হাতিরঝিলের রঙিন আলোয় ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’
jugantor
মুজিববর্ষে ডিএনসিসির বিশেষ উদ্যোগ
হাতিরঝিলের রঙিন আলোয় ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’
মুজিববর্ষে অঞ্চলভিত্তিক বছরব্যাপী ‘সেবা মেলা’ করবে ডিএনসিসি

  মতিন আব্দুল্লাহ  

১২ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ২৬ মার্চ হাতিরঝিলে লেজার শো ও ফায়ার ওয়ার্কসের মধ্য দিয়ে রঙিন আলোর বিচ্ছুরণে ফুটিয়ে তোলা হবে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’কে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এছাড়া মুজিববর্ষে নাগরিক সেবা আরও সহজ করতে অঞ্চলভিত্তিক বছরব্যাপী ‘সেবা মেলা’র কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। স্বল্প পরিসরে এর বাস্তবায়নও শুরু করেছে ডিএনসিসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেবা মেলায় সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা, ড্রেনেজ ও ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, পরিবেশ দূষণ ও জনসচেতনতা এবং হোল্ডিং কর সেবা দেয়া হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য সেবামূলক স্টল, ব্লাড গ্র“পিং, ইপিআই ক্যাম্পেইন, ডিটি টিকা ক্যাম্পেইন, ‘সবার ঢাকা’ সিটিজেন অ্যাপ চালু, আলোকসজ্জা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উত্তরার রবীন্দ্র সরণিতে ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ’ স্থাপন, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, অডিও ভিজ্যুয়াল তৈরিসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কথা হয় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাইয়ের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসি মুজিববর্ষ উদযাপনে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

ইতিমধ্যে সেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজও শুরু করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনমূলক কাজের চেয়ে আমরা ডিএনসিসির সেবা সহজীকরণ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হবে।

আর কিছু ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চাহিদার আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’

এ উপলক্ষে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি। প্রতি ওয়ার্ড ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ, কমিউনিটি মিটিং কার্যক্রম পরিচালনা, নগরীতে হ্যান্ডট্রলি, আবর্জনাবাহী খোলা ট্রাক, পে-লোডার, ড্রাম্প ট্রাক ও সড়কে পানি ছিটানোর গাড়ি সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা হবে।

বৈদ্যুতিক সেবা নিশ্চিতকরণে নগরীর সব সড়কের বাতি সচল করা, সড়কে সেবা সম্পর্কিত অভিযোগ বক্স খোলা, প্রধান প্রধান সড়কে হাইড্রোলিক গাড়ির মাধ্যমে সড়ক বাতি প্রজ্বলনের ব্যবস্থা করা এবং দুর্যোকালীন বৈদ্যুতিক সেবা দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ।

হোল্ডিং কর সেবাকে সহজ করতে অঞ্চলে অঞ্চলে ‘সেবা মেলার’ আয়োজন করা। এসব মেলায় রাজস্ব সেবা, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, অগ্নি নিরাপত্তা ও সমাজ কল্যাণসংক্রান্ত সেবা দেয়া হবে।

এছাড়া ই-হোল্ডিং নম্বর প্রদান, অনলাইন পদ্ধতিতে কর প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং বকেয়া করের ওপর আরোপিত সারচার্জ মওকুফের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর বাইরে স্পেশাল ড্রেন ক্লিনিং, লিফলেট বিতরণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, স্ট্রিটবিন স্থাপন, বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক আলোকচিত্রের আয়োজন, বাউল সঙ্গীতানুষ্ঠান, মশক নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ, বেওয়ারিশ কুকুর ও জলাতঙ্ক রোগের ভয়াবহতা এবং কুকুর ও বিড়ালের ভ্যাকসিন প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ, গৃহপালিত কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদানে সচেতনতা তৈরি, পশু জবাইয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিয়তার বিধান করতে পরিকল্পিত কার্যক্রম চালাবে।

মুজিববর্ষ উদযাপনসংক্রান্ত ডিএনসিসির ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির গাইড লাইন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমরা কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছি।

সেসব পরিকল্পনার কিছু কিছু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ, উত্তরা রবীন্দ্র সরণি এবং হাতিরঝিলে মুজিববর্ষ কাউন্টডাউন বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত পোস্টারও লাগানো হবে ডিএনসিসি এলাকায়। এজন্য ১ লাখ ২০ হাজার পোস্টারের অর্ডার করা হয়েছে।’

মুজিববর্ষে ডিএনসিসির বিশেষ উদ্যোগ

হাতিরঝিলের রঙিন আলোয় ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’

মুজিববর্ষে অঞ্চলভিত্তিক বছরব্যাপী ‘সেবা মেলা’ করবে ডিএনসিসি
 মতিন আব্দুল্লাহ 
১২ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ২৬ মার্চ হাতিরঝিলে লেজার শো ও ফায়ার ওয়ার্কসের মধ্য দিয়ে রঙিন আলোর বিচ্ছুরণে ফুটিয়ে তোলা হবে ‘স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ’কে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এছাড়া মুজিববর্ষে নাগরিক সেবা আরও সহজ করতে অঞ্চলভিত্তিক বছরব্যাপী ‘সেবা মেলা’র কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে। স্বল্প পরিসরে এর বাস্তবায়নও শুরু করেছে ডিএনসিসি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেবা মেলায় সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা, ড্রেনেজ ও ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক নির্মাণ ও মেরামত, পরিবেশ দূষণ ও জনসচেতনতা এবং হোল্ডিং কর সেবা দেয়া হবে।

এছাড়া স্বাস্থ্য সেবামূলক স্টল, ব্লাড গ্র“পিং, ইপিআই ক্যাম্পেইন, ডিটি টিকা ক্যাম্পেইন, ‘সবার ঢাকা’ সিটিজেন অ্যাপ চালু, আলোকসজ্জা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উত্তরার রবীন্দ্র সরণিতে ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তমঞ্চ’ স্থাপন, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, অডিও ভিজ্যুয়াল তৈরিসহ নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কথা হয় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাইয়ের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির নির্দেশনার আলোকে ডিএনসিসি মুজিববর্ষ উদযাপনে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

ইতিমধ্যে সেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজও শুরু করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রদর্শনমূলক কাজের চেয়ে আমরা ডিএনসিসির সেবা সহজীকরণ কার্যক্রমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কিছু কর্মসূচি কেন্দ্রীয়ভাবে পালন করা হবে।

আর কিছু ডিএনসিসির আঞ্চলিক কার্যালয়ের চাহিদার আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে। জাতির পিতার শততম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে জনগণের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’

এ উপলক্ষে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি। প্রতি ওয়ার্ড ও আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে। যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ, কমিউনিটি মিটিং কার্যক্রম পরিচালনা, নগরীতে হ্যান্ডট্রলি, আবর্জনাবাহী খোলা ট্রাক, পে-লোডার, ড্রাম্প ট্রাক ও সড়কে পানি ছিটানোর গাড়ি সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা হবে।

বৈদ্যুতিক সেবা নিশ্চিতকরণে নগরীর সব সড়কের বাতি সচল করা, সড়কে সেবা সম্পর্কিত অভিযোগ বক্স খোলা, প্রধান প্রধান সড়কে হাইড্রোলিক গাড়ির মাধ্যমে সড়ক বাতি প্রজ্বলনের ব্যবস্থা করা এবং দুর্যোকালীন বৈদ্যুতিক সেবা দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ।

হোল্ডিং কর সেবাকে সহজ করতে অঞ্চলে অঞ্চলে ‘সেবা মেলার’ আয়োজন করা। এসব মেলায় রাজস্ব সেবা, ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম নিবন্ধন, অগ্নি নিরাপত্তা ও সমাজ কল্যাণসংক্রান্ত সেবা দেয়া হবে।

এছাড়া ই-হোল্ডিং নম্বর প্রদান, অনলাইন পদ্ধতিতে কর প্রদান নিশ্চিতকরণ এবং বকেয়া করের ওপর আরোপিত সারচার্জ মওকুফের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এর বাইরে স্পেশাল ড্রেন ক্লিনিং, লিফলেট বিতরণ, বর্জ্য পৃথকীকরণ, স্ট্রিটবিন স্থাপন, বঙ্গবন্ধুর জীবনভিত্তিক আলোকচিত্রের আয়োজন, বাউল সঙ্গীতানুষ্ঠান, মশক নিয়ন্ত্রণে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ, বেওয়ারিশ কুকুর ও জলাতঙ্ক রোগের ভয়াবহতা এবং কুকুর ও বিড়ালের ভ্যাকসিন প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ, গৃহপালিত কুকুর ও বিড়ালকে নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদানে সচেতনতা তৈরি, পশু জবাইয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস প্রাপ্তি নিশ্চিয়তার বিধান করতে পরিকল্পিত কার্যক্রম চালাবে।

মুজিববর্ষ উদযাপনসংক্রান্ত ডিএনসিসির ফোকাল পয়েন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সংস্থার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম যুগান্তরকে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উদযাপনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির গাইড লাইন ও স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে আমরা কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছি।

সেসব পরিকল্পনার কিছু কিছু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মানিক মিয়া এভিনিউ, উত্তরা রবীন্দ্র সরণি এবং হাতিরঝিলে মুজিববর্ষ কাউন্টডাউন বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রকাশিত পোস্টারও লাগানো হবে ডিএনসিসি এলাকায়। এজন্য ১ লাখ ২০ হাজার পোস্টারের অর্ডার করা হয়েছে।’

 

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

২১ জানুয়ারি, ২০২০