ডিএসসিসি ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড

রাস্তা না থাকলেও চলছে ব্রিজ নির্মাণের কাজ

  মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া ২৫ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাসিরাবাদে ধীরগতিতে তিনটি খালের ওপর ৩টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে। একটি ব্রিজের ৫৫ শতাংশ, আরেকটির ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্য ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এসব ব্রিজ ব্যবহারের জন্য একটি সংযোগ সড়ক করার কথা রয়েছে। কিন্তু সে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। সমন্বয়হীন কাজের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বেড়েই চলছে। আর বর্ষা মৌসুম চলে আসায় ব্রিজগুলোর নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ করা নিয়ে এলাকাবাসীর সংশয় রয়েছে।

রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডটি নাসিরাবাদ এলাকা। এটি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত একটি ওয়ার্ড।

দাসেরকান্দি গজারিয়া খালের ওপর একটি বড় ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ব্রিজটির ৫৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে যা চলমান রয়েছে। এটি ১১৪ মিটার লম্বা ও সাড়ে ৯ মিটার প্রশস্ত। বর্তমানে এ ব্রিজের স্প্যানের কাজ চলমান রয়েছে। বাকি রয়েছে গার্ডার, স্লাব ও রেলিংয়ের কাজ। এ ব্রিজটি দাসেরকান্দি থেকে নাসিরাবাদের ফকিরখালী হয়ে পূর্বাচলের ৩০০ ফুট রাস্তাসহ ডুমনি ও বেরাইদ এলাকার রাস্তার সঙ্গে যুক্ত হবে।

দাসেরকান্দি ব্রিজটি ব্যবহার করতে হলে আগে ত্রিমহোনী গুদারাঘাট সংলগ্ন যেকোন একটি জায়গায় নড়াই নদের ওপর আরও একটি বড় ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। কিন্তু সে ব্রিজ নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। তাছাড়া গজারিয়া খাল থেকে ত্রিমহোনী গুদারাঘাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজও শুরু হয়নি। এ সড়কে শুধু বালু ফেলে রাখা হয়েছে। আর ব্রিজের অপর পাশেও কোনো রাস্তার কাজ শুরু হয়নি। ব্রিজের কাজ চলমান থাকলেও আগে রাস্তার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

নাসিরাবাদের লায়নহাটি গ্রামে থমকে আছে একটি ব্রিজের নির্মাণকাজ। ত্রিমহোনী খালের ওপর ব্রিজটির ১০৭টি পিলারের কাজ হয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ শেষ করার পর কাজ থেমে রয়েছে।

এদিকে নাসিরাবাদের জোড়ভিটা এলাকায় অভ্যন্তরীণ খালের ওপর আরও একটি ব্রিজের কাজ শুরু হয়েছে। এখানে খালের ওপর বালি ভরাট করে বড় বড় পাইপ বসানো হয়েছে। রড ও অন্যান্য মালামাল ফেলে রাখা হয়েছে। এ ব্রিজটির অপর পাশেও কোনো প্রকার রাস্তা নেই। জমির ওপর অপ্রশস্ত মাটির রাস্তা দিয়ে এখনো মানুষ যাতায়াত করে। এ ব্রিজসংলগ্ন রাস্তার কাজ আগে করা জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় ব্রিজটি ব্যবহার করা যাবে না। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নাসিরাবাদে ৩টি ব্রিজের কাজই হচ্ছে সমন্বয়হীনভাবে। এ ব্রিজগুলো ব্যবহার করতে হলে প্রথমেই ব্রিজসংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলো করতে হবে। তা না হলে অন্তত ব্রিজের কাজের পাশাপাশি সমানতালে রাস্তার কাজ এগিয়ে নিতে হবে। নাসিরাবাদ বিচ্ছিন্ন এলাকা বলে এমনিতেই ওয়ার্ডটি উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। দাসেরকান্দি এলাকায় ব্রিজের পাশে রাস্তার জন্য বালু ফেলে রাখা হয়েছে। একটু বাতাস হলে প্রতিনিয়ত ধুলাবালি ওড়ে। এতে বাসিন্দারা চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। নাসিরাবাদে বিশেষ করে বালুরপাড় এলাকায় একটি ব্রিজ সবচেয়ে বেশি জরুরি থাকলেও সেটিই করা হয়নি। কারণ বালুরপাড়ে দু’পাশেই রাস্তা রয়েছে। অথচ দাসেরকান্দি ও লায়নহাটি এলাকায় রাস্তা না থাকলেও ব্রিজের কাজ আগে করা হচ্ছে।

খিলগাঁও অঞ্চল-২ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, ওই ৩টি ব্রিজের পাশাপাশি কানেক্টিভিটি রাস্তা পর্যায়ক্রমে করা হবে।

দাসেরকান্দি এলাকার বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার যুগান্তরকে বলেন, রাস্তা না থাকায় বাচ্চাদের স্কুলে হেঁটে নিয়ে যেতে হয়। নড়াই নদ পাড় হতে হয় বাঁশের সাঁকো দিয়ে। রাস্তার কাজ দ্রুত হবে বলে জানি, কিন্তু এখনও বালু ফেলে রাখা হয়েছে। গজারিয়া খালের ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও রাস্তা ও নড়াই নদে ব্রিজ না থাকায় এটি কোনো কাজে আসবে না।

ডিএসসিসি ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. আকবর হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব রাস্তা সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ অনুযায়ী করা হচ্ছে। তাই ব্রিজগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে হয়ে যাবে।

ডিএসসিসি খিলগাঁও অঞ্চল-২ আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশীদ মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে বলেন, নাসিরাবাদ ডিএসসিসির নতুন ওয়ার্ড এলাকা হিসেবে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ত্রিমহোনী গুদারাঘাট এলাকায় ব্রিজ করার কথা ছিল ওয়াসার, কিন্তু তারা করবে না বলে এটি সিটি কর্পোরেশনই করছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। আর লায়নহাটি ও জোড়ভিটা এলাকায় ব্রিজের সঙ্গে কানেক্টিভ রাস্তাগুলো যথাসময়ে করা হবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত