যাত্রাবাড়ী পার্ক: তিন বছরে উন্নয়ন কাজ ৫০ শতাংশ

ঠিকাদারের স্বেচ্ছাচারিতা

  খোরশেদ আলম শিকদার ১৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যাত্রাবাড়ী পার্ক। ছবি: যুগান্তর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) যাত্রাবাড়ী পার্কের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খেয়াল-খুশিতে চলছে। তিন বছরে পার্কের উন্নয়ন কাজ মাত্র ৫০ শতাংশ হয়েছে।

বাকি কাজ শেষ করতে আরও কত বছর লাগবে তা সঠিকভাবে বলতে পারছে না ঠিকাদারের লোকজন। এমনকি ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর প্রকৌশলী বিভাগও সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।

এদিকে উন্নয়ন কাজের নামে দীর্ঘদিন পার্ক বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ এলাকার বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এমনিতেই এলাকায় খেলার মাঠ ও বিনোদনের জায়গা নেই। তার ওপর এটি খুলে দেয়ার উদ্যোগ নেই।

নগরীর বাসিন্দাদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পের আওতায় ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পার্কে জনতার মুখোমুখি সভায় ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের যাত্রাবাড়ী মোড়ে একটি আধুনিক পার্ক এবং ওয়ার্ডের অলিগলিতে এলইডি লাইট, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

ছয় মাসের মধ্যে বাসিন্দারা পার্ক যাতে ব্যবহার করতে পারেন তারও ঘোষণা দেন। মেয়র যাত্রাবাড়ী মোড়ে পার্ক নির্মাণের জন্য চার কোটি ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। আর এ পার্ক নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছে এনটিএসআইএসসি (জেভি) লিমিটেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

পার্কে থাকবে ৬০ থেকে ৭০ ফুট উঁচু একটি টাওয়ার। টাওয়ারে থাকবে আধুনিক একটি ঘড়ি ও বিভিন্ন জেলার নাম। বাচ্চাদের খেলার জন্য বিভিন্ন রাইডস, ওয়াকওয়ে, বাউন্ডারি ওয়াল, অত্যাধুনিক পুলিশ বক্স, লাইব্রেরি, ফুটপাত, বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ঘেরা থাকবে পুরো পার্ক, হবে সবুজ আচ্ছন্ন, ফুলের বাগান, সৌন্দর্যবর্ধনে থাকবে একটি পানির ফোয়ারা, পাবলিক টয়লেট, বসার সিটসহ প্রায় একশ’ আইটেম।

ডিএসসিসি ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল কালাম (অনু) ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর মেয়র সাঈদ খোকনের পক্ষে পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

২০১৮ সালের আগস্ট মাসে পার্কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ২০১৯ এর জুন মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। এভাবে সময় বৃদ্ধি করে প্রায় তিন বছর পার করা হয়।

যাত্রাবাড়ী মোড়ের ফুটপাত ব্যবসায়ীরা পার্কটিকে ভ্যানগাড়ির গ্যারেজে পরিণত করেছে। মাদক সেবনকারী ও ভবঘুরদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বর্তমানে পার্কটি ব্যবহার হচ্ছে।

পার্কের নির্মাণ কাজের ৩য় দফার সময়সীমা ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ও শেষের পথে। কিন্তু এখন পর্যন্ত লাইব্রেরির দ্বিতল ভবন, বাউন্ডারি ওয়ালের ফাউন্ডেশন, পানির লাইনের কাজ হয়েছে। যা পার্কের মোট কাজের ৫০ শতাংশ মাত্র।

ডিএসসিসি ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবুল কালাম (অনু) যুগান্তরকে বলেন, যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় পার্ক স্থাপন আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

সে মোতাবেক পার্ক করার জন্য মেয়র সাঈদ খোকনের কাছে আবেদন করি। মেয়র আবেদনে সাড়া দিয়ে টাকাও বরাদ্দ দেন।

তিনি বলেন, পার্কের কি কাজ হচ্ছে, কেমন কাজ হচ্ছে, কিছুই জানার বা তদারকির দায়িত্ব কাউন্সিলরদের হাতে নেই। পার্কের কাজ যাতে দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। ওয়ার্ডবাসী যাতে দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারে সেজন্য মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেভি লিমিটেড ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার অসিতবালা যুগান্তরকে বলেন, পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি কারণে একটি স্টিল ট্রাকচারের টাওয়ার হবে। যা জাপান থেকে আনা হয়েছে।

টাওয়ারে দেশের বিভিন্ন জেলার নাম ও ঘড়ি বসানো হবে। এসব কাজের জন্য জাপান থেকে সামগ্রী আনা হয়েছে। এ কাজ সম্পর্কে আমাদের কোম্পানির ধারণা নেই।

আলাদাভাবে অন্য কোম্পানির লোকেরা এ কাজ করবে। আমাদের মূল ট্রাকচারের কাজ প্রায় শেষ। এখন ফিনিশিং করব। তিনি আরও বলেন, বাউন্ডারি নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য চীন থেকে আরও কিছু লাইট আনা হবে। করোনাভাইরাসের কারণে তা বিলম্বিত হতে পারে।

ডিএসসিসি অঞ্চল-৫ এর সহকারী প্রকৌশলী সুদেব কুমার পার্কের উন্নয়ন কাজ দেখভাল করেন। পার্কের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত