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সতর্ক হোন।

মশকনিধনে মনোযোগী হোন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করার দরকার, তাই করেন। জরুরি ভিত্তিতে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন আদালত।

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আরও বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণ মামলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পৃথকভাবে তাদের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আদালত সেটি পর্যালোচনা করে সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ পানি ছিটানোর পদ্ধতি এবং অগ্রগতির বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

এর আগে ২ ফেব্র“য়ারি পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদফতরে এক মাসের মধ্যে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বায়ুদূষণ রোধে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উচ্চতর কমিটির সুপারিশ নিয়ে একটি সমন্বিত কার্যক্রম তৈরি করে ১০ মার্চের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করে পরিবেশ অধিদফতর।

পাঁচ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বা পদায়নের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ অধিদফতরে চার ম্যাজিস্ট্রেটকে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। টায়ার পোড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন রেখেছেন। এরও আগে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে গত বছরের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট করা হয়।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। পরে রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আবেদন করা হয়। সে আবেদনের আদেশের ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেয়া হয়।

ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে আগাম সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে আগাম সতর্ক করলেন হাইকোর্ট
ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের চলমান প্রাদুর্ভাবের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনকে আগাম সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। কারণ, এই ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা শহরে যদি কোনোভাবে করোনাভাইরাসের সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, তাহলে কিন্তু মানুষের শেষ জায়গাটিও থাকবে না।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে মামলার শুনানিতে বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এমন সতর্কবার্তা দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। আর দুই সিটির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু ও সাঈদ আহমেদ রাজা।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর মৌসুম আসার আগেই দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল যেন মশকনিধন সঠিকভাবে করেন। সেটা হয়নি।

পরে ডেঙ্গুর অস্থির অবস্থা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি বলেন, আদালত দুই সিটির আইনজীবীকে সতর্ক করে উল্লেখ করেছেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সতর্ক হোন।

মশকনিধনে মনোযোগী হোন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা যা করার দরকার, তাই করেন। জরুরি ভিত্তিতে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন আদালত।

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আরও বলেন, ঢাকায় বায়ুদূষণ মামলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পৃথকভাবে তাদের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আদালত সেটি পর্যালোচনা করে সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ পানি ছিটানোর পদ্ধতি এবং অগ্রগতির বিষয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

এর আগে ২ ফেব্র“য়ারি পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনার জন্য পরিবেশ অধিদফতরে এক মাসের মধ্যে পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে আদালত বায়ুদূষণ রোধে বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উচ্চতর কমিটির সুপারিশ নিয়ে একটি সমন্বিত কার্যক্রম তৈরি করে ১০ মার্চের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী, বুধবার আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিল করে পরিবেশ অধিদফতর।

পাঁচ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ বা পদায়নের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ অধিদফতরে চার ম্যাজিস্ট্রেটকে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে। টায়ার পোড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন রেখেছেন। এরও আগে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে গত বছরের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট করা হয়।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ দিয়েছিলেন। পরে রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে আবেদন করা হয়। সে আবেদনের আদেশের ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেয়া হয়।